হালাল বাজার ধরতে আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ এএম

বিশ্ববাজারে হালাল পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির বাজারের আকার ছিল ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩৪ সালের মধ্যে এ বাজার ১২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে হালাল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৪৩ মিলিয়ন ডলার। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে কাঁচামালের উৎস শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খাত সংশ্লিষ্টারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সম্মেলন কক্ষে ‘ইনভেস্টস মিটআপ ৩.০’ অনুষ্ঠানে ‘হালাল শিল্পে বিনিয়োগ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বিডিফেয়ার্স ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা অ্যাচিভার্স। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মো. মমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে পৃথক হালাল ইনস্টিটিউট গঠনের বিষয়ে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা বিএসটিআই; কোনো প্রতিষ্ঠানই এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রত্যাশিত আস্থা তৈরি করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা ও সমন্বয়ের অভাবও রয়েছে। সবাইকে একটি ছাতার নিচে এনে একটি হালাল ইনস্টিটিউট বা পৃথক হালাল বিভাগ গঠন করা হলে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন। সমন্বিতভাবে নীতিমালা ও গাইডলাইন তৈরি করা গেলে হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের অযথা বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

কাঁচামালের উৎস শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে আনোয়ার পারভেজ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন শুধু পণ্যের মান নয়, কাঁচামালের উৎস এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি সুতা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, তুলার উৎপত্তি কী, সেটির সার্টিফিকেশন আছে কি না, এসব তথ্যও ক্রেতারা জানতে চান।

তিনি বলেন, কাঁচামালের উৎস থেকে শুরু করে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপের তথ্য সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। শুধু হালাল পণ্যের ক্ষেত্রেই নয়, তৈরি পোশাকশিল্পেও এ ধরনের ট্রেসিবিলিটি এখন বড় শর্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের সার্টিফিকেশন ও ট্রেসিবিলিটি ছাড়া তৈরি পোশাক রপ্তানি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, চামড়াজাত পণ্য হালাল সার্টিফাই করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। জবাবে সাবেক বিএসটিআই মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা বিএসটিআই, যে প্রতিষ্ঠান থেকেই সার্টিফিকেশন দেওয়া হোক না কেন, নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করতেই হবে। নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য কীভাবে সার্টিফিকেশন দিতে হবে, তা প্রটোকলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক বিষয়গুলো যাচাইয়ের জন্য বিএসটিআইয়ের পাঁচ থেকে ছয়টি টিম রয়েছে। এসব টিমের সদস্যরা কারখানা পরিদর্শন করেন এবং উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথম পর্যায়ে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্যায়ে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, দিন দিন বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ডিনার স্ট্যান্ডার্ডের গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট ২০২৪ অনুযায়ী, ওই বছর বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির বাজারের আকার ছিল ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ৬ দশমিক ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে এ বাজারের আকার বেড়ে ১২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ বাজারে মুসলিম ভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১৯০ কোটি।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, হালাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অংশ খাদ্যপণ্য। এ খাতের বাজারের আকার ৩ দশমিক ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ফ্যাশন খাতের বাজার ১ দশমিক ৩১ ট্রিলিয়ন, পর্যটন ১ দশমিক ৩০ ট্রিলিয়ন, ওষুধ ১ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন এবং প্রসাধনী খাতের বাজার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত