১৭ শতকে ডুবে যাওয়া জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাশ্চর্য এক পোশাক। সিল্ক সার্টিনের ওপরে রুপার কারুকাজ করা আকর্ষণীয় ওই পোশাকটিকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিয়ের গাউন। লিখেছেন নাসরিন শওকত
১৬৬০ সালের কথা। মূল্যবান ধনরত্ন ও বিলাসবহুল পণ্যের ভান্ডারবোঝাই একটি জাহাজ উত্তর সাগরের বুক দিয়ে বয়ে চলেছে। এই সাগর তীরবর্তী নেদারল্যান্ডসের টেক্সেল উপকূল পাড়ি দেওয়ার সময় জাহাজটি ডুবে যায়। প্রায় চার শতাব্দী পর জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়ায় গেছে, সিল্ক সার্টিনের ওপরে রুপার কারুকাজ করা জমকালো একটি বিয়ের গাউন। বিস্ময়কর শোনালেও পোশাকটি এখনো অক্ষত রয়েছে। ১৭ শতকের গাউনটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দুষ্পাপ্য হয়ে উঠেছে। নেদারল্যান্ডসের কাপ স্কিল জাদুঘরের শোভা পাচ্ছে প্রাচীনকালের সাক্ষী এই পোশাকটি ।
ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাগর তলে জমা থাকা প্রত্নবস্তু নিয়ে ইতিহাসবিদদের আগ্রহের শেষ নেই। প্রাচীন এসব নিদর্শনের গল্প যখন আমাদের সামনে আসে, তখন অনেক অজানাকে জানা হয়। শত শত বছর আগের ইতিহাস সামনে চলে আসে। এমনই এক ইতিহাসের অমূল্য নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গেছে ১৭ শতকে ডুবে যাওয়া এক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে। জানা যায়, তাল কাঠের তৈরি জাহাজটির মালিক ছিলেন অজ্ঞাত এক ডাচ বণিক। দীর্ঘ প্রায় চার শতাব্দী পরও সাগরের গভীর তলদেশে ডুবে থাকা জাহাজটির সামান্য অংশ অক্ষত ছিল।
২০১০ সালের কথা। প্রথমবারের মতো টেক্সেলের পূর্বের ওয়াডেন সাগরের অংশের বার্গজান্ডের তলদেশে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের ভাঙা অংশ দেখা দেয়। কিন্তু তার পরের চার বছর সেটির ওপর থেকে পলি ও বালি অপসারণে লেগে যায়। ধ্বংসাবশেষটিকে সাগরের প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মিটার গভীরে আবিষ্কার করা হয়েছিল। প্রথমে সোনার চিত্রে ধারণ করা হয় এটিকে । এরপরই গবেষকদের দল সেখানে যায়। তারা একটি অত্যাধুনিক রোভ (আরওভি) ক্যামেরার সাহায্যে সেটির অসংখ্য ছবি তোলেন। অবশেষে ২০১৪ সালের গ্রীষ্মের এক দিন, বার্গজান্ডের তলদেশে থাকা ধ্বংসাবশেষটি থেকে নিদর্শনগুলো পুনরুদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন ডুবুরিরা।
ধ্বংসাবশেষটির ওপরের অংশে উচ্চমানের ভারী তাল কাঠের তৈরি গুঁড়ি দেখতে পাওয়া যায়, যা সম্ভবত জাহাজটির আসল ডেক ছিল। গবেষকদের ধারণা, জাহাজটি ৩৬৩ বছর আগে টেক্সাল উপকূলে ডুবে গিয়েছিল। তাই সেটির নাম জানা প্রায় অসম্ভব। তবে জাহাজের নাম জানা না থাকলেও এর ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা রত্নভান্ডারের বিলাসদ্রব্যগুলো একে একে নিজেদের গল্প বলে চলেছে। সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসছে ১৬০০ শতকের উচ্চবিত্ত সমাজের মানুষদের জীবন কেমন ছিল। উদ্ধার করা ওই ধ্বংসাবশেষে বেশ কটি সিন্দুক রয়েছে, যা পোশাক, হাতে বোনা কাপড়, রুপার পাত্র, চামড়ায় বাঁধানো বই ও অন্যসব সামগ্রীতে ঠাসা ছিল।
ধারণা করা হয়, নিদর্শনগুলো কয়েক শতাব্দী আগের। সে সময়ের সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষদের ছিল। মহামূল্যবান ও৪ অত্যাশ্চর্য এই নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে সিল্ক সার্টিন কাপড়ে তৈরি দুটি জমকালো গাউন। এর একটি সিল্ক সার্টিনের সাধারণ পোশাক আর অন্যটি রুপার টুকরো দিয়ে কারুকাজ করা একটি বিয়ের গাউন। এগুলো প্রায় অক্ষত ৪অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস কাপ স্কিল জাদুঘরের গবেষকরা জানান, ওই ধ্বংসাবশেষ যখন খোলা হয়, তখন এর ভেতরে থাকা মূল্যবান সব প্রত্নতাত্ত্বিক রত্নভান্ডার অভিভূত করে তাদের। কারণ তারা এমন সব নিদর্শন সেখানে খুঁজে পান, যা এর আগে কখনোই দেখেননি। ঐতিহ্যবাহী এই নিদর্শনগুলো বর্তমানে কাপ স্কিল জাদুঘরের প্রদর্শনীতে শোভা পাচ্ছে।
প্রাচীন গাউন
কারুকাজ করা আকর্ষণীয় পোশাক কার না ভালো লাগে। কিন্তু একবার ভাবুন তো, যদি সেই পোশাকটি হয় ৩৬৩ বছর আগের এবং অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় সেটি, তবে তা কেমন রোমাঞ্চকর হবে?
২০১৪ সালের তাল কাঠের জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকটি সিন্দুক উদ্ধার করা হয়েছিল। এর একটিতে দামি সিল্ক সার্টিনের তৈরি গাউন দুটি একসঙ্গে পাওয়া গেছে। সিল্কের প্রথম পোশাকটিকে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত করা হয়। ৩৬৩ বছর আগে সাগরতলে ডুবে থাকা পোশাকটি দেখে মনে হচ্ছিল, এটি এমন একটি পোশাক যা চাইলেই গায়ে পরে হেসেখেলে অনেক দিন পার করে দেওয়া যাবে। প্রথম পোশাকটিতে সিল্ক সার্টিনের মিশেলে নকশা বোনা রয়েছে, যাতে হাতে বোনা একটি ফুলের প্যাটার্নও আছে। এর ওপরের অংশে রয়েছে একটি টপস, যার দুটি হাতা ফ্লপের মতো দেখতে। আর এর নিচের অংশটি পুরো প্লেট দেওয়া একটি স্কার্ট, যার সামনের দিকে খোলা। ১৬২০ থেকে ১৬৩০ সালের দিকে পশ্চিম ইউরোপে এ ধরনের পোশাকের প্রচলন ছিল।
পুরো গাউনটির নিচের অংশ স্কার্ট, সঙ্গের হাতা দুটো সম্ভবত সিল্কের, যা তিনটি অংশে কাটা থাকায় একদম ঝালরের মতো শোভা পাচ্ছে। আর রুপা বা সোনার তৈরি বোতামগুলো জ্বলজ্বল করছে। লিলেন বা বিশেষ লেইস দেওয়া ওঠানো গলায় রয়েছে নানা অলংকরারের সাজ। পুরো পোশাকটির রঙ তিনটি ঘিয়ে, লাল আর বাদামি। তবে গবেষকদের বিশ্বাস, প্রথমে হয়তো পোশাকটি এক রঙেই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আসল রঙ বিবর্ণ হয়ে বহুরঙ ধারণ করেছে। কারণ এটি যে সিন্দুক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে অন্য আরও পোশাক ছিল। এদিকে পোশাকটির কাপড়ের নকশাগুলো বেশ জটিল ও দামি হওয়া সত্ত্বেও দেখে মনে হয়েছে, সেটি সম্ভবত দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে রুপার কারুকাজ করা বিয়ের পোশাকটি সম্ভবত বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যা একটি আলাদা টুকরো হিসেবে পাওয়া গেছে। এর দুটি অংশ। ওপরের অংশে রয়েছে একটি টপস আর নিচের অংশটি স্কার্ট। পোশাকটির বিশেষত্ব হলো, এতে রুপালি সুতার কারুকাজ করা লেস দিয়ে নকশা করা হয়েছে, যা হৃদয় আকারের গিঁট দিয়ে পোশাকটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে রয়েছে ওপরে সেলাই করা ডিস্ক আকারের রুপার টুকরো।
বিয়ের দুষ্পাপ্য এই পোশাকটি নিয়ে গবেষণা করেছেন প্রাচীন কাপড় পুনরুদ্ধারকারী ও এর উপদেষ্টা এমি দ্য গ্রুট। ভিডিওর মাধ্যমে পোশাকটি সম্পর্কে গবেষক গ্রুট বলেছেন, ‘যখন প্রথমবারের মতো আমি পোশাকটি দেখি, তখন সত্যিকার অর্থেই ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। পোশাকটি বিশেষ কারও জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি নিয়ে রোমাঞ্চের সব বড় জায়গাটি হলো, ‘এটি এমন একটি পোশাক, যা ১৭ শতকে কেউ পরে ছিল। একবার চিন্তা করে দেখুন, এমন একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক আপনি হাতে ধরে আছেন, যা আপনাকে সেই প্রায় চারশ বছর আগের একসময়ে নিয়ে গেছে?’ ২০২২-এর নভেম্বরের কাপ স্কিল জাদুঘর এক প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে অন্যসব নিদর্শনের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা রুপার কারুকাজ করা এই পোশাকটি উন্মুক্ত করা হয়।
কাপ স্কিল জাদুঘরের সংরক্ষক অ্যালেক ইউইং বলেন, ‘অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা পোশাকটির গায়ে নকশা হিসেবে বসানো হালকা ও ঝিলিমিলি রুপার জন্য ধন্যবাদ। এটি নিশ্চিতভাবেই সে সময়ের সবচেয়ে অসাধারণ পোশাকগুলোর মধ্যে একটি ছিল, যা পশ্চিম ইউরোপের উচ্চবিত্ত সমাজের এক নারী পরতেন। সাধারণত সামুদ্রিক নোনাপানিতে রুপার রঙ ঝলসে যায় এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত ক্ষয় হয়। তা সত্ত্বেও পোশাকটিতে আসল অলংকরণের নিদর্শন ও কারুকাজ করা নকশা এখনো দৃশ্যমান।’
তবে সিল্ক সার্টিনের প্রথম পোশাকটি এখন অনেকটা বাদামি রঙ ধারণ করেছে। প্রথমে বোধ হয় এটি সাদা, ঘিয়ে বা হলুদ রঙের ছিল। এদিকে আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রদর্শনী গবেষক মার্টেন ভন বোমেল বলেন, ‘আমরা সেখানে যা আবিষ্কার করেছি তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। এটি এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে অনন্য ঐতিহাসিক আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একটি। পুরো বিশ্বে এমন মাত্র দুটি পোশাকই থাকতে পারে। আর এ দুটোই রয়েছে এখানে, টেক্সালে।’
এদিকে অ্যালেক ইউইং বলেন, পোশাক দুটির গায়ে অতিরিক্ত লবণ জড়ানো ছিল। তাই তা অপসারণের জন্য পোশাকগুলো ধুয়ে ফেলা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে পোশাকের জন্য খুব কমই সংরক্ষণ কাজের প্রয়োজন পড়ে। জাদুঘরের প্রদর্শনীতে রাখা এই পোশাকগুলো রক্ষা করার জন্য চাপযুক্ত নাইট্রোজেন ভরা বিশেষ প্রদর্শনীর কেসে রাখা হয়েছে, যা সব অক্সিজেন শুষে নিয়ে পোশাকগুলোর ক্ষয় হওয়া ঠেকাবে। এই প্রক্রিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অ্যালেক ইউইং আরও বলেন, ‘যারা এমন একটি সমাধান তৈরি করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাতেই হয়। আমরা আশা করছি, এই প্রক্রিয়ার সহায়তায় কোনো ক্ষতি ছাড়াই এই পোশাকটির সঙ্গে আরও কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণ বেশ কিছু সময়ের জন্য প্রদর্শনীতে রাখতে সক্ষম হব।’
উদ্ধার করা গুপ্তধন
জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের সিন্দুকগুলো প্রত্নতাত্ত্বিকদের সামনে যেন ৩৬৩ বছর পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য ভান্ডার এনে হাজির করেছে। যে সিন্দুকটি থেকে গাউনগুলো পাওয়া গেছে, সেই একই সিন্দুকের মধ্যে সিল্কের হাতে বোনা মোজা, একটি ড্রেসিং গাউন, একটি লাল কোটি এবং নারীদের একটি প্রসাধনের সেট পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে জাদুঘরের সংরক্ষক ইউইং বলেন, গবেষকরা প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনগুলো দেখার পর খুব অবাক হন। কারণ পোশাকগুলোর কোনোটিরই আকার এক ছিল না। তাই তারা ভাবেন সেগুলো সম্ভবত এমন একটি পরিবারের ছিল, যারা একই সঙ্গে ওই জাহাজে ভ্রমণ করছিলেন। এদিকে কেপ স্কিল জাদুঘরের জ্যেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যারেন্ট ভস বেশ যুক্তির সঙ্গে বলেন, ‘জাহাজটি হয়তো কোনো ধনী পরিবারের এই জিনিসপত্রগুলো অন্য কোনো দেশে নিয়ে যাচ্ছিল।’
ভেলভেটের তৈরি ড্রেসিং গাউনটি কাফতানও হতে পারে, যার সঙ্গে রয়েছে একটি জ্যাকেট ও ছোট স্কার্ট। তবে এর ছেঁড়া প্রান্তগুলো দেখে মনে হয়, দুটি টুকরো একসময় হয়তো জোড়া দেওয়া ছিল। ড্রেসিং গাউনটি সম্ভবত অটোমান সাম্রাজ্য বা পূর্ব ইউরোপ থেকে আনা হয়েছিল। জাদুঘরের গবেষকদের মতে, গাউনটির কাপড়ের উজ্জ্বল লাল ডাই তৈরি করা হয়েছিল পোকামাকড় থেকে। কারণ ১৭ শতকে এ ধরনের উচ্চমানের ডাই ব্যবহার করা হতো।
লাল রঙের ব্রোকেডের টপসটিকে খুব ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যা সম্ভবত হাতা কাটা অবস্থায় স্কার্টের সঙ্গে পরা হতো। সারা টপসটিতে ছোট ছোট গোলাকার নকশা রয়েছে, যা থেকে অনুমান করা যায় যে, সেগুলো একসময় জরি দিয়ে কারুকাজ করা ছিল। আবার ওই কাপড়ের ওপর তিমির হাড়ের শক্ত ছাপও পাওয়া গেছে।
এদিকে রুচিসম্পন্ন প্রসাধন সেটটির সঙ্গে রয়েছে সিল্কের কাপড় মোড়ানো একটি ব্রাশ, একটি পিনদানি, একটি চিরুনি, আয়নাসহ একটি ড্রেসিং টেবিল, যার সিল্ক ভেলভেটে মোড়ানো কারুকার্যখচিত দুটি দরজাও রয়েছে। প্রথম সিন্দুকটির সঙ্গে থাকা অন্যসব সিন্দুকে সোনার চামড়ায় বাঁধানো ৩২টি বই পাওয়া যায়। ওই সিন্দুকগুলোর একটির মধ্যে আবার স্কটিশ ইংরেজি রাজপরিবারের স্টুয়ার্টেও একটি শিরোনাস্ত্রও রয়েছে। বইয়ের প্রচ্ছদগুলো ব্যয়বহুল লাইব্রেরির সাক্ষ্য বহন করছে। আর তার বাঁধাই হয়েছে ১৬ থেকে ১৭ শতকের মধ্যে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং পোল্যান্ডে।
জাহাজের ওই ধ্বংসাবশেষের এক কোণ থেকে একটি রুপার কাপের ভাঙা তিনটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। কাপটি ১৬ শতকে জার্মানির নুরেমবার্গে তৈরি গবলেটের মতো, যেখানে অনেক রুপার পণ্য তৈরি করা হতো। কাপটির ঢাকনিতে রোমানদের যুদ্ধের দেবতা মার্সের মূর্তি আঁকা রয়েছে। এর সঙ্গে ডুবুরিরা ডাচ জাহাজে নৌচালনা ও অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্রও উদ্ধার করেছে। ১৭ থেকে ১৮ শতকের ডাচ বণিক জাহাজের অনন্য এই ধ্বংসাবশেষ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য ভান্ডার, যার অনুসন্ধান চালু রেখেছেন ডুবুরিরা।