যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার এক দিনেই মার্কিন পুঁজিবাজার থেকে কয়েক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজার মূলধন উধাও হয়ে যায়, যার প্রভাবে শুক্রবার এশিয়া ও ইউরোপের বাজারেও ধস নামে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিহাসের অন্যতম বড় দরপতনের জন্য ভোটারদেরই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোত্র্যুাটদের বড় জয়ের কারণেই শেয়ারবাজারে এ ধস নেমেছে।
বাজার পরিস্থিতির বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাক সূচক ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর একদিনে সর্বোচ্চ পতন। এর ঢেউ লেগেছে এশিয়ার বাজারেও। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ও জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ শতাংশ পতন নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। বিশেষ করে এসকে হাইনিক্স ও টোকিও ইলেকট্রনের মতো চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধস নেমেছে। তবে প্রযুক্তি শেয়ার কম থাকায় ইউরোপের এফটিএসই ও ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় এআই প্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয়ের ফলে গুগল, মেটা ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলোর গতি শ্লথ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এআই খাতে বিনিয়োগ থেকে দ্রুত মুনাফা আসা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।