আমার বন্ধু বেনজির ভুট্টো

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ১০:৩২ পিএম

বেনজির ভুট্টো ও করণ থাপার একজন অক্সফোর্ড ও একজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ের শিক্ষার্থী, বেনজির (২১ জুন ১৯৫৩-২৭ ডিসেম্বর ২০০৭) দুদফায় (১৯৮৮-১৯৯০, ১৯৯৩-১৯৯৬) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ঘাতকের হাতে নিহত। তার বাবা ১৯৭১-এ পাকিস্তান ভাঙার প্রথম প্ররোচক জুলফিকার আলী ভুট্টো একাত্তর-উত্তর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। হত্যার দায় নিয়ে ৪ এপ্রিল ১৯৭৯ ফাঁকিকাষ্ঠে প্রাণ দেন। করণ থাপার ভারতের প্রথিতযশা সাংবাদিক এবং নন-ফিকশন লেখক। তার ‘ডেভিল’স অ্যাডভোকেট : দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ গ্রন্থের দুটো অধ্যায় ‘দ্য কেমব্রিজ ইউনিয়ন সোসাইটি অ্যান্ড মিটিং বেনজির’ এবং ‘বেনজির বিকামস দ্য ক্লোজ ফ্রেন্ড’এর নির্বাচিত অংশের সমন্বয়ে লেখাটি অনূদিত।

উষ্ণ ও সূর্যস্নাত এক অক্টোবরে আমি কেমব্রিজ পৌঁছালাম; অস্বাভাবিক এমন আবহাওয়াকে ব্রিটিশরা বলে ইন্ডিয়ান সামার। দৃশ্যত অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দর্শন পাঠের সাড়ে তিন বছরের কেমব্রিজবাস ছিল বেশ আনন্দপ্রদ। পাঠ্য বিষয়ের চেয়ে আমার আগ্রহ এবং উচ্চাকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কেমব্রিজ ইউনিয়ন সোসাইটি। যদিও ছাত্রদের সংগঠন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এটা ছাত্রদের ইউনিয়ন নয়; এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সমিতি ডিবেটিং সোসাইটি। এর সদস্যসংখ্যা অনেক বেশি, সদস্য পদপ্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। এই ইউনিয়নের কারণেই বেনজিরের সঙ্গে আমার পরিচিতি এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। ঠিক একই সময়ে ১৯৭৭-এ আমি কেমব্রিজ এবং বেনজির অক্সফোর্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হলাম। কয়েক মাস আগে আমাদের প্রথম দেখা। তখন সে ছিল অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ট্রেজারার আর আমি কেমব্রিজ ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট। বেনজির প্রস্তাব নিয়ে এলো ‘বিয়ের আগেই যৌনতা’। যিনি পাকিস্তানের একজন রাজনীতিবিদ হতে যাচ্ছেন, তার জন্য এ এক বিপজ্জনক বিষয় তখন এটা মনে হয়েছে কেবলই ‘ফান’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের মতো আমিও প্রশ্ন করলাম, ‘ম্যাডাম আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলছেন। আপনি যা প্রচার করছেন আপনি কি তা চর্চা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।’

বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বেনজির অপেক্ষা করছিলেন হাততালির রেশটা একটু কমে আসুক। চশমা নামিয়ে নিলেন, নাক কুঁচকে বললেন, ‘অবশ্যই কিন্তু আপনার সঙ্গে নয়।’ তারপর আরও উচ্চ করতালি। কয়েক সপ্তাহ পরেই আমরা দুজন যথাক্রমে কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট। কেমব্রিজের মোশন ‘আর্ট ইজ এলিটিস্ট অর ইট ইজ নাথিং’এর বিরোধিতা করতে অক্সফোর্ড থেকে বেনজির এলেন। সেদিন ইহুদি মেনুইন, ক্লাইভ জেমস এবং আরিয়ানা স্টেসিনোপোলাস বক্তৃতা দিলেন।

ইস্টার ভ্যাকেশন চলে এলো। দুর্ভাগ্যবশত ছুটির আনন্দের চেয়ে সময়টা বেনজিরের জন্য তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার। কয়েক সপ্তাহ আগে তার বাবা নির্বাচনে জিতেছেন কিন্তু তার বিরুদ্ধে কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বিস্ফোরিত আন্দোলনে পরিণত হয়। নিয়ন্ত্রণের নামে তার বাবা যা করলেন তা অনেকটা অঘোষিত সামরিক আইন জারির মতোই। ব্রিটিশ প্রেস তখন ভুট্টোর বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করে।

আমার ছোট ট্রানজিস্টরের সঙ্গে তিনি প্রায় সর্বক্ষণই কান লাগিয়ে রাখছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় কী ঘটছে তা জানতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। কমনরুমে গিয়ে টেলিভিশনে দেখাটাও সহজ, কিন্তু সে জানে অন্য সবাই তখন বরং তাকেই দেখতে থাকবে। কেমব্রিজ ছেড়ে যাওয়ার দিন সকালবেলা তার কেনা মিনিটে ৪৫ বার ঘূর্ণনের রেকর্ড আমার হাতে তুলে দিল : ‘ইউ আর মোর দ্যান অ্যা নাম্বার ইন মাই লিটল রেড বুক’। বলল, আমি বাজি ধরতে পারি, ‘আমি যে এটা তোমাকে দিয়েছি তুমি সারা দুনিয়াকে এটা বলে বেড়াবে। আর তাই যদি করো আমি জানব তুমি কোনো একজন নেড়ে ইন্ডিয়ান।’

বেনজিরের স্বেচ্ছা-নির্বাসনের দিনগুলোতে তার সঙ্গে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুত্বটি পরিপক্বতা লাভ করে। এত দিনে আমিও বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী নিশা ও বেনজিরের মধ্যেও বন্ধুত্বের বোঝাপড়াটা হয়ে গেছে। সে সময় সাংবাদিকের জন্য বেনজিরকে পাওয়া মানে দাও মারা। তিনি কেবল জেনারেল জিয়াউল হকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নন, পাকিস্তানের বিধ্বস্ত গণতন্তের আন্দোলনে বাস্তবিকই প্রধান নেতা। আমার পত্রিকা ইস্টার্ন আই তাকে চায়। তাকে পেলে আমাদের রেটিং বেড়ে যাবে, আমরাও তাকে দিতে পারব ব্রিটেনে বসবাসকারী এশিয়ান ও তার স্বদেশে পাকিস্তানিদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম।

লন্ডন পৌঁছার পরই আমি তাকে খাবারের আমন্ত্রণ জানালাম। লন্ডন উইকএন্ড অফিসে আনুষ্ঠানিক ডাইনিং রুমে খাবার। লাঞ্চে আমার সহকর্মীদের ওপর তার ভয় ধরানো প্রভাব লক্ষ করলাম। যখন তাকে তার ফ্ল্যাটে নামিয়ে দিতে গেলাম, বলল, বাসায় দাওয়াত করলেই পারো, তোমার বাড়িটা দেখা হবে, তোমার বউয়ের সঙ্গে কথা হবে।

নিশা আর বেনজির অল্প সময়ের মধ্যেই পরস্পরকে পছন্দ করতে শুরু করল। তাকে তার পরিবারের ট্র্যাজিক কাহিনী শোনাল, যার শুরু তার বাবার ফাঁসির মধ্য দিয়ে; দুই ভাইয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন, জিয়াউল হকের নিপীড়ন। আমার সঙ্গে প্রথমদিকের আলাপ রাজনীতির ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকত, কিন্তু যখন আমার বাড়িটাকে তার আপন এবং বান্ধব মনে হলো, মনের সব কথাই বলতে শুরু করল। যখন তার ছোট ভাই শাহনাওয়াজ ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে মারা গেল বেনজির সে কাহিনী শোনাচ্ছে, তার গাল বেয়ে অশ্রু নেমে আসছে। আমরা মেঝেতে বসে পান ও ধূমপান করছিলাম। সেসব দিনে বেনজির কখনো কখনো সিগারেট টানতেন। তার বিশ্বাস, শাহনাওয়াজের মৃত্যুতে তার আফগান ভ্রাতৃবধূর হাত রয়েছে। কারণ দ্রুত সে ব্যবস্থা নেয়নি এবং মৃত্যুর খবরও জানায়নি।

পরের কবছর আমাদের নিয়মিতই দেখা হয়েছে। কোনো উপলক্ষ হলে আমি ও নিশা তাকে ডিনারে ডাকতাম। তবে তার পছন্দ ছিল আমার বাড়িতে আসা, পা তুলে দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গল্পগুজব করা, পানীয়তে একটু চুমুক দেওয়া, সিগারেটে টান দেওয়া; এসবই চলত। ১৯৮৫ সালে এক দিন বেনজির ফোন করে যখন বললেন, ‘তোমাদের দুজনের সঙ্গে আমার একটি জরুরি আলাপ আছে, কখন আসব বলো’ আমরা অবাকই হলাম।

বেনজির পাকিস্তান ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন এভাবে আর বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারবেন না। যে গণমানুষ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের কাছ থেকে সরে গিয়ে তার যে নির্বাসিত জীবন তা তার পৃথিবীকে সংকুচিত করে আনছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে তিনি জনগণের সমর্থন নিয়ে একজন সামরিক একনায়কের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন এ বিশ্বাস তার দৃঢ় হয়ে আসছিল। আসলে আমাদের কোনো পরামর্শ বা সমর্থনের প্রয়োজন তার ছিল না। তার মন তৈরিই ছিল, তিনি জানতেন কী করতে যাচ্ছেন। কিন্তু তার মনে হয়েছিল তার কথাগুলো ব্যক্তিগতভাবে আমাদের শোনাবেন।

যেদিন তিনি নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে ফিরে যাবেন, তার আগের রাতে আমি বিদায় জানাতে তার ছোট অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে হাজির হলাম। তিনি তার সমর্থক, বন্ধু, উপদেষ্টা এবং তাকে পছন্দ করা লোকজন পরিবেষ্টিত ছিলেন এমনটাই হওয়ার কথা। তিনি বললেন, আমার সৌভাগ্য কামনা করো। মনে হলো অশুভ কিছু যদি ঘটে যায়; কিন্তু তার মুখে হাসি। তিনি মনস্থির করে ফেলেছেন, পরদিন দেশে ফিরে যাচ্ছেন তাকে উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। অন্তরের ভেতরে কোথাও তিনি নিশ্চয়ই জানতেন নিয়তি তাকে ডাকছে।

বেনজির পাকিস্তানে পা রাখতেই যেন ঝড় বয়ে গেল এখন মনে হয় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে এটাই অনিবার্য ছিল। তিনি সুচারুভাবে তার প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা করেছিলেন। সৌদি আরব হয়ে তিনি পাকিস্তানে ফিরতে চেয়েছেন দুটি কারণে। প্রথমত, মক্কায় ওমরাহ পালন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। প্রায় একই রকম গুরুত্বপূর্ণ আর একটি বিষয় করাচিতে পা না রেখে প্রথমে লাহোরে অবতরণ করবেন। সে সময় সৌদি এয়ারলাইনসের রিয়াদ থেকে লাহোরে ফ্লাইট ছিল। লাহোর পছন্দ করার কারণটি তখনই আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। কিন্তু বেনজির ব্যাখ্যা করলেন, আমি আমার দেশের কাছে স্পষ্ট করে তুলতে চাই কেবল সিন্ধুতে নয় পাঞ্জাবে আমার বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। করাচিতে হাজির হওয়ার ফলাফল একই হবে না সেখানে যত সমর্থনই থাকুক, যত লোক আমাকে দেখতে আসুক, সব সময় এটাকে বলা হবে স্থানীয় সমর্থন। কিন্তু পাঞ্জাব হচ্ছে পাকিস্তানের হৃৎপি-, আমি তাই লাহোর থেকেই শুরু করতে চাই।

পাকিস্তান ফেরার পর যখন আমার বেনজিরের সঙ্গে দেখা হলো, তিনি বললেন, রিয়াদ থেকে লাহোর ফ্লাইট তার জন্য এক কঠিন অভিজ্ঞতা। উড়োজাহাজের ফার্স্ট ক্লাসে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ একা, তার সহযাত্রীরা পেছনে ইকোনমি ক্লাসে। যখন মেঘের স্তরের ভেতর দিয়ে উড়োজাহাজ এগোচ্ছিল, জানালাপথে দৃষ্টি রেখে তিনি ভাবছিলেন কেমনভাবে জনগণ তাকে সংবর্ধনা জানাবে এর ওপরই নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

বেনজির বললেন, যখন উড়োজাহাজ লাহোর বিমানবন্দরে অবতরণ করল, জানালাপথে তাকিয়ে দেখলেন এয়ারপোর্ট নিস্তব্ধ এবং জনশূন্য। এ তো তার প্রত্যাশিত লোভনীয় সেই সংবর্ধনা নয়। তার অন্তর কেঁপে ওঠে। ‘আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হওয়ার আগেই কি শেষ হয়ে গেল?’ তিনি নিজেকে এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে থাকলেন।

তিনি যখন সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছেন, নিচে কেবল তিনজন মানুষ। বেনজির ও তাদের মাঝখানে যেন বিশাল দূরত্ব ও অদ্ভুত স্তব্ধতা, তখনো ভোর হয়নি, একটু বাকি, কিন্তু এয়ারপোর্টের কোনো প্রাণস্পন্দন নেই।

সেই তিনজনের একজন বেনজিরকে বললেন, ‘বুবুজান, কর্তৃপক্ষ কাউকে এয়ারপোর্টের ভেতরে আসতে দেয়নি, কিন্তু বাইরে লাখ লাখ মানুষ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এয়ারপোর্ট থেকে লাহোরের কেন্দ্রে মিনার-ই পাকিস্তান পৌঁছাতে তার ১৮ ঘণ্টা লেগে যায়। স্বাভাবিক সময়ে আধঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়। মনে হলো সমস্ত শহর সম্ভবত সমস্ত পাঞ্জাব প্রদেশ তাকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছে।’

পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে কোয়েটা, ইসলামাবাদ এবং করাচিতে একই ধরনের সংবর্ধনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তত দিনে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়ার নেমেসিস এসে গেছে, বেনজির পাকিস্তানের জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনও পেয়েছেন। জিয়া বুঝতে পারলেন তার বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি বাজতে শুরু করেছে এবং প্রতিটি ঐকতানের সঙ্গে সঙ্গে ঘণ্টাধ্বনি আরও বেগবান হয়ে উঠেছে।

তার পাকিস্তান প্রত্যাবর্তনের এক বছর পর আমি জেনারেল জিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ খান জুনেজোর সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য ইসলামাবাদ আসি; ভ্রমণ পরিকল্পনা এমনভাবে করি যেন লন্ডনে ফেরার সময় করাচি হয়ে যাই। তাতে বেনজিরের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা থাকার সুযোগ হয়। পরদিন সকালে তার সঙ্গে লারকানা যাওয়ার জন্য বেনজির আমাকে প্রভাবিত করতে শুরু করেন। সিন্ধুর অভ্যন্তরে লারকানা ভুট্টোর পৈতৃক বাড়ি। আমি জানালাম পাকিস্তান সরকার আমাকে যে ভিসা দিয়েছে তার শর্তানুযায়ী আমার করাচি শহরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি হেসে উঠলেন এবং বললেন, ‘এ নিয়ে ভাবার কী আছে; আমরা তোমাকে চোরাই মালের মতো লুকিয়ে নিয়ে যাব, কেউ জানবে না।’ সেই সন্ধ্যায় ডন পত্রিকার তরুণ প্রকাশক হামিদ হারুন তার বাড়িতেই ছিলেন, বললেন, আমি যদি লারকানা যেতে সম্মত হই তাহলে তিনি আমাকে সঙ্গ দেবেন। দুর্ভাগ্যবশত আমি এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ অভিযানের জন্য তৈরি নই; বরং নিরাপদে লন্ডন পৌঁছার ওপর জোর দিলাম। বেনজির রায় দিলেন, ‘কাওয়ার্ড-ভীতু।’ তিনি ঠিকই বলেছেন।

(আসিফ জারদারির সঙ্গে বিয়েতে করণ যেন থাকেন, বেনজির বন্ধুকে সে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যে বিয়ে নিয়ে দেশ মেতে উঠেছিল করণ থাপার তাতে হাজির ছিলেন। বেনজিরের পরনে ছিল তোতা পাখি রং সবুজ আর চোখ ঝলসে দেওয়া গোলাপি লেহেঙ্গা। দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং ২৭ ডিসেম্বর ২০০৭ আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছেন। ঠিক পরদিন করণ তার লন্ডনের ঠিকানায় পেলেন ২০০৮ সালের জন্য সুখ ও শান্তি কামনা করে পাঠানো বেনজিরের নিউ ইয়ার্স কার্ড। দুর্ভাগ্য এই নারীর দুটোর কোনোটাই তিনি পাননি!)

* আন্দালিব রাশদী : কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত