‘মা’ নিয়ে আবেগাপ্লুত পরীমণি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০১ এএম

রাজ্য তখন সবে মায়ের গর্ভে। সেই সময়টা বিশ্রামে থাকার কথা পরীমণির। কিন্তু থাকেননি। নিজের ভেতর রাজ্যর অস্তিত্ব নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ‘মা’ সিনেমার শ্যুটিং করেছেন। তাই এই মায়ের প্রতি পরীর অন্যরকম আবেগ, একটু বেশিই টান। পরী অভিনীত সেই ‘মা’ আগামী ১৯ মে বিশ্ব মা দিবসে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তাই মা নিয়ে পরীর মধ্য দারুণ উত্তেজনা কাজ করছে বলে জানালেন। পরী বললেন, ‘এই সিনেমার জার্নিটা সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে আমার। ‘মা’ যখন শ্যুটিং করি, তখন চার মাসের রাজ্য (পরীর পুত্র) আমার পেটে। আর যখন মুক্তি পাবে, তখন ও আমার কোলে থাকবে। এটা যে কতটা আনন্দের অনুভূতি, বোঝানো যাবে না।’

মায়ের গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। মৃত ঘোষিত সাত মাস বয়সী এক সন্তানকে নিয়ে তার অসহায় মায়ের আবেগের গল্প। সাজিয়ে-গুছিয়ে তা সিনেমা আকারে পর্দায় তুলে আনছেন নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার। সেই মায়ের ভূমিকায় চিত্রনায়িকা পরীমণি। গেল বছরের জানুয়ারিতে শুরু হয় ‘মা’ সিনেমার কাজ। এর মধ্যে মাতৃত্বের কারণে কাজে সাময়িক বিরতি নেন পরী। তবে তার আগে ‘মা’ ছবির কাজ শেষ করেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে ছবিটি মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। নির্মাতা বললেন, ‘ছবিটি আসন্ন মা দিবসে মুক্তি পাবে, আজ ছবির ট্রেলার গান ও ছবিটি নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করা হবে। আশা করি ছবিটি সবাই হলে গিয়ে দেখে বেশ আনন্দ পাবেন।’

অরণ্য আনোয়ার দেশের পরীক্ষিত নির্মাতাদের একজন, যিনি ‘আমাদের নুরুল হুদা’র মতো ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। তিন দশকের ক্যারিয়ারে ‘মা’ তার প্রথম নির্মিত সিনেমা। তাই আয়োজন-চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখছেন না তিনি।  সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, সাজু খাদেম, রেবেনা করিম জুঁই, শিল্পী সরকার অপু, সেতু, লাবণ্য, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এদিকে, গত ২৪ মার্চ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের সিংহখালী গ্রামে যান পরীমণি। এই গ্রামেরই নানাবাড়িতে জন্মেছিলেন তিনি। আগে অনেকবার গেলেও এবারের যাত্রাটা তার জন্য, গ্রামের মানুষের জন্য ছিল অন্য রকম। এবারের ভ্রমণে প্রথমবার পরীর সঙ্গী স্বামী শরীফুল রাজ ও সন্তান রাজ্য। গ্রামে ফিরে যেন নিজের দুরন্ত শৈশব-কৈশোরের দিনগুলোতে ফিরে গেছেন পরী; হয়ে উঠেছেন কিশোরীবেলার শামসুন নাহার স্মৃতি। এসএসসি পরীক্ষার পরপরই গ্রাম ছাড়েন পরীমণি। অভিনয়ে আসার পরও প্রতি বছর কিছুদিনের জন্য গ্রামে ফিরেছেন। গ্রামের রাস্তাঘাট, ঘাস, লতা ও ফুলের সঙ্গে শৈশব-কৈশোরের কত স্মৃতি! গ্রামে ফিরে গায়ে প্রকৃতির গন্ধ মেখে সতেজ হয়ে ঢাকায় ফিরেছেন। কিন্তু গত চার বছর গ্রামে যেতে পারেননি। হাসতে হাসতে পরীমণি বলেন, ‘আগে দুইবার খবর পাঠিয়েও যেতে পারিনি। বড় ব্যাপার ছিল, কভিড। তা ছাড়া নিজের জীবনে কিছু ঝড়ঝাপটা গেছে। বিয়ে, বাচ্চা হওয়ারও একটা ব্যাপার ছিল। এবার তাই না বলেই রওনা হয়েছিলাম।’

পরী না বললে কী হবে, হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে সবাই বুঝে গিয়েছিল তিনি আসছেন। কারণ, আগেও তার হেলিকপ্টার করে কয়েকবার গ্রামে যাওয়া হয়েছে। এই পথে আর কেই-বা হেলিকপ্টারে আসবেন! ফলে গ্রামের আকাশ সীমানায় হেলিকপ্টার দেখেই দূরদূরান্ত থেকে পরিচিত, অপরিচিত লোকজন ছুটে আসেন। পরী বললেন, ‘সঙ্গে রাজ ও রাজ্য ছিল, এ কারণে মানুষের একটা বাড়তি আগ্রহ ছিল। যখন নামলাম, সবাই ঘিরে ধরেছে। যে মাঠে নেমেছিলাম, ছোটবেলায় জায়গাটা ছিল জলাশয়। এখন মাটি ভরাট করে মাঠ হয়েছে। নামার পর মানুষের ভিড়ে এগোতেই পারছিলাম না। মানুষের এত ভালোবাসা, বাড়ি পৌঁছানোর পর দল বেঁধে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আমাকে ও আমার সন্তানকে দেখতে আসছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত