দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩, ০১:৪০ এএম

দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকালে খাবার খাওয়ার মজাটাই নষ্ট হয়। আতঙ্ক লাগে, অন্যের সামনে বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়। সঠিক ব্যবস্থা না নিলে জটিলতা তৈরি হয়।

কেন এমন হয় : সাধারণ অবস্থায় পাশাপাশি দাঁতগুলো তাদের একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আটকে থাকে। এই কন্টাক্ট পয়েন্ট ঠিক থাকলে খাবার ফাঁকে আটকায় না, কিন্তু যদি ডেন্টাল ক্যারিজ, দাঁত ও চোয়ালের হাড়ের অসাঞ্জস্যতায় দাঁত ফাঁকা, ত্রুটিপূর্ণ কৃত্রিম দাঁত বা ক্রাউন, দীর্ঘ সময় প্রতিস্থাপিত ক্যাপ, গঠনগত অস্বাভাবিকতা, দাঁত ভাঙা বা বয়সের সঙ্গে এমনিতেই এই কেন্দ্র নষ্ট হতে পারে, তখন সহজেই খাবার ভেতরে ঢুকে যায়। আক্কেল দাঁত বা মাড়ির শেষ দাঁতটি দেরিতে উঠার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বাঁকা হয়ে যায়, ফলে সেখানে খাবার জমে থাকে। এক বা একাধিক দাঁত ফেলে দিলে অন্য দাঁতগুলোর মধ্যকার অবস্থা পরিবর্তন হয়ে দাঁত ফাঁকা হতে পারে, যারা এক পাশ দিয়ে খাই তাদেরও হতে পারে।

কী হয়  : খাবার জমে প্রথম দিকটায় কষ্ট হয় না। পরে সময়ের সঙ্গে জমাকৃত খাবারের সঙ্গে অসংখ্য জীবাণু, খাদ্যকণা মিশে দাঁতের ফাঁকে মাড়িতে প্রদাহের সৃষ্টি করে। চিকিৎসা না পেলে মুখে দুর্গন্ধ, মাড়ি ফুলে যাওয়া, রক্ত পড়া, মাড়ি ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, দাঁতের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে শিরশির অনুভূতি, ব্যথা, খাবারের স্বাদ নষ্ট করা, দাঁতের ফাঁকে পকেট তৈরি,  দাঁত নড়ে যাওয়া, এমনকি দাঁত পড়ে যাওয়া থেকে নানা জটিলতার তৈরি হয়। অন্যদিকে সহজেই দাঁতে গর্ত বা ক্যারিজ তৈরি করতে পারে, আর দুই দাঁতের ফাঁকে এটা হয়, মজ্জা আক্রান্ত হলে ব্যথা হওয়ার পর বোঝা যায়।মাড়ির রোগ শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে অজান্তেই নানা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে জটিলতায় ফেলতে পারে।

করণীয়  : সাধারণ পদ্ধতিতে টুথ ব্রাশ করলে আটকানো খাবার বের হবে না। অনেকে কাঠের টুথপিক, ধাতব কাঠি বা ওষুধের স্ট্রিপ দিয়ে খোঁচাখুঁচি করে। এ থেকে মাড়ির মধ্যে প্রদাহ, ফাঁকা বড়, দাঁতের ধারক কলা বিনষ্ট হয়। টুথপিকের অংশ অনেক সময় রক্ত সঞ্চালনে মিশে লিভাবে জটিলতা তৈরি করে। দাঁতের ফাঁকের খাবার নিরাপদে বের করানোর মাধ্যম হচ্ছে ডেন্টাল ফ্লস নামক বিশেষ সুতা বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ইনহেলার ব্যবহারকারী, কিডনি, লিভার বা হার্টের রোগ, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শে মাউথ ওয়াশ বা কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করতে হবে। ফাঁকা বড় হয়ে গেলে ফিলিং চিকিৎসা পদ্ধতিতে স্বাভাবিক করা যেতে পারে, এই স্থানের ফিলিংকে ক্লাস টু ফিলিং বলা হয়। সাধারণ ফিলিংয়ের চেয়ে একটু সংবেদনশীল, ভালো ম্যাটেলিয়াল ফিলিং না হয়ে নষ্ট হতে পারে। একাধিক দাঁত এলোমেলো থাকলে অর্থোডোন্টিক চিকিৎসার প্রয়োজন, যাতে করে দাঁত সুন্দর ও সুসজ্জিত হয়। ক্যাপের স্থানে এমন হলে ক্যাপ পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। সঠিক নিয়মে মুখ পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যবান্ধব খাবারে উৎসাহী হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত