দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি রয়েছে মাত্র আড়াই মাস। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ও জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময়ে শূন্য হওয়া তিনটি আসনের উপনির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, নির্বাচন নিয়ে আইনে কোনো বাধা না থাকলেও যারা সংসদ সদস্য হবেন তারা স্বল্প সময় পাবেন। ফলে সংসদীয় কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না তারা।
চলতি একাদশ সংসদ যাত্রা শুরু করেছিল ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। গত ২২ অক্টোবর একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি এই সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবে। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। গত মাসের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সাত্তার ভূঞা এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল মৃত্যুবরণ করেন। ১ অক্টোবর সংসদ সচিবালয় থেকে আসন দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী এই দুটি আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৫ নভেম্বর।
অন্যদিকে পটুয়াখালী-১ আসনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২১ অক্টোবর সংসদ সদস্য ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ নভেম্বর। আর ভোটগ্রহণ ২৬ নভেম্বর। ভোটগ্রহণ হবে ব্যালট পেপারে।
কোনো সংসদ সদস্যের মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে জাতীয় সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে উপনির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে হয়। আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এই উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের পদ শূন্য হলে সেই স্থানীয় সরকারের মেয়াদ পূর্তির আগের নব্বই দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করা যায় না। তবে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অর্থাৎ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল হওয়ার পরও ভোটের তারিখ রাখতে না পারার বিষয়ে আইনে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হবে আগামী ২ নভেম্বর। আর এর পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে নির্বাচনের তফসিল। ফলে এসব আসনে উপনির্বাচন করা হলেও এখানে যারা নির্বাচিত হবেন তারা সংসদ সদস্য হবেন খুব অল্প সময়ের জন্য। সংসদের শেষ অধিবেশন চলমান রয়েছে, শেষ হবে ২ নভেম্বর। সংবিধানে বলা আছে, সংসদের একটি অধিবেশন থেকে আরেকটি অধিবেশনের মধ্যে বিরতি ৬০ দিনের বেশি হবে না। তবে জাতীয় নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ৯০ দিনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। সাধারণত এ সময়ে অধিবেশন আহ্বান করা হয় না।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল এই নির্বাচনের তফসিলের মধ্যেই ঘোষণা হবে, তাহলে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জাহাংগীর আলম বলেন, সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ হচ্ছে ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এই পর্যন্ত এই উপনির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। সাংঘর্ষিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই নির্বাচনের মধ্যেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটা হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে উপনির্বাচনের তফসিল, আরেকটা হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। সম্পূর্ণ ভিন্ন তফসিল, ভিন্ন বিষয়।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিতরা শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ বলবৎ থাকবে। কাজেই উপনির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হবেন শপথ নিয়ে ওই সময় পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। একই ব্যক্তি যদি দুটি নির্বাচনেই মনোনয়ন পান, তাহলে তিনি নির্বাচন করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে শপথ নেবেন।