প্রকৃতির রূপ, রঙ ও সৌন্দর্য ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন চিত্রশিল্পী মো. রেজাউল হক। ক্যানভাসে প্রকৃতির বৈচিত্র্য ও নান্দনিকতা তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে। তার তৃতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী ‘প্রকৃতি ও আমার ক্যানভাস’ শুরু হয়েছে রাজধানীর লালমাটিয়ায় গ্যালারি মাফায়।
গতকাল শনিবার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আবুল বারক আলভী ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান ডিজাইনার শিল্পী আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক।
অধ্যাপক রফিকুন নবী বলেন, ‘রেজা নওগাঁয় থেকে নিয়মিত ছবি আঁকছে। মফস্বলে থেকেও সে চিত্রচর্চা অব্যাহত রেখেছে, যা প্রশংসনীয়। সাধারণত মফস্বলের শিল্পীদের মধ্যে ল্যান্ডস্কেপ ও বাস্তবধর্মী প্রতিকৃতি আঁকার প্রবণতা বেশি। কিন্তু রেজার কাজে আধুনিক মনস্কতা ও নিজস্ব শৈলীর প্রকাশ রয়েছে। তার অসংখ্য কাজের মধ্যে শিল্পচর্চার প্রতি আন্তরিকতা ও নিমগ্নতা দেখা যায়।’
তিনি জানান, ‘ছাত্রজীবনে রেজার দুবছর পড়ানোর সুযোগ হয়েছিল। তখন থেকেই তার কথাবার্তায় বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার প্রকাশ ছিল, যা এখনো রয়েছে। সে ভালো ছাত্রদের একজন ছিল।’
চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক বলেন, ‘রেজা আমার রুমমেট ছিল। সে খুব রোমান্টিক ও কল্পনাপ্রবণ মানুষ। শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার জন্য কল্পনাশক্তি জরুরি, যা রেজার মধ্যে সব সময়ই ছিল। নওগাঁর মতো মফস্বল শহরে থেকেও সে নিয়মিত শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। রেজার ইচ্ছা, তার ছবি যেন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়। এ কারণে ছবির দামও তুলনামূলক কম রাখতে চান, যাতে আগ্রহী সবাই ছবি সংগ্রহ করতে পারেন। আমরা চাই, এই গ্যালারি শিল্পচর্চা, আড্ডা ও নতুন শিল্পীদের প্রদর্শনীর জায়গা হয়ে উঠুক। পাশাপাশি শিশুরাও যেন ছোটবেলা থেকে শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।’
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে চিত্রশিল্পী রেজাউল হক জানান, ‘প্রকৃতি থেকেই আমি ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা পাই। প্রকৃতিকে দেখি, উপলব্ধি করি এবং সেই অনুভূতি রঙ ও ফর্মের মাধ্যমে ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার কাজের মধ্যে অ্যাবস্ট্রাক্ট ও সেমি-অ্যাবস্ট্রাক্ট ফর্মের ব্যবহার রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি ছবি কতটা সার্থক বা দর্শকের কাছে কতটা ভালো লাগল, তা দর্শকরাই বিচার করেন। তবে নিজের কোনো কাজকেই আমি চূড়ান্তভাবে সফল মনে করি না। আমার মনে হয়, আরও কাজ করতে হবে, আরও এগিয়ে যেতে হবে। নতুন কিছু সৃষ্টির আনন্দই আমার শিল্পচর্চার মূল প্রেরণা।’
প্রদর্শনীটি লালমাটিয়ার সি ব্লকের ৪ ও ৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত গ্যালারি মাফায় চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।