শেখ মুজিব রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার ভয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: ডা. আউয়াল

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতার ঘোষণার খসড়া নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আসামি হওয়ার আশঙ্কায় শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে দোয়া শেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণাকালে এসব কথা বলেন আউয়াল। এ সময় জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ২০৩০ ভিশন এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করা হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করে ডা. আউয়াল বলেন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনাও ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আউয়াল বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। মশিউর রহমান জাদু মিয়া একবার মাওলানা সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জিয়াউর রহমান সম্পর্কে ‘ভালো, সৎ ও দেশপ্রেমিক’—এই তিনটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। জিয়া পরিবার সেই আদর্শ অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভালো, সততা ও দেশপ্রেমের প্রতীক।

শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য এখনো বাংলাদেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বাংলাদেশের মানুষ তাঁর বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশ গড়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে আউয়াল বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সেনা ও জনতার স্লোগান ছিল, ‘সেনা-জনতা এক, ষড়যন্ত্র রুখে দাও’। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনা-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও সমগ্র বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের সমালোচনা করে আউয়াল বলেন, তাঁর সময়ে গুম-খুনের রাজনীতির সূচনা হয়েছিল। এর বিপরীতে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। জামায়াতে ইসলামী ও শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফিরে আসার পেছনেও জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবের সময়কার কর্মকাণ্ড ছিল ট্রেলার, আর শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। তাঁদের দোসরদের আর বাংলাদেশের মাটিতে রাজনৈতিক ঠিকানা হবে না বলেও মন্তব্য করেন আউয়াল।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, এখনো অনেকের বাংলাদেশের স্বাধীনতা পছন্দ নয়। দেশ এগিয়ে গেলে তাদের মন খারাপ হয়। বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতাদের পরিবারের নারীরাও তাঁদের কাছে নিরাপদ নন।

জামায়াতের একটি কমিটিতে কোনো নারীর নাম না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে আউয়াল বলেন, নারী প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল সামনে এগোতে পারবে না। অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে বাদ দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে বাংলাদেশের মানুষ তা হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত