বাংলাদেশিদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ৬৪৬ ডলার : বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১২ এএম

বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৬ ডলার। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এ সময়ে দেশের মোট বকেয়া বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দশকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ধরে মোট বৈদেশিক ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু ঋণের হিসাব করা হয়েছে। তবে এই হিসাব প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণের দায় নির্দেশ করে না; বরং দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের একটি গড় হিসাব তুলে ধরে।

দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ ৮৯ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের অগ্যারান্টিযুক্ত ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।

সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের মধ্যে বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের পাওনা ৫১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো সংস্থার ঋণ রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে নেওয়া দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এ শ্রেণির ঋণে বেসরকারি পাওনাদারদের অংশ ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।

বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) পাওনা সবচেয়ে বেশি, ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এরপর এডিবির পাওনা ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন এবং অন্যান্য বহুপক্ষীয় ঋণদাতার পাওনা ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে জাপান। দেশটির পাওনা ১২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এরপর রাশিয়ার পাওনা ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতার পাওনা ১০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত