কেউ কেউ জীবনেও ভুলবেন না মাখোঁর এ সফর

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৯ পিএম

ফরাসি প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময়সীমা ছিল ২৪ ঘণ্টারও কম। রবিবার রাত ৮টার পর ঢাকায় পা রাখেন তিনি। সোমবার বিকেলেই আবার উড়াল দেন ফ্রান্সের উদ্দেশে। সংক্ষিপ্ত এ সফরের পুরো সময়টা অবশ্য মাখোঁ মাতিয়ে রেখেছিলেন অনেককে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে চায়ের দোকানি, নৌকার মাঝি, সংগীতশিল্পী সবাই পেয়েছেন তার স্পর্শ । তাদের কেউ কেউ জীবনেও ভুলবেন না ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সফরটি।

সফরের প্রথম দিন রবিবার রাতে গানের দল ‘জলের গান’র সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী রাহুল আনন্দের ধানমন্ডির বাসার স্টুডিওতে যান মাখোঁ। সেখানে বসে তিনি গান শোনেন। যা তাকে বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। শুধু গান শোনা নয় মাখোঁ উপহার হিসেবে পেয়েছেন একতারা। রাহুল আনন্দকে দিয়েছেন কলম উপহার।

সোমবার মাখোঁ যান ঢাকার গাবতলীর পাশে তুরাগ নদে। সেখানে নৌকা ভ্রমণ করেন। মাঝিমাল্লাদের নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। জেলেদের জাল ফেলে মাছ ধরাও দেখেছেন। স্থানীয় দোকানিদের সঙ্গে কথা বলেন। চা বিক্রেতার সেলফির আবদারও মিটিয়েছেন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে গাবতলীর কাছে আমিনবাজারের বড় বাজারে তুরাগ পাড়ে যান মাখোঁ। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত করেন।

সেখানকার মিষ্টির দোকানের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আমার দোকানে আসবে আমি এটা ভাবতেও পারিনি। তিনি আমার দোকান ঘুরে দেখেছেন। আমি তাকে শিঙারা, জিলাপি ও চমচম দিলাম খাওয়ার জন্য। তিনি একটি শিঙারা সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন, বললেন তিনি সেটা খাবেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির পানসি নামের নৌকায় তুরাগ নদ ঘুরে দেখেন। নৌকার মাঝি ছিলেন আব্দুল হালিম। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নৌকা চালানো আব্দুল হালিমের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা এটি।

জানতে চাইলে আব্দুল হালিম বলেন, উনি প্রায় আধা ঘণ্টা নৌকায় ছিলেন। আমার জীবনে এমন একটা দিন যাবে চিন্তাও করিনি। সাধারণ মানুষ আমরা, ভাগ্যে ছিল বলে এত বড় একটা মানুষকে দেখতে পেরেছি।

মিরপুর ইকো পার্কের চায়ের দোকানদার মো. রাকিব একটি সেলফি তুলেছেন মাখোঁর সঙ্গে। সেই সেলফি ইতিমধ্যে ফেসবুকে পোস্টও করেছেন। ২৪ বছরের রাকিবের কাছে ঘটনাটি এখনো স্বপ্নের মতো।

রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছে। তারপর বলেছেন ‘সেলফি’, এরপর ফোন বের করে সেলফি তুললাম। তিনি আমার ঘাড়ে প্রায় এক মিনিটের মতো হাত রাখেন। তার মতো মানুষ আমার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন, হাত মিলিয়েছেন-এটা অনেক কিছু।’

মিরপুর বড় বাজার ইকোপার্কের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘এটি এক অবাক কাণ্ড। আমরা সবাই হতবাক হয়েছি। এই অনুভূতি অন্যরকম। ইতিহাস হয়ে থাকল’।

সাভার আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘ফরাসি রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের তুরাগ নদে আগমন উপলক্ষে আমরা তিন-চার দিন ধরে তুরাগ নদ ঘুরে ঘুরে এবং আমিনবাজার, কাউন্দিয়া, বিরুলিয়া এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নদের আশপাশে পরিদর্শন ও উপভোগ করেন তিনি।’

সফরের প্রথম দিনে রবিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাহুল আনন্দের বাসায় যান মাঁখো। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অতিবাহিত করেন। রাহুল আনন্দের জন্যও ঘটনাটি অবিস্মরণীয়।

তিনি বলেন, ‘ফরাসি প্রেসিডেন্ট যে আমার বাড়িতে কিংবা স্টুডিওতে আসতে চাইবেন, এটি ধারণাও করতে পারিনি’।

ফরাসি প্রেসিডেন্টকে একতারা উপহার দিয়েছেন রাহুল। অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে একতারা বাজাতে হয় সেটি শিখিয়ে দিয়েছেন, সঙ্গে গান করেছেন। শুনিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস। প্রেসিডেন্ট মাঁখো যে কলমে লেখেন, সেইরকম একটি কলম রাহুলকে উপহার দিয়েছেন। তার দেওয়া কলমে রাহুল লিখবেন, এমন প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছেন।

রাহুল বলেন,‘বাউলরা কীভাবে একতারা বাজিয়ে গান করেন সেটা দেখিয়েছি। আমি একটু লালন সাঁইজির গান শোনালাম। আমি প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের কয়েকটা লাইন গেয়ে শোনালাম। তিনি একতারা কীভাবে বাজায় শিখতে চাইলেন। আমি শেখালাম। তিনি যেহেতু সংগীতশিল্পী, খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুরোটা শিখে গেলেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত