শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি রিহ্যাবের

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১১ এএম

জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার বিচারাধীন মামলায় অনেকে সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পসংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তের নামে প্রায় তিন মাস ধরে রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অভিযোগ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক।

ড. আলী আফজাল বলেন, জমির নির্দিষ্ট অংশ বা শেয়ার বিক্রি করে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের অবস্থান ও হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট থাকে না। ফলে অর্থ বিনিয়োগ করেও ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট, বৈধ মালিকানা কিংবা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পান না।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের ভবনে অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে অসংগতি এবং নির্মাণশর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। ১০০টি ভবন পরিদর্শন করলে প্রায় প্রতিটিতেই কোনো না কোনো ব্যত্যয়ের অভিযোগ পাওয়া যেতে পারে। ভবনগুলোর অনুমোদিত ব্যবহার, নির্মাণশর্ত ও কারিগরি নিরাপত্তা যাচাইয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষা প্রয়োজন।

রিহ্যাবের দাবি, জমির শেয়ার কিনলেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, অনুমোদন ও নকশা ছাড়াই অর্থ সংগ্রহ, অস্বচ্ছ আর্থিক হিসাব, দক্ষ প্রকৌশলী ও স্থপতির অভাব এবং নির্মাণমানের তদারকি না থাকায় ক্রেতারা ঝুঁকিতে পড়ছেন। জমির মালিকানা, ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও দখল নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। জমির অবিভক্ত অংশের মালিকানায় ভবিষ্যতে বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক ও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা ও ১২ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট। রিহ্যাবের দাবি, শেয়ারভিত্তিক প্রকল্পে নির্মিত ভবনগুলোর কারিগরি ও আইনগত নিরীক্ষা, জমির মালিকানা ও অনুমোদন যাচাই, জাল দলিল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত এবং প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল ডেভেলপার, যোগ্য স্থপতি ও প্রকৌশলী নিয়োগ এবং কর-ভ্যাটসহ সরকারি রাজস্ব পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত