সব মাথাব্যথা মাইগ্রেন নয়

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ১০:৩৩ পিএম

প্রাত্যহিক জীবনে যে কটি বিষয় কষ্ট দেয় তার মধ্যে অন্যতম মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা। মেয়েদের এ সমস্যা বেশি। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে এ রোগ শুরু হয়। যেকোনো পেশার মানুষেরই মাইগ্রেন হতে পারে। তবে সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় রক্তক্ষরণ প্রভৃতি কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। মনে রাখতে হবে, মাইগ্রেন এক ধরনের প্রাইমারি হেডেক, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। আর মাইগ্রেনের ব্যথা চোখের কোনো সমস্যার জন্য হয় না।

মাইগ্রেন কী?

মাইগ্রেন মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে বিস্তৃত হতে থাকে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে, সেগুলো মাথাব্যথার শুরুতে স্ফীত হয়ে ফুলে যায়। এ ছাড়া মাথাব্যথার সঙ্গে বমি এবং বমি বমিভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।

কেন ও কাদের হয়

মাইগ্রেন অজ্ঞাত বা বংশগত কারণে হতে পারে। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় বেশি দেখা দেয়। চকলেট, পনির, কফি বেশি পান করা, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ সেবন, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, অনিদ্রা, দীর্ঘক্ষণ টিভি বা কম্পিউটারে কাজ, মোবাইলে অতিরিক্ত কথা বলা ইত্যাদি কারণে এ রোগ হতে পারে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত আলো এ রোগকে ত্বরান্বিত করে।

সাধারণ মাইগ্রেন : মাথাব্যথা, বমিভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে অতিরিক্ত হাই তোলা, কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তি বোধ ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর হওয়ার আগে হতে পারে। মাথার এক অংশ থেকে শুরু হয়ে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ল্যাসিক্যাল মাইগ্রেন : দেখতে সমস্যা, চোখে উজ্জ্বল আলোর অনুভূতি, হঠাৎ অন্ধকার হওয়া, দৃষ্টিসীমা সরু হয়ে যাওয়া, এক পাশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ইত্যাদি । ২০ মিনিট স্থায়ী এসব উপসর্গের পর বমির ভাব এবং মাথাব্যথা শুরু হয়, যা সাধারণত এক পাশে হয়। দৃষ্টির সমস্যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে ধরে নিতে হবে এটা মাইগ্রেন নয়।

প্রতিকার

মাইগ্রেন চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক এবং প্রতিরোধক ওষুধের পাশাপাশি নিয়ম মেনে চললে মাইগ্রেন কমে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ও পরিমিত ঘুমাতে হবে। অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা। তীব্র রোদ বা ঠা-া পরিহার। উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা। বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা। মাইগ্রেন শুরু হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান (বিশেষ করে বমি হলে), বিশ্রাম করা, ঠা-া কাপড় মাথায় জড়িয়ে রাখা।

মাইগ্রেন প্রতিরোধক খাবার

 ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার, যেমন : ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি।  বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ফল।  সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি।  ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি-সমৃদ্ধ তিল, আটা ও বিট।  আদার টুকরো, আদার রস বা জিরার পাউডার দিনে দুবার পানিতে মিশিয়ে পান করা।

কোন খাবার বাদ দেবেন

 চা, কফি ও কোমলপানীয়।  চকলেট, আইসক্রিম ও দই।  ডেইরি প্রোডাক্ট।  টমেটো ও সাইট্রাসজাতীয় ফল।  গমজাতীয় খাবার, যেমন : রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি।  আপেল, কলা ও চীনাবাদাম।  অতিরিক্ত পেঁয়াজ।

ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কোন কোন খাবার ও কোন কোনো পারিপার্শ্বিক ঘটনায় ব্যথা বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে খেয়াল রাখতে হবে। ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত