চিনি পেতে কিনতে হবে দুধ আটা

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ০৪:৪১ এএম

সরকার নির্ধারিত দামে প্যাকেটজাত চিনি পেতে হলে এক কেজি গুঁড়োদুধ অথবা ২৪ কেজির আটার বস্তা কিনতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দিচ্ছে কোম্পানিগুলো আর এ শর্ত না মানলে ক্রেতাকে ১৩০ টাকা কেজি দরে চিনি কিনতে হবে। যদিও সরকার প্যাকেটজাত চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১২৫ টাকা। এদিকে কাঁচা বাজারে ধনেপাতার সঙ্গেও শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ধনেপাতার দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় ধনেপাতা পেতে হলে ভোক্তাকে অন্তত তিন ধরনের সবজির ক্রয়ের শর্ত মানতে হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে এই অদ্ভুত চিত্র চোখে পড়ে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার গিয়ে দেখা গেছে,দুধ আটা সরকার নির্ধারিত নতুন দামের চিনি মিলছে না কোনো দোকানে। প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের থেকে ১৫-২০ টাকা বাড়তি দামে। এ ছাড়া ৫ টাকা বাড়তি দামে ১২৫ টাকার খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা করে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কোম্পানিগুলো প্যাকেটজাত চিনির বিক্রি ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। যারা শর্ত মানছেন তারাই শুধু চিনি পাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে কোম্পানির শর্ত হলো, প্রতি বস্তা চিনি পেতে হলে এক কেজি গুঁড়োদুধ অথবা ১২ প্যাকেট সংবলিত ২৪ কেজির এক বস্তা আটা নিতে হবে।

কাঞ্চনপুর হাজী স্টোরের মালিক মো. মিজান দেশ রূপান্তরকে জানান, ফ্রেশ কোম্পানির ডিলাররা আমাদের কাছে চিনির প্যাকেটের গায়ের মূল্যে চিনি বিক্রি করছেন। ২০ কেজির চিনি কিনতে শর্তসাপেক্ষে ২৪ কেজির আটাও চাপিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে এই চিনি কিনে আমাদের ১২৯-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হবে।

একই বাজারের মায়ের দোয়া স্টোর স্বত্বাধিকারী বাবুল মিঞাও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘চিনির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকালে মেঘনার ডিলার আমাদের কাছে চিনি নিয়ে এসেছে। যেখানে তারা আমাদের কাছে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করবে ১২১ টাকা করে সেখানে গায়ের রেট যা আছে তাতেই বিক্রি করছেন। ১২৫ টাকা চিনি বিক্রির পাশাপাশি এক কেজি গুঁড়োদুধ নিতেও বাধ্য করছে।’

জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের আঞ্চলিক ম্যানেজার মো. আশরাফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যে দাবি করছেন এমন কোনো অফার আমাদের নেই। এখনো মার্কেটে আমাদের চিনি আসেনি। তবে আজ থেকে হয়তো আমাদের চিনি পাওয়া যাবে।’

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দাম থেকে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ। শর্তসাপেক্ষে কোনো পণ্য বিক্রি করাও একই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শর্তসাপেক্ষে যদি কোনো কোম্পানি বাজারে চিনি বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। চিনি বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো প্যাকেজ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া চিনির যে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, সে দামেই চিনি বিক্রি করতে হবে ব্যবসায়ীদের। এ ক্ষেত্রে কোনো ভোক্তা যদি আমাদের কাছে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ করেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

এদিকে চিনির মতো শর্তসাপেক্ষে মিরপুর এলাকায়ও ধনেপাতা বিক্রির খবর শোনা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধনেপাতার দাম বাড়ায় অধিকাংশ দোকানি ধনেপাতা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। কিছুসংখ্যক দোকানি তা বিক্রি করলেও অন্তত তিনটি সবজি কেনার শর্ত দেওয়া হয় ভোক্তাদের।

মিরপুর ১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা লাকি আক্তার। গতকাল বাজার থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে নলা মাছ কেনেন এ গৃহিণী। বাসায় ফেরার পথে কয়েকটি দোকান ঘুরে ধনেপাতার খোঁজ পান। তবে কাক্সিক্ষত ধনেপাতা পেতে হলে দোকানির শর্ত রয়েছে। অন্তত তিন ধরনের সবজি কিনলে ২০ টাকার ধনেপাতা বিক্রি করবেন দোকানি।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নবীন নামে এক ক্রেতার প্রশ্নের জবাবে ওই দোকানি জানান, সবজির মধ্যে সব থেকে বেশি ধনেপাতার দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত