ভুয়া বিলে ১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০২:১১ এএম

জাল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে গত ৬ মাসে ৪৮৭ ভুয়া বিল অব এন্ট্রি দিয়ে ১৯ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা প্রণোদনা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভুয়া বিল অব এন্ট্রিতে দেওয়া সব তথ্যই মিথ্যা। কে বা কারা এ কাজে জড়িত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে তা চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

গত সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তৈরি চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বিস্তারিত তদন্ত শেষে এর সঙ্গে জড়িতদের নামে মামলা করা হবে।

এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফকরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছয় মাস ধরে এনবিআরের শুল্ক শাখার কর্মকর্তারা ভুয়া তথ্য দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ প্রণোদনা হিসাবে নিয়ে আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটন করা হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দারা নজরদারি বহু গুণ বাড়িয়েছে। আশা করছি এ অপকর্মের মূলহোতা কে বা কারা, তা বের করতে পারব।

এনবিআরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৩০৬৬৬ নম্বরের ভুয়া বিল অব এন্ট্রিতে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৭০ দশমিক ৭৮ টাকা, ১৩০৬৪৯ নম্বরের ১২ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৮ দশমিক ৯২, ৬২৪৮৪৮ নম্বরের ১৬ লাখ ৫ হাজার ২৯৮, ৬২৪৮৩৮ নম্বরে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪, ৫১৫৯৬০ নম্বরে ৩৮ লাখ ৫ হাজার ৬৯৬, ১৪২৪০৬ নম্বরে ৬ লাখ ৯ হাজার ২৬৫ দশমিক ৭৪, ৫৫১৮৪৬ নম্বরে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৩৭ দশমিক ৮, ৫৫১৮৪৫ নম্বরে ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯৭০ দশমিক ৮৭, ২৯৩৭২২ নম্বরে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৫, ৮৮৮০৫ নম্বরে ৩২ হাজার ৯৪৩, ৬২৪৮৩৪ নম্বরে ১৫ লাখ ১৬ হাজার, ৬২৪৮৫১ নম্বরে ১৫ লাখ ১৬ হাজার, ৬২৪৮৪৩ নম্বরে ১৭ লাখ ৩ হাজার ৯১৫, ২৯৩৭২২ নম্বরে ৩৪ হাজার ৩৭৫ দশমিক ৮, ৮৮৮০৫ নম্বরে ২৮ হাজার ৬১১ দশমিক ৫২ টাকাসহ ৪৮৭টি ভুয়া বিল অব এন্ট্রিতে ১৯ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা প্রণোদনা হিসেবে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনবিআরের তিন গোয়েন্দা শাখার তথ্যের ভিত্তিতে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কাজে এনবিআরের শুল্ক শাখা থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়। যে বা যারা প্রণোদনার অর্থগ্রহণ করেছে তাদের কাগজপত্রে দেওয়া ঠিকানামতো গিয়ে সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে ভাড়া করা ব্যক্তি দিয়ে এ কাজ করিয়েছে। ভাড়া করা ব্যক্তি রা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে একাধিক চক্র নামমাত্র রপ্তানি করে বা একেবারেই রপ্তানি না করে ভুয়া বিল অব এন্ট্রি দিয়ে প্রণোদনা নিয়ে চলেছে। অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভুয়া বিল এন্ট্রি দিয়ে প্রণোদনা নিতে বড় অঙ্কের অর্থবিনিময় এ চক্রের সহায়তা নিয়ে থাকে। এ চক্র ভাড়া করা লোক দিয়ে এ অপকর্ম করে থাকে। এর আগে এনবিআরের তদন্তে বিল অব এন্ট্রি ব্যবহার করে প্রণোদনার অর্থ আত্মসাৎ করেছে এমন কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও এ চক্রের মূলহোতারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রসঙ্গত, সরকার রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে রপ্তানির বিপরীতে ১ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ৩৭টি খাতে প্রণোদনা সুবিধা দিয়ে থাকে। বিল অব এন্ট্রি হলো একটি আইনি নথি, যা আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শুল্ক বিভাগে জমা দিয়ে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে থাকে। এন্ট্রিতে পোর্ট কোড, ব্যবসায়ের লাইসেন্স নম্বর, আমদানিকারকের নাম এবং ঠিকানা, কাস্টম হাউজ এজেন্ট কোড, আমদানিকারকের রপ্তানি কোড (আইইসি), মূল দেশ, চালানের দেশ, চালানের বন্দর, জাহাজের নাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হয়। রাজস্ব আইন অনুসারে বিল অব এন্ট্রি দাখিলের পর শুল্ক কর্মকর্তারা আমদানি-রপ্তানি করা পণ্যগুলো পরীক্ষা করবেন। অনেক সময় লোকবলের অভাবে এ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় অসাধু চক্রের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দুর্নীতিবাজ শুল্ক কর্মকর্তারা সহায়তা করে থাকেন। এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনবিআরের তদন্তে অসাধু শুল্ক কর্মকর্তাদেরও চিহ্নিত করা হবে।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব জায়গায় ভালোমন্দ দুটোই থাকবে। সৎ ব্যবসায়ীরা নিয়মমতো ব্যবসা করে বলেই সরকারের রপ্তানি বাড়ছে, রাজস্ব পাচ্ছে। সৎ ব্যবসায়ীরা চান অসৎ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হোক।

ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ভুয়া বিল অব এন্ট্রি দেখিয়ে প্রণোদনার অর্থ আত্মসাৎ বরে চলেছে। এদের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব না। অবশ্যই এনবিআরের কিছু অসাধু ব্যক্তি এ কাজে জড়িত। আর তাই এই অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত