বারবার গর্ভপাত

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩, ১২:৫৪ এএম

গর্ভধারণ করার পরও সে সন্তানকে সুষ্ঠুভাবে পৃথিবীতে আনতে না পারার মতো যন্ত্রণা আর নেই। পরপর দুটো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনটি বা তার অধিক গর্ভস্থ সন্তান যদি গর্ভের এমন একসময়ে নষ্ট হয়, যখন যে বাইরের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মতো উপযুক্ততা অর্জন করে না তখন তাকে বারবার গর্ভপাত বলা হয়। বিশ্বে এর হার ১-৩ শতাংশ। যদিও উন্নত দেশে ২০-২৪ সপ্তাহের বাচ্চা নিবিড় পরিচর্যায় বাঁচতে পারে। আমাদের দেশে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ২৮ সপ্তাহের আগে কোনো বাচ্চা জন্ম হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী নারীর গর্ভপাতের ঝুঁকি ১৫ শতাংশ। বয়স ৩০-৪০ বছর হলে এই ঝুঁকি ৩০ শতাংশ।

কারণসমূহ

যেমন মায়ের বয়স : গর্ভধারণের বয়স যত বেশি বাড়ে গর্ভপাতের হারও আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের বয়স ১৬-২০ বছর হলে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে ১৫ শতাংশ। এই ঝুঁকিটাই ৩০ শতাংশ হয়ে যায়, যখন গর্ভকালীন মায়ের বয়স ৩০-৪০ হয়।

স্থূলতা : সাধারণত যারা মোটা অর্থাৎ বিএমআই বেশি।

জেনেটিক : গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে যদি গর্ভপাত হয় তবে তার ৫০-৭০ শতাংশ কারণই ঘটে ক্রোমোজমের সংখ্যা বা গঠনগত সমস্যার কারণে।

জরায়ুর গঠনগত সমস্যা : জন্মগতভাবে জরায়ুর মধ্যে পর্দা, জরায়ুর উপরিভাগ যদি বিভক্ত থাকে অথবা যদি জরায়ুর ভেতর কোনো টিউমার থাকে তবে জরায়ুর ধারণ ক্ষমতা কমে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া জরায়ুর মুখ যদি ঢিলা অর্থাৎ দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে গর্ভপাত হতে পারে। সাধারণত ১৬-২২ সপ্তাহের গর্ভপাতগুলো এ কারণে হয়ে থাকে।

ইমিউনোলজিক্যাল : এসএলই, অ্যান্টি ফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি সিনড্রোম এসব রোগে আক্রান্ত মায়েদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই রোগে অটো অ্যান্টিবডিগুলো বাচ্চার শরীরে পুষ্টি বা রক্ত চলাচলে বাধা দেয়।

হরমোনজনিত সমস্যা : কোনো মায়ের যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতা থাকে তাদেরও গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে।

রক্ত জমাটবাঁধা সমস্যা : রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ যদি কোনো কারণে গর্ভফুলে বাধাগ্রস্ত হয় সে ক্ষেত্রেও গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে।

প্রদাহজনিত সমস্যা : গর্ভকালীন যোনিপথে ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে।

পরিবেশদূষণ : গর্ভকালীন যদি কোনো মা দূষিত বাতাস, পানি বা খাবার গ্রহণ করে তবে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ব্যাখ্যাতীত কারণ (৫০ শতাংশ) : দেখা গেছে, প্রাসঙ্গিক সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও গর্ভপাতের কারণ জানা যায় না।

রোগ নির্ণয়

পূর্বকালীন গর্ভের ইতিহাস, রক্তের কিছু টেস্ট এবং তলপেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করে আমরা উপরোক্ত কারণগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্ণয় করতে পারি।

প্রতিকার

এ ধরনের রোগীকে পরবর্তী বাচ্চা নেওয়ার আগে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে কারণ উদঘাটন করে চিকিৎসা দিলে এটা রোধ করা সম্ভব। যেমন : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা, থাইরয়েড হরমোন দিয়ে চিকিৎসা করা, জরায়ুর মুখ সেলাই করা, প্রোজেস্টেরন-জাতীয় ওষুধ ও রক্ত তরলীকরণের ওষুধ ব্যবহার করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত