এমিরিটাস!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৯ পিএম

আহাম্মক হওয়া যে দুষ্কৃতকারী হওয়ার চেয়ে ভালো এটা সবাই স্বীকার করবেন। সফলতার সঙ্গে একটি আহম্মক-জীবন পার করার পর ‘জ্ঞান দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন’ যখন ষোলোকলায় পূর্ণ হয়, অবসর নেওয়ার সময় এসে যায়, তখন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ চাইলেই এমন কাউকে আহাম্মক এমিরিটাসের সম্মান দিতে পারে। তখন ছিদ্রান্বেষী সমালোচকরাও বসে থাকবেন না। বলবেন, আমাদের ক ও খ তাদের গ-এর চেয়ে জ্যেষ্ঠ আহাম্মক হওয়া সত্ত্বেও গ-কে আহাম্মক এমিরিটাস মর্যাদায় ভূষিত করা ঠিক হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায়ই করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নামের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের একক নিয়ন্ত্রক ও আধিকারিক হালে এমিরিটাস শব্দটিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। কমিশন বলেছে প্রফেসর এমিরিটাস পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক। এমন সম্মানজনক পদবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়। সম্মানজনক যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মঞ্জুরি কমিশনের ফরমান জারির ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই কমিশনের অধ্যাপকদের তুলনায় কম পণ্ডিত কিন্তু তাদের চেয়ে আধুনিকতর শিক্ষাগ্রহণকারী অপেক্ষাকৃত কমবয়সী উপমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ধারণা ভ্রান্ত। এর আগে কখনো শুনিনি প্রায় সাংবিধানিক মর্যাদার এমন একটি প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান-দর্শনকে কেউ এভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষা দর্শন ‘দশ টাকায় এক কাপ চা, একটি শিঙারা, একটি সমুচা এবং একটি আলুর চপ’ সরবরাহতে যে সীমাবদ্ধ নয়, তা উপমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট; আসছে পঞ্চাশ বছরে কোন ধরনের পেশা ব্যক্তির জীবিকা ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে, সেদিকে লক্ষ রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন; পঞ্চাশ বছর পরও একই দামে চা-শিঙারা-সমুচা-আলুর চপ নিশ্চিত করার কোনো গ্যারান্টি তিনি অত্যন্ত সংগত কারণেই দেননি। ভাগ্যিস তিনি অধ্যাপক নন! আমাদের একটি জাতীয় অবসেশনের নাম ‘সরকারি’। আমাদের ধারণা পৃথিবীর যা কিছু উত্তম তার সবই সরকারি।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কি সরকারি?

একটা সহজ জবাব হতে পারে, ভালো হলে অবশ্যই সরকারি। কিন্তু তা নয়, ১৬৩৬ সালে ধর্মযাজক জন হার্ভার্ডের অর্থানুকূল্যে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি অবশ্যই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যেসব বিষয় নিয়ে গর্ব করে তার মধ্যে সস্তা দামের বার্গার, স্যান্ডউইচ, প্যাস্ট্রি কিংবা কফি নেই। আছে ১৬১ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রায় ছ’শ রোডস, ম্যাকআর্থার ও মার্শাল স্কলার; সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ আছে কি না পারতপক্ষে সে জবাবই দেয় না, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিতি বলে দেয় তাদের আরও আছে ১৪৮ জন অলিম্পিক পদক বিজয়ী, ৪৮ পুলিৎজার বিজয়ী এবং ১০ জন অস্কার বিজয়ী। গর্ব করে তারা আরও বলে, তাদের আছে সবসুদ্ধ ৭৯টি লাইব্রেরি আর ২ কোটি ৪০ লাখ বইপত্র। এই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কি প্রফেসর এমিরিট নিয়োগ দিতে পারে? পারে। কজন পারে, কোন আইনে পারে, কেন্দ্রীয় সরকার কী বলে, অঙ্গরাজ্যের সরকার কী মনে করেএসব অবান্তর প্রশ্ন থাক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমিরিটাস ফ্যাকাল্টি হিসেবে যারা আছেন তাদের নামগুলো তুলে ধরছি : টমাস এন বিসনি, ডেভিড ব্ল্যাকবোর্ন, জন কোটসওয়ার্থ মনরো, ন্যান্সি কোট, আলবার্ট ক্রেইগ, রবার্ট ডার্নটন, প্যাট্রিস হিগোনেট, রবার্ট ওয়াল্টন, আকিরা আরিয়ে, ক্রিস্টোফার জন, চার্লস মেয়ার, রয় মোত্তাহেদেহ, রোমান স্পুরলুক, হুয়ে তাম হো তায়ে, স্টিফেন থার্নস্টর্ম, লরেল থেচার উলরিখ, জন ও’ম্যাক জুনিয়রএই সতেরোজন কেবল ইতিহাসেরই। এই সতেরোজনের একজনকেও মার্কিন সরকার এমিরিটাস প্রফেসরশিপের জন্য টাকা দিচ্ছে না এবং এমনকি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত বাজেট থেকেও তাদের টাকা দিতে হচ্ছে না। প্রতিটি প্রফেসরশিপের পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো স্পন্সর।

কেবল একটি বিভাগের কথা এখানে উল্লেখ করেছিগোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবুন তো? আর একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর একটি ডিপার্টমেন্টের কথা ধরা যাক। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি : যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ইউরোপীয় পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি মডেলে মূলত ফলিতবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ওপর জোর দিয়ে ১৮৬১ সালে এমআইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য নতুন নতুন উদ্ভাবনক্ষম শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক শিক্ষা দেওয়া। ২০২০ পর্যন্ত ৯৭ জন এমআইটি শিক্ষক ও গবেষক নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তারা গর্ব করে বলে এমআইটি ৪১ জন মহাকাশচারী সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ বাঙালি নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জি এমআইটির অর্থনীতি বিভাগেরই শিক্ষক।

দেখা যাক, তাদের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ফ্যাকাল্টি এমিরিটি কতজন। (এমিরিটাস এক বচন, এমিরিটি বহুবচন)। স্যামুয়েল অ্যালেন, রোনাল্ড ব্যালিঞ্জার, জোয়েল ক্লার্ক, মেরটন ফ্লেমিংস, লিন হবস, রোনাল্ড ল্যাটানিসন, রবার্ট রোজ, ডেভিড রয়ল্যান্স, মাইকেল রাবনার, সুব্রা সুরেশ, এডউইন থোমাস, জন ড্যান্ডার স্যান্ডে এবং সিডনি ইপ ১৩ জন। আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দিইযুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়। এটিও আপাদমস্তক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ১৭৪৬ সালে কলেজ অব নিউজার্সি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৬ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২০ পর্যন্ত প্রিন্সটনের নোবেল বিজয়ী ৬৯ জন। তারা গর্ব করে বলে তাদের ১২ জন সাবেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাজনীতি প্রিন্সটনের প্রফেসর এমিরিটাস ১৮ জন : ক্রিস্টোফার আচেন, ডগলাস আরনল্ড, ল্যারি বার্টেলস, ন্যান্সি বার্মেন, হেনরি বিলেন, কেন্ট ক্যালডার, মাইকেল ডয়েল, রিচার্ড ফাক, মার্টিন গিলেনস, জোয়ান গোয়া, এমি গাটম্যান, জর্জ কাটেব, থোমাস রোমার, হাওয়ার্ড রোজেন্ফাল, অ্যানি-ম্যারি সøটার, এজরা সুলেইমান, মারিজিও ভিরোলি, জন ওয়াটারবারি এবং লিন হোয়াইট।

ভারতের বেলায় চোখ-কান খোলা একটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থাকায় প্রফেসর এমিরিটাস বানানোর দায়িত্বটা তারাই নিয়ে নিয়েছেন। তারা যে তালিকা করেছেন তার কিছু নাম আমাদেরও পরিচিত এবং নামগুলোই বলে দেয় প্রফেসর এমিরিটাস যে অত্যন্ত সম্মানজনক, মঞ্জুরি কমিশনকে বলতে হয় না, তিনি কিন্তু সম্মানজনক ব্যক্তি। নামগুলো হচ্ছে : সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, বিপিন চন্দ্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভবতোষ দত্ত, অর্জুন দেব, বলদেব সিং ধীলন, ইরফান হাবিব, মোহাম্মদ হাবিব, সুবীর জয়সাল, জে জি জলি, মাসুদ হোসেন খান, গোপী চান্দ নারাঙ্গ, জয়ন্ত নার্লিকার, বাইজ নাথ পুরী, শিবনারায়ণ রায়, রাম শরণ শর্মা, সুব্রামানিয়া রাজু, কে জি সুব্রামানিয়াম, রোমিলা থাপার, হরি ভাসুদেবন, সীতাংশু যশচন্দ্র। চিকিৎসা শাস্ত্রে ভারতের এমিরিটাস প্রফেসর নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্স। তাদের তৈরি তালিকায় ৩৬ জন ডাক্তার অধ্যাপকের নাম রয়েছে।

হার্ভার্ড ও প্রিন্সটন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। মেনে নিচ্ছি তারা কোনো মঞ্জুরি কমিশনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রফেসর এমিরিটাস নির্বাচন করতে পারে। কমখ্যাত কানাডার প্রাইভেট কিংস ইউনিভার্সিটির কথা জেনে রাখুনএই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জন আর উডকে কিছুকাল আগে প্রফেসর এমিরিটাস করা হয়েছে। তিনি কীটতত্ত্ব ও জলীয় পরিবেশবিষয়ক গবেষক ও বিজ্ঞানী। প্রাইভেট ট্রিনিটি ওয়েস্টার্ন-এর জন ক্লাসেনকে তারাই প্রফেসর এমিরিটাস করেছে। শুধু এমিরিটাস খেতাব দিতে পারলেই হবে নাখেতাব ফিরিয়ে নেওয়ার যোগ্যতা ও দক্ষতাও থাকতে হবে। সাম্প্রতিককালে ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যাস্ট্রোফিজিকস ডিপার্টমেন্টের ওয়াল্টার হেন্ডরিক গুস্তাভ লেভিনের এমিরিটাসশিপ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর হার্ভার্ড প্রত্যাহার করে নিয়েছে অধ্যাপক জর্জ ডোমিঙ্গেজের এমিরিটাস সম্মান। দুজনের বিরুদ্ধেই যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

কোনো কোনো দেশে প্রফেসর এমিরিটাস কিংবা এমিরিটাস প্রফেসর আলেয়ার মতো আবার কোথাও কোথাও এই পদটির ‘র‌্যাঙ্ক ইনফ্লেশন’ ঘটেছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব মানদণ্ড ঠিক করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতি রেখে এমিরিটাস প্রফেসর নির্বাচন করে থাকে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই নির্বাচনের অন্যতম মানদণ্ড প্রকাশনা। এই প্রকাশনা নিজের টাকায় কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চেপে কটা বই প্রকাশ করা হলো, মোটেও তা নয়। এ রকম শত গ্রন্থের চেয়েও বেশি মূল্যবান আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশিত একটি রচনা। রাষ্ট্র যদি অধ্যাপককে সম্মানিত করতে চায়, রাষ্ট্রের নিজস্ব নীতিমালা এবং অধ্যাপকের অবদান বিবেচনার আলোকে জাতীয় অধ্যাপক কিংবা অন্য কোনো নামে অভিহিত করতে চাইলেও তা করতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এমিরিটাস অধ্যাপক বিবেচনা করবে তার ডিপার্টমেন্টসমূহের প্রয়োজনের আলোকে। যিনি ক্যাম্পাসের সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন, অধ্যাপক অবস্থায় পূর্ণ দায়িত্বের চেয়ে কিছু কম দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষাসেবা প্রদান করে যাবেন। স্মরণ রাখা দরকার, নির্বাচিত অধ্যাপকদের সঙ্গে এমিরিটাস যুক্ত হওয়ার আগে মূলত এটি যুক্ত হতো অবসর গ্রহণ করা খ্রিস্টীয় হুজুরদের সঙ্গে। চার্চে যাদের সেবার আবেদন তখন ফুরোয়নি। উত্তর আমেরিকায় আরও একটি প্রশ্ন সামনে হাজির হয়েছেশুধু এমিরিটাস প্রফেসর কেন? এমিরিটাস রেজিস্ট্রার, এমিরিটাস ট্রেজারার, এমিরিটাস প্রেসিডেন্ট নন কেন? সেইন্ট থোমাস ইউনিভার্সিটি গত দশকে চারজন অধ্যাপককে এমিরিটাস সম্মান দিয়েছে এবং কাজেও লাগিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি যার অবদান, যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বর্তমান অবস্থানে এনেছেন এবং এখনো যিনি নিজে সেধে এসে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি কি কিছু পাবেন না? তাকে এমিরিটাস প্রেসিডেন্ট করার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড; তিনিই কানাডার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমিরিটাস প্রেসিডেন্ট। ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়ার অধ্যাপক পামেল স্মিথ এমিরিটাসশিপ না পেয়ে ক্ষুব্ধ। তিনি মন করেন তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে, পরামর্শক হিসেবে কাজ পেতে তার দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে গেছে।

* * *

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজনই এমিরিটাস অধ্যাপক। মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতিতে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করা হয়নি। আর এটা সত্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এমিরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ করেছে শুনিনি। শিক্ষা উপমন্ত্রী সাফ জবাব দিয়েছেন। তিনি নিশ্চয়ই দ্বিমত পোষণ করবেন না বিএ, এমএ পাস করানোর এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ দেশের জনগণের ওপর বোঝা হয়েই আছে। পশ্চিমের অধিকাংশ দেশের মতো কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করা যায় এমন ভোকেশনাল শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা ছাড়া করদাতার অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় এবং দলদাস্যবৃত্তি করা শিক্ষক পালনের দায় রাষ্ট্রের নয়। কাজেই দুদিন আগে হোক পরে হোক এ ধরনের শিক্ষা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো গত্যন্তর থাকবে না। সুতরাং আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের মঞ্জুরি কমিশনও গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। কাজেই সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি সরকার নিশ্চয়ই ভাববে। কিঞ্চিৎ লেখালেখি আমিও করি। বাংলাদেশের এমিরিটাস প্রফেসারদের মধ্যে এ যাবৎ আমি দুজনকে আমার লেখাতে উদ্ধৃত করেছি। মঞ্জুরি কমিশনের মঞ্জুরি পান বা নাই পান, তাদের একজন অধ্যাপক আইনুন নিশাত।

যে বিষয় নিয়ে তাকে উদ্ধৃত করেছি সেটি জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মনোযোগ দিয়ে যা বিবেচনা করতে পারেতা হচ্ছে সাধারণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিএইচডি ও অন্যান্য গবেষণার মান এবং তাদের প্রকাশনায় চৌর্যবৃত্তি। এই ছাঁকনিটি যদি যথার্থ না হয়, তাহলে মূর্খতার এমিরিটাস নিয়েই আমরা হয়তো সম্মানিত বোধ করব।

লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত