এক-দুটি ইনিংস দেখে বিচার নয় : হৃদয়

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ এএম

সিলেটে ২৪২ রানের ইনিংস খেলার পর শনিবার দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা ছিল তাওহীদ হৃদয়ের। কিন্তু এত বড় ইনিংস খেলার ধকল সামলাতে না পেরে সেদিন আর আসেননি। এলেন গতকাল চতুর্থ দিনের খেলাশেষে। তাকে নিয়ে কৌতূহলও ছিল অনেক। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নটা গেল অন্যদিকে। মিরপুর টেস্টের পর তাকে নিয়ে হওয়া সমালোচনা প্রসঙ্গে।

সেই টেস্টের দুই ইনিংসেই অসময়ে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন হৃদয়। তার টেস্ট খেলার ধৈর্য আছে কি না এমন প্রশ্নও উঠেছিল। সেখান থেকে পরের ম্যাচেই যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সেটি অবিশ্বাস্য। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিমকে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিকও তিনি।

তবে ২৪২ রানের সেই ইনিংসের কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলার চেয়ে হৃদয় আজ যেন বেশি গুরুত্ব দিলেন সমালোচনা নিয়ে নিজের একটা অনুরোধে, ‘আমি আগেও বলেছি সব সময় বলব আপনি নিয়মিত পারফর্ম করতে পারবেন না, সেটা যেকোনো পেশাতেই হোক। বিশ্বের সব দলের ক্ষেত্রেই এটা হয়। তাই এক-দুই দিনের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে বিচার করাটা ঠিক নয়।’

মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংসেই অসময়ে শট খেলে আউট হওয়ার পর চারপাশ থেকে সমালোচনা হয়েছিল। তবে সেই সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এ ব্যাটার। তার মতে, ‘আপনারা অবশ্যই আমাদের সমালোচনা করবেন। ভুল করলে সমালোচনা করার অধিকার আপনাদের আছে। কিন্তু সেটি যেন এক-দুটি ইনিংসের ভিত্তিতে না হয়। একই ভুল যদি ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে। তবেই কেবল সমালোচনা যৌক্তিক। এ ছাড়া দেখতে হবে ম্যাচের পরিস্থিতি কী দাবি করছে।’

দলের প্রয়োজনে নিজের আগ্রাসী খেলার ধরন বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘পরিস্থিতি যখন আক্রমণের দাবি করে, আমি আক্রমণ করব। অনেক সময় কাউন্টার-অ্যাটাক না করলে সেই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায় না। প্রতিপক্ষ দল পুরোপুরি চেপে ধরার আগেই আমাদেরও পাল্টা চড়াও হতে হয়। এ জন্যই আমি এভাবেই খেলতে পছন্দ করি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিল্ড ছড়িয়ে দেওয়ায় শট নির্বাচনে কৌশল বদলাতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। ‘বেশিরভাগ ফিল্ডার সীমানার কাছাকাছি ছিল। তাই রান তুলতে হলে আমাকে বল ওভার দ্য টপ মারতে হতো, এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সিঙ্গেলস নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব ছিল না। আমি সঠিক বল ও বোলার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি, ’ যোগ করেন তিনি।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর অনুভূতি নিয়ে হৃদয় জানান, রেকর্ড বা মাইলফলক নিয়ে তার মাথায় কোনো চাপ ছিল না। ‘এটি আমার ভাগ্যে ছিল। কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি বা কী রেকর্ড হচ্ছে, তা নিয়ে আমি ভাবিনি। ওই পরিস্থিতিতে মনে হয়েছে দলকে ভালো জায়গায় নিতে যতটা সম্ভব লড়াই করা উচিত। আমি সেট ছিলাম, দিনটি আমার ছিল এবং ব্যাটে বলে ভালো সংযোগ হচ্ছিল।’

ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস কোনটিএমন প্রশ্নের জবাবে বর্তমান ডাবল সেঞ্চুরিকে না বেছে ফেলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্মৃতিচারণ করেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় আমি টানা তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলাম। সেটি আমার কাছে এখনো খুব বিশেষ কিছু মনে হয়।’

ইনিংসের শেষভাগে আক্ষেপ না রেখে নিজের মানসিক পরিপক্বতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে হয়তো অনেক কিছু নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতাম। এখন সেসব ভাবনা আর আসে না। আমার নিয়ন্ত্রণে যা আছে, তা হলো ঠিকমতো অনুশীলন করা এবং পরিশ্রম করা। এ বিষয়গুলোই এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত