পাকিস্তানের জারনওয়ালা শহরে কোরআন অবমাননার অভিযোগে পাঁচটি গির্জায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। গতকাল বুধবার পাঞ্জাবের ফয়সালাবাদ জেলার শহরটিতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত জনতা গির্জা সংলগ্ন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কয়েকজনের বাসভবনেও ভাঙচুর চালায়।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে, এ ঘটনায় ফয়সালাবাদ জেলা প্রশাসন সাত দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের সমাবেশ।
ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা পাকিস্তানে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও এ আইনে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তবে এ ধরনের অভিযোগ ওঠার পর উন্মত্ত জনতার হাতে অনেকেই খুন হওয়ার নজির রয়েছে।
পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশই মুসলিম। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পুলিশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের কাছে পবিত্র কোরআনের কয়েকটি পাতা পাওয়া গেছে যেখানে লাল কালিতে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য লেখা ছিল বলে পুলিশ দাবি করছে।
এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব সরকার। অন্যদিকে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার উল হক কাকর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারী উন্মত্ত জনতার বেশিরভাগই মূলত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান বা টিএলপির সঙ্গে জড়িত। যদিও টিএলপি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। খ্রিস্টান পরিবারগুলো যখন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল তখন তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।