গরমে বিপর্যস্ত পর্তুগালের জনজীবন। গত দুই সপ্তাহে ইউরোপের এই দেশটিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে তীব্র তাপমাত্রার কারণে।
অবশ্য, শুধু পর্তুগালেই নয়, গোটা ইউরোপজুড়েই চলছে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ক্রোয়েশিয়ায়ও ভয়াবহ গরম পড়ছে।
পর্তুগালের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ (ডিজিএস)-এর প্রধান গ্রাসা ফ্রেইটাস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘পর্তুগাল ... বিশ্বের এমন অঞ্চলগুলোর একটি যা প্রচণ্ড গরমে (আরও) প্রভাবিত হতে পারে। আর তাই উচ্চ তাপমাত্রার সময়ের জন্য আমাদের আরও বেশি করে প্রস্তুত থাকতে হবে’।
রয়টার্স বলছে, খরা-পীড়িত পর্তুগালে গত সপ্তাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে গেছে। যদিও চলমান এই তাপপ্রবাহ গত কয়েকদিনে কিছুটা কমেছে, তারপরও বছরের এই সময়ের বিবেচনায় তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিক মাত্রার ওপরেই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ফ্রেইটাস।
এদিকে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে পর্তুগালে গত ৭ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ২৩৮ জনের মৃত্যুর কথা আগেই জানিয়েছিল ডিজিএস। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান গ্রাসা ফ্রেইটাস বলছেন, গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত পর্তুগালে তাপপ্রবাহে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ জনে।
সম্প্রতি পর্তুগালে বেশ কয়েকটি দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ তাপমাত্রা, চলমান খরা এবং নিম্নমানের বন ব্যবস্থাপনাকে পর্তুগালজুড়ে দাবানলের জন্য দায়ী করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা স্পেনসহ অন্যান্য দক্ষিণ ইউরোপীয় দেশগুলোতেও দাবানল মোকাবিলায় লড়াই করছে।
পর্তুগালের লিসবন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের গবেষক কার্লোস আন্টুনেস একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বয়স্ক মানুষরা।
শুধু পর্তুগালেই নয়, গোটা ইউরোপেই ভয়াবহ গরম পড়ছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ক্রোয়েশিয়ায়ও গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। যুক্তরাজ্যে গত সোমবার থেকে গরমের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দেশটিতে কোনো কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরেও উঠে গেছে। বুধবার তা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসময় সাধারণত যুক্তরাজ্যের গড় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকার কথা ছিল।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও আগুন লেগেছে। তীব্র গরমে আগুন লেগে গেছে জঙ্গলে এবং ঘাসজমিতে। দমকলকর্মীরা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছেন আগুন নেভানোর কাজে। কিন্তু সব জায়গায় এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি লন্ডনে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। অধিকাংশ বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র নেই। পাখা চালানোর চলও নেই বিশেষ। ফলে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মানুষ। লন্ডনে কয়েকটি বাড়িতেও আগুন লেগেছে।
