ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান সুইটি (২০)। বাসা নিয়ে থাকতেন রাজধানীর মিরপুরে। কিছুদিন আগে ছুটিতে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ সদরের পাঁচুরিয়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। গতকাল রবিবার সকালে বাবা মো. মাসুদ মিয়ার সঙ্গে বাসে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জ থেকে তারা উঠেছিলেন ইমাদ পরিবহনের বাসটিতে। দুর্ঘটনায় বাবা মাসুদ মিয়া বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সুইটি।
মাসুদ মিয়ার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের পাঁচুরিয়া গ্রামে। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকেন। এসেনশিয়াল ড্রাগসে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত। আহত মাসুদকে ভর্তি করা হয় শিবচরের পাঁচ্চর এলাকার ইসলামিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে অঝোরে মেয়ের জন্য কাঁদছেন এই বাবা। শুধু মাঝে মাঝে বলে উঠছিলেন, ‘আমার মেয়েটা জীবিত আছে ভাই?’
সার্টিফিকেট আনা হলো না আফসানার, রোজার কেনাকাটা হলো না মাসুদের : এমএস সার্টিফিকেট আনা হলো না ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা মিমির (২৬)। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার থেকে এমএস করেছেন। আফসানার এই সার্টিফিকেট আনাই যেন কাল হলো। এসব কথা বলে চিৎকার করে আর্তনাদ করছিলেন আফসানার মা কানিজ ফাতেমা। তার আহাজারিতে আশপাশের লোক জড়ো হয়ে তাকে সান্ত¡Íনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছিল না। গতকাল সকালে মা কানিজ ফাতেমা ও ছোট বোন রুকাইয়া ইসলাম রূপা গোপালগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে থেকে আফসানাকে ইমাদ পরিবহনের বাসে উঠিয়ে দেন। তার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আফসানার বাবা আবু হেনা মোস্তফা কামাল একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছোটবেলাতেই আফসানার বাবা মারা যান। অনেক কষ্ট করে আফসানা ও তার বোন রুকাইয়া ইসলাম রূপার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন মা কানিজ ফাতেমা।
অন্যদিকে মুকসুদপুরের মাসুদ খানের (৩০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আদমপুরে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে হওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা পাগলপ্রায়। নিহত মাসুদ খান আদমপুর গ্রামের আঞ্জু খানের ছেলে।
মাসুদের মা সুফিয়া বেগম আদরের ছোট সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ৩ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মাসুদ। এমএ পাস করে ঢাকা পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি দোকানে অনলাইনের কাজ করে। প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসে আমাকে দেখার জন্য। আজ বাড়ি থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় বলে গেছে, “মা, আগামী সপ্তাহে বাড়িতে আসার সময় রোজার বাজার করে নিয়ে আসব।” আমার সন্তান কি রোজার বাজার নিয়ে আর আসবে না?’
