চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন শেষে শুধু চাকরির জন্য ঘুরবেন, এটা যেন না হয়। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অন্যের চাকরির উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’ গতকাল শনিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চতুর্থ সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সমাবর্তন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের স্কলার হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিদ্যালয়গুলোকে আরও সফট স্কিল, ইমোশনাল স্কিলের সঙ্গে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেগুলো যদি আমরা শিক্ষার্থীদের দিতে না পারি, উচ্চ শিক্ষার যে উদ্দেশ্য তা সফল হবে না। কাজেই আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে।’
দীপু মনি আরও বলেন, ‘দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষা প্রসারে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমানতালে ভালো করছে। তাদের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রদানে যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রাখছে। আমি আশা করি, আগামী দিনে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব র্যাংকিংয়ে স্থান করে নেবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্ব দিতে হবে গবেষণা ও নতুন জ্ঞান আহরণে। সেজন্য উন্নত মানের গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার এসব তৈরি করতে হবে। করোনা মহামারী সংকটের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিয়েছে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম হয়তো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের শুরু করতে হতো। কিন্তু করোনা আমাদের সেই দুয়ার আগেই খুলে দিয়েছে। অনলাইন লার্নিং, অনলাইন এডুকেশন আমরা শুরু করেছি এবং এখানে আমরা এখন দক্ষ হয়ে উঠেছি।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। তবে প্রত্যেক গ্রাজুয়েটকে মনে রাখতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলেও জীবনের পাঠশালা প্রতিনিয়ত শেখাবে। আপনাদের নতুন চিন্তাধারাই সমাজ এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে সরকারের ইতিবাচক চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন। সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সমাবর্তনের মাধ্যমে শুধু গ্র্যাজুয়েশন পর্বের সমাপ্তির ঘটছে না, বরং আজ থেকে জীবনের আরও একটি পর্বের সূচনা হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফায়জুর রহমান। সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং ১৩ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়।