বিবর্ণ বোলিংয়ে হতাশার দিন

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ এএম

তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে ইতিহাস রচনার পর সিলেটে যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছিল, চতুর্থ দিনের ব্যাটিংয়ে তা হতাশার ধুলোয় মিলিয়ে গেছে। একদিকে ব্যাট হাতে ক্যারিবীয়দের নির্বিঘেœ রান তোলার উৎসব, অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ। টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই ক্যারিবীয়দের হাতে। হৃদয়ের অতিমানবীয় ২৪২ রানের ইনিংস বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুললেও বল হাতে সেই সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই আজ পঞ্চম ও শেষ দিনে স্বাগতিকদের সামনে কঠিন এক পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ।

প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের সামনে সেই প্রাপ্তি অর্থহীন হয়ে পড়েছে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ৮৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলেছে তারা। এতে লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানের। যদিও উইকেটের অবস্থা বিবেচনায় রান তাড়া করে জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না হৃদয়, ‘উইকেট এখনো ভালোই মনে হচ্ছে। তবে ক্রিকেটে সবকিছুই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমরা যদি শুরুটা ভালো করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় রান তাড়া করে জেতা সম্ভব। তবে আগামীকাল (আজ) কী হবে, এখনই বলা যাচ্ছে না। দেখতে হবে, তারা কত রানের লক্ষ্য দেয়। এরপর সেই অনুযায়ী আমরা পরিকল্পনা সাজাব।’ আজ শেষ দিনে ৩৫০ রানের লক্ষ্যও তাড়া করে জেতা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশি এ ব্যাটসম্যান ‘এখন পর্যন্ত উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ অনুকূল। শুরুটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি ভালোভাবে শুরু করতে পারি, তাহলে ৩৫০ রান তাড়া করে জেতা সম্ভব বলে আমার মনে হয়।’

সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান কাভেম হজ তো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, ঠিক কত রান করলে বাংলাদেশ দলকে আটকাতে পারবেন তারা, ‘উইকেটটি বেশ ভালো। আগামীকাল (আজ) আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করব এবং দেখব এ উইকেটে কেমন রান সবচেয়ে ভালো হবে, কত রান করা উচিত এবং কী গতিতে ব্যাটিং করা দরকার। তবে আপাতত আমাদের লক্ষ্য শুধু লিডটা আরও বাড়িয়ে নেওয়া।’ তবে আজ স্পিনাররা সুবিধা পাবে বলে মনে করেন তিনি, ‘স্পিনাররা আগামীকাল (আজ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের কয়েকজন স্পিনার বল বেশ ভালো টার্ন করাতে পেরেছেন এবং ম্যাচে কিছু সময়ের জন্য প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে, অন্য বোলাররা কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন।’

টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা যখন দীর্ঘ সময় উইকেটে কাটানোর পাশাপাশি অনায়াসে রান তুলতে থাকেন, তখন বোলিং আক্রমণের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়ে যায়। গতকাল সিলেটে ঠিক সেই দৃশ্যই দেখেছে বাংলাদেশ দল। দিনের শুরুতে অবশ্য উইকেটের দেখা পান তাইজুল ইসলাম। জশুয়া দা সিলভাকে ৩৬ রানে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। পরে ব্র্যান্ডন কিংকে ৬১ রানে সিøপে ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু এরপর আর কার্যকর কোনো চাপ তৈরি করতে পারেননি স্বাগতিকরা। ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে হজ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। দুজনের ১৬৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশের বোলারদের অসহায়ত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। কোনো ধরনের তাড়াহুড়া ছাড়াই তারা স্বাগতিক বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান। হজ ৭৮ বলে এবং উইকহ্যাম ৬৮ বলে ফিফটি তুলে নেন। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই ৫০ ছোঁয়ার বিরল কীর্তিও গড়েন উইকহ্যাম, সেটাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে ৪৮ বছর পর।

তাইজুলের হাত ধরে ভাঙে এ জুটি। ফিরতি ক্যাচে উইকহ্যামকে ফেরান বাঁহাতি এ স্পিনার। ৭৮ রানের ইনিংসে ৭  চার ও ২ ছক্কা মারেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তবু স্বস্তি ফেরেনি বাংলাদেশ শিবিরে। অন্য প্রান্তে রান বাড়িয়ে যেতে থাকেন হজ। দিনের শেষভাগে আমির জাঙ্গুকে সঙ্গী করে আরও ৬১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পথে ১৪২ বল খেলেন হজ। শেষ পর্যন্ত ১৮৯ বলে ১৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৪০ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা জাঙ্গু অপরাজিত ২০ রানে।

আজ শেষ দিনে উইকেটের চরিত্র বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। চার দিন পার হলেও সিলেটের উইকেটে বড় ধরনের ভাঙন কিংবা ব্যাটিংয়ের জন্য ভয়াবহ অবনতির লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং বলের গতি ও গ্রিপের অভাবে ব্যাটসম্যানরা সুবিধা পেয়েছেন। তবে পঞ্চম দিনে পিচের ক্ষয় বাড়লে স্পিনাররা কিছুটা বেশি টার্ন ও অসম বাউন্স পেতে পারেন। তবে শুধু উইকেটের দোষ দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের বোলারদের। এদিকে আশাবাদ আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান যে অনেক। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫ রানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ৩৫৬

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৮৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৩৪৫/৩ (কিং ৬১, দা সিলভা ৩৬, হজ ১৪০*, উইকহ্যাম ৭৮, জাঙ্গু ২০*; তাসকিন ১১-০-৫১-০, হাসান ১১-১-৬১-০, তাইজুল ২৯-১-১১৮-২, মিরাজ ২২-৪-৫৮-১, নাঈম ১০-০-৪৮-০)

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ডাক পাচ্ছেন রবিন

ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় কাটানোর পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগের এ ওপেনার। এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেতে যাচ্ছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুই টেস্টের সিরিজে চোটের কারণে সাদমান ইসলাম ছিটকে যাওয়ায় তার পরিবর্তে রবিনকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। একই সঙ্গে তৃতীয় ওভারের ভাবনায় আছেন মাহমুদুল হাসান জয়।

মূলত সাদমান ইসলাম চোটে পড়ায় রবিনের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার রাস্তা সহজ হয়ে গেছে। এ নিয়ে নির্বাচক প্যানেলের এক সদস্য নিজের নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে বলেন, ‘সাদমানকে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পাচ্ছি না। রবিন এমনিতেও আমাদের ভাবনায় ছিল। এখন তো আর বিকল্পও নেই আমাদের হাতে। ওপেনার হিসেবে তাকে নেওয়ার একটা আলোচনা চলছে। সঙ্গে জয় ফিরতে পারে।’

চলতি ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রবিন। ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে ১০ ইনিংসে ৬৭২ রান করেছেন ২২ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান। ৭৪.৬৭ গড়ের এই সংগ্রহে রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি ও দুটি অর্ধশতক। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা রবিন ইতোমধ্যে সিলেটে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। দলের অনুশীলনেও নিয়মিত সময় দিচ্ছেন তিনি। জাতীয় দলের কোচদের তত্ত্বাবধানে নেটে ব্যাটিং করছেন এবং একাদশে সুযোগ না পাওয়া বোলারদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত