২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন ঢাকা বিভাগের তাইবুর রহমান ও চট্টগ্রাম বিভাগের ইরফান সাবরি তাকরির। তাইবুরের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পেয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে শতরান করে চট্টগ্রামকে চালকের আসনে বসিয়েছেন প্রথম শ্রেণিতে নিজের অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তাকরির। ষষ্ঠ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনের খেলায় দুই ব্যাটসম্যানের দাপটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। তবে একই দিনে বল হাতে আলোচনায় ছিলেন নাসুম আহমেদ ও আবু হায়দার রনি। দুজনই নিয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট।
রাজশাহীতে আগের দিন সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকা তাইবুর দ্বিতীয় দিনেও ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। খুলনার বিপক্ষে নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরিতে। ২৯৪ বলে ২১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ চার ও ৭ ছক্কার মার। অন্যপ্রান্তে অপরাজিত ব্যাটসম্যান আমিনুল ইসলাম বিপ্লবও ফিফটি তুলে নেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬৪ রান। শেষ দিকে সুমন খানের ৪৪ রানের কার্যকর ইনিংসে ঢাকা বিভাগের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হয়। তাইবুর নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার পর ৫১৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। খুলনার হয়ে ৪ উইকেট নেন অফ স্পিনার শেখ পারভেজ জীবন। পরে ব্যাট করতে নেমে দিনশেষে ২ উইকেটে ১৩২ রান করেছে খুলনা। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে ৭ রানে হারালেও পরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দলটি। আজিজুল হাকিম তামিম ও কালাম সিদ্দিকী অলিনের ব্যাটে এগোতে থাকে খুলনা। ৪৭ রানে থামেন অলিন। দিনশেষে তামিম ৪৯ ও মোহাম্মদ মিঠুন ২৪ রানে অপরাজিত আছেন। ঢাকার চেয়ে এখনো ৩৮১ রানে পিছিয়ে খুলনা।
খুলনায় রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ব্যাট হাতে চমক দেখান চট্টগ্রামের তাকরির। প্রথম দিন ১৬৬ রানে রংপুরকে গুটিয়ে দেওয়ার পেছনে বড় অবদান ছিল সানজিদ মজুমদারের। পরে বিনা উইকেটে ৫৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা চট্টগ্রাম ব্যাটিংয়ে আরও দৃঢ়তা দেখায়। সাদিকুর রহমান মাত্র ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। ওপেনার সাদ্দাম হোসেন করেন ৩৮ রান। এরপর এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস এগিয়ে নেন তাকরির। ২১২ বলে ১০৪ রানের দারুণ ইনিংসে ১৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান তিনি। এর আগে এনসিএলে দ্বিতীয় একাদশে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন এ তরুণ। ৬ ম্যাচে ৬০২ রান করে সর্বোচ্চ সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি। সেখান থেকে প্রথম একাদশে এসেও চমক দেখালেন তাকরির। তার সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩০৪ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে চট্টগ্রাম।
বগুড়ায় সিলেটের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি রাজশাহীর অধিনায়ক প্রিতম কুমার। ১১৪ বলে ১০৫ রান করেন তিনি। তবে নাসুম আহমেদের বাঁহাতি স্পিনের সামনে বাকিরা ছিলেন অসহায়। ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে ১৯২ রানে গুটিয়ে দিতে সাহায্য করেন নাসুম।