সাগরপাড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৪২ এএম

যে বঙ্গোপসাগরের একটা অংশের পাশ ঘেঁষে সাগরিকার জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অবস্থান, সেই বঙ্গোপসাগরেরই আরেক অংশ করোম-ল সৈকত ঘেঁষে চেন্নাই শহর। সাগর থেকে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামও খুব কাছে। চট্টগ্রাম বরাবরই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পয়া ভেন্যু। দুঃসময় পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াবার অনেক গল্পই বাংলাদেশ লিখেছে বঙ্গোপসাগরের পাড়ে। সাগরিকার তীরের সেই একই ঢেউ, সেই জল তো আছড়ে পড়ে চেন্নাইয়ের ম্যারিনা সৈকতেও। ইংল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হারের পর ঘুরে দাঁড়াবার গল্পটা কি বাংলাদেশ এই চেন্নাইতেই লিখবে?

প্রতিপক্ষের নাম নিউজিল্যান্ড বলে আশাও আছে, আশঙ্কাও আছে। কিউইদের মুখোমুখি হওয়া ৪১ ম্যাচের ভেতর জিতেছে বাংলাদেশ ১০ ম্যাচে। ৮টা ম্যাচ দেশের মাটিতে, ২টা ইংল্যান্ডে এবং আয়ারল্যান্ডে। বিশ্বকাপে যে ৯ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে, তাদের ভেতর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই বাংলাদেশের জয় সবচেয়ে বেশি। বিশ্বকাপে এসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের সমান ১০ জয় হয়েছে। গাণিতিক সম্ভাবনা তাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ভয়টা সেই গাণিতিক সম্ভাবনাতেই। সেই ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান থেকে শুরু করে ২০১৯ অবধি, একমাত্র ২০১১ বিশ্বকাপ বাদ দিলে সব আসরেই নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ফল ৫-০। সবচেয়ে ভালো ফল গত বিশ্বকাপে, ২ উইকেটের হার।

চেন্নাইতে মাঠে নামার আগে নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের দুটো ম্যাচেই জিতেছে। এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা হচ্ছে কেন উইলিয়ামসনের। নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এই বছর আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই লিগামেন্ট ইনজুরিতে পড়েন, এরপর আর খেলা হয়নি তার। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে, উইলিয়ামসন আজ  প্রত্যাবর্তন করবেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে। কাল চেন্নাই স্টেডিয়ামে, ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন উইলিয়ামসন, জানিয়েছেন ‘এখানে বসতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।’

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ককে মাঠে ফিরতে দেখে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিমের। ওভালে তাকে রানআউট করার সুযোগটা হাতছাড়া না করলে হয়তো অন্যরকম হতো ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিযাত্রা। সেই উইলিয়ামসন ২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন, চোট থেকে সেরে উঠতে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ দর্শকের আসনে থাকার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটাই বেছে নিয়েছেন। উইলিয়ামসনের ফেরার সঙ্গে চেন্নাইয়ের মাঠে এখানেই আইপিএলে খেলে ঘরের ছেলে বনে যাওয়া ডেভন কনওয়ে এবং মিচেল স্যান্টনারের যুগলবন্দিও যে সামলাতে হবে, সব জয়ের হিসাবটা মেলানো কঠিন এখানে।

বাংলাদেশের সমস্যা অনেক। যে সাধের পেস আক্রমণ নিয়ে গর্ব ছিল, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই গর্ব অনেকটাই চুরমার। মিক্সড জোনে তাসকিন প্রকাশ করেছিলেন হতাশা। কাল বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে এসে আড়াল ভেঙে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ দলের একজন ক্রিকেটার, এতদিন কোচিং স্টাফের কেউ একজনই আসছিলেন। সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পেসারদের ভেতর কোনো হতাশা দেখেন না, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, কোনো পেসারই হতাশ নন। সবাই ঠিক আছে। এখানে উইকেটটাই এমন। রান স্বাভাবিকভাবে একটু বেশিই দেবে। কারণ আমরা সচরাচর দেখি না যে আমাদের পেসাররা দশ ওভারে ৬০-৬৫-৭০ দেয়। তো হঠাৎ করে মনে হচ্ছে যে অনেক খারাপ বোলিং হচ্ছে। সবাই এই বিষয়টা নিয়ে অবগত আছে যে এখানে উইকেটটা কতটা ভালো।’ বর্তমান প্রচেষ্টার দশ ভাগ বাড়ালেই ফল আসবে বলে মনে করেন শান্ত, ‘সবারই একটা প্ল্যান আছে। তারা ঐভাবেই কষ্ট করছে। আমার মনে হয় পেসাররা এখন যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থা থেকে যদি আর দশ ভাগ উন্নতি করা যায় তবে আমি বিশ্বাস করি যে আমরা ভালো অবস্থানে যেতে পারব।’

এখানেই ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দুই বাঁহাতি স্পিনার কুলদীপ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণিতে ভারত নাচিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। শান্ত তাই আশাবাদী বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ে, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। আমরা এর আগে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দেখেছি। উইকেটটা স্পিননির্ভর ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের স্পিনারদের অনেক সাহায্য করে এটা। উইকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। আমাদের পরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের কী করতে হবে সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। একই কথা মনে করেন উইলিয়ামসনও, ‘দুই দলেরই ভালো স্পিনার আছে। আমার মনে হয় স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখবে কাল।’

বাংলাদেশে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ আর শেখ মেহেদি হাসান। নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে ইশ সোধি আর গ্লেন ফিলিপস। এখানে হয়তো লড়াইটা সমানে সমান। কিন্তু সমস্যা যে অন্যত্র। নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারের তিন, ডেভন কনওয়ে, রাচিন রবীন্দ্র আর উইল ইয়ং; এদের তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে কম রান ইয়ংয়ের, সেটাও ৭০। আর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান লিটনের, দুই ইনিংসে ৮৯! নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার ইস্পাতদৃঢ় আর বাংলাদেশের, তাসের ঘর। এখানেই তো হয়ে যায় ম্যাচের ফয়সালা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত