গাজীপুরে পোশাক খাতে অস্থিরতা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৩৮ এএম

গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় বন্ধ করে দেয় বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা। গতকাল শনিবার কোনাবাড়ী, মৌচাক কাশিমপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এ ছাড়া জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় গত চার দিনের আন্দোলনে কারখানা ও যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৯ জনকে।

সম্প্রতি পোশাকশ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে তারা ন্যূনতম বেতন ২৩ হাজার টাকা দাবি করেছেন। এই দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরসহ কয়েকটি স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন।

গতকাল দিনভর কোনাবাড়ী, মৌচাক কাশিমপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে আসেন। পরে তারা ওই মহাসড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। শ্রমিকরা দোকানপাটে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে কাচ ভাঙচুর করেন। ভাঙচুরের আশঙ্কায় কোনাবাড়ী এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।

দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

কোনাবাড়ী থেকে মিছিল সহকারে শ্রমিকরা ভোগড়া বাইপাস হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ দিয়ে কলম্বিয়া গার্মেন্টস পর্যন্ত যান। সেখানে তারা বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।

গত ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা ও মৌচাক এলাকার শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছে। এ সময় কারখানায় ভাঙচুর, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

কোনাবাড়ী তুষকা নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আমেনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বেতন ৮ হাজার টাকা। এই টাকায় আমাদের সংসার চলে না। এ কারণে আমাদের খুবই সমস্যা। আমরা চাই আমাদের বেতন ২৩ হাজার টাকা যেন করা হয়।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কোনাবাড়ী জোন) মো. আসাদুজ্জামান শ্রমিকদের বিক্ষোভ অবরোধের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর থেকে কালিয়াকৈরে উপজেলার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা টানা চার দিন বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। উপজেলার মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় যানবাহন ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ভাঙচুরের ঘটনায় তেলিরচালা এলাকার বে-ফুটওয়্যার কারখানার কর্মকর্তা এনামুল হক বাদী হয়ে ২৩ অক্টোবর রাতে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে এক হাজার ব্যক্তিকে। এ ছাড়া পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর রাতে কালিয়াকৈর থানার ওসি (তদন্ত) সাব্বির রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এসব মামলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে গত শুক্রবার রাতে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে আছেন কালিয়াকৈর উপজেলার বাসাকৈর এলাকার লোকমান হোসেন, ফুলবাড়িয়া এলাকার আনিসুর রহমান, চান্দরা মন্ডলপাড়া এলাকার আল আমিন মন্ডল, চান্দরা এলাকার আল আমিন ও হাবিব উদ্দিন দেওয়ান, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আমিরুল ইসলাম বিপ্লব, তেলিরচালার রায়হান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মনিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের সেলিম রেজা, বগুড়ার ধুনটের আলমগীর হোসেন শেখ, রূপেন সরকার, তারেক আজিজ, সুজন বাইন, সেলিম রেজা পাপ্পু, রুবেল, লোকমান ও মনিরুল।

কালিয়াকৈর থানার ওসি (তদন্ত) সাব্বির রহমান জানান, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা বেশিরভাগই শ্রমিক নন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত