১৫ বছর পর আবার ‘নতুন কুঁড়ি’

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩৫ পিএম

১৯৬৬ সালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুরু হয়েছিল মেধা অনুসন্ধানকারী প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। কিছুদিন চলার পর সেটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৬ সালে মোস্তফা মনোয়ারের প্রযোজনায় বিটিভিতে শুরু হয় নতুন কুঁড়ি। চলে টানা ২৯ বছর। এরপর ২০০৫ এসে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় নতুন কুঁড়ি।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবার শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি’। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু হচ্ছে রিয়েলিটি শোটি।

বিটিভির মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি অনেক আগের সফল একটি আয়োজন। আমরা এটি নতুনভাবে উপস্থাপন করব। নতুন বলতে অনুষ্ঠানের ধরন ঠিক থাকবে। কিন্তু এটি সময়োপযোগী করা হবে। যুক্ত হবে আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন মোবাইল ও ইন্টারনেটের যোগাযোগ। এছাড়া চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের গ্রুমিং করা হবে। যেটা আগে করা হতো না।’

কবে নাগাদ প্রচার শুরু হবে নতুন কুঁড়ি? জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘মুজিব জন্মশতবর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনের পরপরই এটি হবে। আশা করছি মার্চের শেষে এর প্রাথমিক বাছাই শুরু হবে।’

তিনি আরও জানান, পুরো দেশকে ২০টি অঞ্চলে ভাগ করে বাছাই চলবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা যাবে মূল প্রতিযোগিতায়। তখন চলবে তাদের গ্রুমিং। নতুন কুঁড়ির বিভাগগুলো হলোÑ একক অভিনয়, দলীয় অভিনয়, লোকনৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকগীতি, ছড়া, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, কোরআন তেলাওয়াত, গল্প বলা ইত্যাদি বিষয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ শাখায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। শাখা দুটি বয়স দ্বারা নির্ধারিত হবে। ‘ক’ শাখার প্রতিযোগীদের বয়সসীমা ৬ থেকে ১০ এবং ‘খ’ শাখার ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছর।

এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উঠে আসা অনেকেই তারকা বনে গেছেন। টেলিভিশন মিডিয়ায় আলো ছড়ানো সেই তারকাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন তারানা হালিম, তমালিকা কর্মকার, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, রুমানা রশীদ ঈশিতা, তারিন জাহান, সাবরীন সাকা মীম, নুসরাত ইমরোজ তিশা।

ঈশিতার উচ্ছ্বাস

আবারও নতুন কুঁড়ি শুরু হওয়ার খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতা। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আসলে নতুন কুঁড়িতে আমরা যখন প্রতিযোগী ছিলাম তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়তাম। ফলে ওই সময়ের অনুভূতি বর্ণনা করাটা কঠিন। প্রায় দুই বছর ধরে চলেছিল প্রতিযোগিতাটা। ওয়ানের শেষের দিকে হয়তো ফর্ম ফিলাপ করেছি, এটা শেষ হয়েছে আমি যখন ক্লাস থ্রিতে উঠেছি তখন। অতটা ঠিক বুঝে কাজ করেছি তা না। তবে পুরো প্রসেসটা এনজয় করেছি। কারণ যারা প্রতিযোগিতায় ছিলাম একসঙ্গে নাচ করা, সব বন্ধুরা মিলে প্র্যাকটিস করা। বিটিভিতে সারা দিন বসে কম্পিটিশন করা তখন অন্য রকম একটা আনন্দ ছিল। আর এত বছর বন্ধ থাকার পর যখন আবার এটা শুরু হচ্ছে তখন সেটা অবশ্যই ভালো খবর। যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের জন্য শুভ কামনা রইল। তবে এটা অবশ্যই আনন্দের খবর যে, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা আবারও কিছু গুণী শিল্পী পেতে যাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত