রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানে ১০ মাস ধরে অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। অথচ গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪৩ জন অস্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য কোনো দৈনিক পত্রিকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা নোটিস বোর্ডেও দেওয়া হয়নি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। নেওয়া হয়নি কোনো লিখিত পরীক্ষা। এত বড় নিয়োগের ব্যাপারে গভর্নিং বডির অনুমোদন নেওয়ারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড় ‘বাণিজ্য’ করার জন্যই বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) নুরুন নবী সরকার ও কেয়ারটেকার আবু সাইদের মাধ্যমে প্রার্থী জোগাড় করা হয়েছে। তারাই টাকা নিয়েছেন। ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা। কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেতেও দিতে হয়েছে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অ্যাডহক কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তারা স্থায়ী, অস্থায়ী বা খন্ডকালীন কোনো ধরনের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারে না। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অ্যাডহক কমিটির সময় কোনো নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাহলে তা বৈধ হবে না।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিকারুননিসার চারটি ক্যাম্পাসে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৩ জনের মধ্যে ৩৪ জন শিক্ষক ও ৯ জন কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটির মূল শাখা বেইলি রোডে নিয়োগ পেয়েছেন ২১, ধানমন্ডি শাখায় ৭, বসুন্ধরা শাখায় ৫ ও আজিমপুর শাখায় ১০ জন। একবারে তাদের নিয়োগ না দিয়ে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে ভেঙে ভেঙে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগদান করানো হয়েছে, যাতে এ বিষয়ে তেমন আলোচনা না হয়।
ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অনেক শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন। ক্লাস চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। একটা ক্লাস না হলে কী অবস্থা হয়, সেটা তো আপনারা বোঝেন। এ জন্য আমরা কিছু অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। গভর্নিং বডির সভাপতিও ব্যাপারটি জানেন। নিয়োগের ব্যাপারে অর্থগ্রহণের কোনো অভিযোগ
আমরা পাইনি।’ ভিকারুননিসার বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাসের দিবা শাখার ইংলিশ ভার্র্সনে গত মার্চে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন শিক্ষকের সঙ্গে জনৈক ব্যক্তির ফোনালাপের রেকর্ড দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। কথোপকথনে ওই শিক্ষক বলেছেন, ‘স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সুদীপা আপার (যার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি) মাধ্যমে কেয়ারটেকার আবু সাইদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। তিনি চাকরি দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি একবারে এত টাকা দিতে পারব না বললে, ভেঙে ভেঙে দিতে বলেন। প্রথমে ৫ লাখ টাকা দিতে বলেন। তখন আমি বলি, এত টাকা কাকে দেবেন? তিনি বলেন, নুরুন নবী স্যারের মাধ্যমে বড় কর্মকর্তাদের দিতে হবে। প্রিন্সিপাল আপাকে দিতে হবে। পরে আমি সুদীপা আপার মাধ্যমে ভিকারুননিসার ৬ নম্বর গেটের বিপরীতে একটি বিল্ডিংয়ের নিচে গিয়ে সাইদ ভাইকে ২ লাখ টাকা দিই। খিলগাঁও-বাসাবো এলাকার একজন রাজনৈতিক নেতার অফিসে বসে সাইদ ভাইকে আরও ৩ লাখ টাকা দিই। এরপর আমাকে অ্যাপয়নমেন্ট লেটার দেওয়া হয়। বাকি ৫ লাখ টাকা দিলে তিন মাসের মধ্যে চাকরি স্থায়ী করে দেওয়া হবে বলা হয়।’
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো তালিকা ও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগপত্রের অনুলিপি দেশ রূপান্তরের হাতে রয়েছে। নিয়োগপত্রে সাধারণত প্রার্থীর নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ আরও তথ্য উল্লেখ থাকে। কিন্তু ভিকারুননিসার নিয়োগপত্রে শুধু প্রার্থীর নাম, পদবি ও পদায়নের স্থান উল্লেখ আছে। ‘নিয়োগপত্র’ কথাটিও উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের প্যাডে লেখা হয়েছে, ‘জনাব, আপনাকে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে খন্ডকালীন/বিকল্প প্রদর্শক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আপনার মাসিক বেতন সর্বসাকল্যে ১৬ হাজার টাকা। উল্লেখ্য, যেকোনো সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে আপনার এ নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। আপনার নিয়োগ ০৩.০৪.২০২২ খ্রি. তারিখ থেকে কার্যকর হবে।’ নিয়োগপত্রে অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের স্বাক্ষর রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরীক্ষা ছাড়া এই নিয়োগ খুব গোপনীয়তার সঙ্গে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের পরিচয় যাতে কেউ জানতে না পারে, সে জন্য নিয়োগপত্রে পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ‘নিয়োগপত্র’ কথাটিও লেখা হয়নি।
গত বছরের ৮ নভেম্বর ভিকারুননিসার নিয়মিত গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান। অভিভাবক-প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, সদস্যসচিব প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আছেন প্রতিষ্ঠানের ননএমপিও শিক্ষক ড. ফারহানা খানম। আহ্বায়ক ও অভিভাবক প্রতিনিধি সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে তারা তেমন সময় দিতে পারেন না। অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-প্রতিনিধির ইচ্ছাতেই চলছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা প্রবিধানমালা, ২০০৯ অনুযায়ী, অ্যাডহক কমিটির স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ধরনের শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগের সুযোগ নেই। ২০১৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক সুপারিশে বলা হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া অস্থায়ীভাবে বা খন্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে না এবং অস্থায়ী বা খন্ডকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থায়ী বা নিয়মিত করা যাবে না। অথচ বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও এসব মানছেন না।
জানা যায়, শিক্ষক প্রতিনিধি ড. ফারহানা খানমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ভিকারুননিসায় ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৪৪৩ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ১৬০ জনের ভর্তির ক্ষেত্রে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছিল। তখন ফারহানা খানম শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন। অবৈধ ভর্তির দায়ে সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এ জন্য ওই বছর গভর্নিং বডির নিয়মিত কমিটির নির্বাচনে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ফারহানা খানমের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন তৎকালীন ঢাকা জেলার প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। তিনি বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধি।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর অ্যাডহক কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো অধ্যক্ষ কামরুন নাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ফারহানা খানমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানানো হয়। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা প্রবিধানমালা, ২০০৯-এ বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী বা এর সুনাম নষ্ট হয় এরূপ কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করলে বা সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে অযোগ্য হবেন। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে এমপিভুক্ত সিনিয়র শিক্ষককে প্রতিনিধি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ফারহানা খানম নন-এমপিও শিক্ষক। আইন ভেঙে পরপর তিনবার ফারহানা খানমকে অ্যাডহক কমিটিতে রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ।
ড. ফারহানা খানম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নিয়োগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করব না। কিছু জানতে চাইলে অধ্যক্ষের কাছ থেকে জেনে নিন। আমাকে কেন শিক্ষক-প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেটাও অধ্যক্ষই বলতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে গভর্নিং বডির নির্বাচনের আগে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমি ব্যাপারটি নিয়ে আদালতেও গিয়েছি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমার ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, এর কোনোটিই সঠিক নয়।’
অধ্যক্ষ কামরুন নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, ফারহানা খানম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এ জন্যই তাকে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে প্রস্তাব করেছি। ঢাকা বোর্ড থেকেও তো তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’ সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও এবং এসএমএস দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।
সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরাম নানা অনিয়মের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানের কাছে চিঠি দেয়। তাতে বলা হয়েছে, গত তিন-চার মাসে ভিকারুননিসায় খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মহোৎসব চলছে। এ পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। অধ্যক্ষের পিএ নুরুন নবী সরকার ও কেয়ারটেকার আবু সাইদ এ নিয়োগের জন্য প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ১০-১২ লাখ টাকা আদায় করেছেন। এ টাকা তারা অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও শিক্ষক প্রতিনিধি ড. ফারহানা খানমকে দিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা গেছে।
অভিভাবকরা অভিযোগে বলেছেন, মাউশি অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ‘ভিএনএসসি শিল্পাঙ্গন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ৫ জন প্রশিক্ষক এবং ‘কারাতে ক্লাব’-এর নামে আরও কয়েকজন প্রশিক্ষক নিয়োগ হরা হয়েছে। প্রায় প্রতি শুক্রবার প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয় নিয়োগ পরীক্ষা, যেখান থেকে আয় হয় বড় অঙ্কের টাকা। বিভিন্ন নোট-গাইড প্রকাশনী সংস্থার কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অনুদান নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জুন লেকচার প্রকাশনী থেকে হলরুমের সংস্কারের কথা বলে ৩ লাখ টাকার অনুদান নেওয়া হয়েছে। নানা ক্ষেত্র তৈরি করে অনুদানের নামে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হলেও এর যথাযথ হিসাব দেওয়া হচ্ছে না।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ক্যাম্পাস ভরে ফেলা হয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় ভিকারুননিসার শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। অথচ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ফি বাড়ানো হচ্ছে। এখন মেয়েরা শুধু স্কুলে আসে আর যায়। পড়ালেখা হয় স্যার-ম্যাডামদের প্রাইভেটে। স্কুলের ক্যানটিন খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে খাবারের মানের অবস্থা যাচ্ছেতাই। আগে ‘ফখরুদ্দিন’ এই ক্যানটিন চালাত। তারা মাসে ৫ লাখ টাকা ভাড়া দিত। এখন অধ্যক্ষের পালক ছেলে বা ভাগনে হিসেবে পরিচিত রাজ ও তার আত্মীয় মিসেস তারেককে এই ক্যানটিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আট মাস চালালেও কোনো টাকাপয়সা দেয়নি। আসলে হরিলুট চলছে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ধ্বংস হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।’
বেইলি রোড ক্যাম্পাস : আব্দুল জব্বার ইংরেজি, সোহেল রানা ইংরেজি, শিলা মনি সাহা গণিত ও পদার্থ, তুহিন আখতার রসায়ন, দীপা সরকার হিন্দু ধর্মশিক্ষায়, নাসরিন সুলতানা বাংলায়, মো. ইমরান হোসাইন বাংলায়, নিগার সুলতানা বিজ্ঞানে, খায়রুন নাহার শারীরিক শিক্ষায়, মো. রাশেদুল হক ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায়, মো. নাজমুল হক গণিত বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে স্কুল শাখায় নিয়োগ পেয়েছেন। মূল ক্যাম্পাসের কলেজ শাখায় রাইয়া খান মিম ইংরেজি, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমি শারীরিক শিক্ষায়, ঝুমুর রানী দাস জীববিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই ক্যাম্পাসে সাদিয়া আক্তার আয়া, নূর ইসলাম ঝাড়ুদার, হোসনা আক্তার আয়া, রিক্তা আক্তার অফিস সহকারী, শাহনাজ ঝাড়ুদার, জয়চন্দ্র দাস ঝাড়ুদার ও নিটুল দারোয়ান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
ধানমন্ডি ক্যাম্পাস : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ইরনা হক, নুসরাত নাহার রিপা ও ইয়াসিন আরাফাত; ইংরেজি বিষয়ে শ্রাবণী মিত্র, মেহেনাজ ইসলাম ও তাসলিমা খাতুন নিয়োগ পেয়েছেন। এই শাখায় পিয়ন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ইব্রাহীম হোসেন।
বসুন্ধরা শাখা : গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে ইউ এম হুমায়ুন কবীর, গণিতে মো. লুৎফর রহমান, রসায়নে সানজিদা পারভীন ও বাংলায় সাহারা আহমেদ সারা স্কুল শাখায় নিয়োগ পেয়েছেন। এই ক্যাম্পাসের কলেজ শাখায় বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে শামীমা আক্তার সীমা নিয়োগ পেয়েছেন।
আজিমপুর শাখা : ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে সৈয়দা উম্মে রাহাত ফারজানা ও মোসাম্মাৎ মাহমুদা খাতুন, গণিতে তাহমিনা পলি, গার্হস্থ্যবিজ্ঞানে রাকিবা রহমান, বাংলায় সালমা জাহান, রসায়নে মাসুদ রানা, বিজ্ঞানে সুব্রত দাস, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিশাত সালসাবিন নিয়োগ পেয়েছেন। এ শাখার আয়া হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহানা বেগম।
