এ বছর আরব লিগ সম্মেলনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে আমন্ত্রণ জানায় সৌদি আরব। কেবল সৌদি নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকে আগ্রহী। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর আসাদের বিরোধিতা করা আরবরা হঠাৎ তাকে পাশে চাইছে কেন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
অবস্থান পরিবর্তন
চলতি বছরের ১৯ মে আরব লিগ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। তিনি যেন সম্মেলনে থাকেন, তা নিশ্চিতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশকে বেশ কয়েক মাস খাটতে হয়েছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ইন্ধন ছিল না কারণ আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতায় থাকুক, এটা তারা এখনো চায় না। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। তার জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছে চীন ও রাশিয়া। আসাদের আরব লিগ সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিশ্চিতে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন ছিল না, ঠিক তেমনি চীন-রাশিয়ারও ছিল না। এই দায়িত্ব মধ্যপ্রাচ্য একাই পালন করে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? যেখানে অঞ্চলটির কয়েকটি দেশের বিশেষ করে কাতারের আসাদ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে আপত্তি আছে।
কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মনে করছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এদের মধ্যে আছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা দীর্ঘসময় ধরে আসাদবিরোধী সশস্ত্র সংগঠনকে অর্থসহায়তা দিয়ে আসছে। ইরাক ও ওমান অবশ্য কখনোই আসাদ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দূতাবাস পুনরায় খোলে। জর্ডানও বছরখানেক আগে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সিরিয়ার সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী খেলোয়াড় সৌদি আরব এ বছর আসাদকে আরব লিগ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য মিসরকে সৌদি আরব চাপ দিচ্ছে এমনটাও শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলো তাদের অগ্রাধিকারে পরিবর্তন এনেছে এবং এ কারণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ তাদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ। তাদের এই অবস্থান পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা রাশিয়ার কোনো হাত নেই। এটি পুরোপুরিই তাদের অভ্যন্তরীণ স্বার্থের বিষয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা গাল্ফ স্টেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জর্জিও ক্যাফিয়েরো বলেন, ‘সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আরব দেশগুলো আর চাইছে না, ওয়াশিংটন তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করুক। দেশ দুটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে। সৌদি ও আমিরাতি নেতৃত্বের কাছে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাশিয়ার গুরুত্ব তাদের কাছে ক্রমশ বাড়ছে। সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের উদ্যোগ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ করবে। তবে এটিই দামেস্কের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন চেষ্টার একমাত্র কারণ নয়।’
অবৈধ ওষুধ উৎপাদন
আরব বসন্তের সময় দেশের ভেতরে গণজাগরণ নির্মমভাবে দমন করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। সেই সময় থেকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। ২০১৯ সালে তার বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়ে যায় যখন আসাদ সরকারের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পও ওই সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। ২০২০ সালে সিরিয়ার অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্য পড়ে। এর ফলে দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে এবং ৪০ শতাংশ মানুষের হাতে কোনো কাজ ছিল না। এক দশক দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সিরিয়ার অর্থনীতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বিচ্ছিন্নতার একপর্যায়ে সিরিয়ায় অবৈধ উদ্দীপক ওষুধ ক্যাপ্টাগন উৎপাদন শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে জর্ডানের চেষ্টা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ক্যাপ্টাগন বাণিজ্যেরও উল্লেখ ছিল। ক্যাপ্টাগন উৎপাদন ও এর বাণিজ্য নিয়ে বিস্তারিত ও নির্ভুলভাবে কিছু বলা কঠিন। ওই ওষুধের ব্যবসা করে আসাদ সরকার প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। আসাদ, তার পরিবারের সদস্যসহ ঘনিষ্ঠরা ক্যাপ্টাগন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের কাছ থেকে চোরাচালানকারীরা ওই উদ্দীপক ওষুধ জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের ভেতর দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাচার করে। সিরিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে স্বাধীন বিশ্লেষক কারাম শার বলেন, ‘প্রকৃত সংখ্যা বলা বেশ কঠিন, তবে আমি মনে করি, ক্যাপ্টাগন ব্যবসা করে আসাদ সরকার একশো কোটি ডলারের কম কামায়নি, যেখানে ক্যাপ্টাগন শিল্পের বাজার মূল্য এক হাজার কোটি ডলারের বেশি। মোদ্দা কথা, সিরিয়ার বৈধ রপ্তানিকে ছাড়িয়ে গেছে ক্যাপ্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক করবে, তা নির্ধারণে এই ওষুধের ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ গত কয়েক বছরে নকল ক্যাপ্টাগন সিরিয়া থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রধানত জর্ডান ও লেবানন হয়ে অন্য দেশে পাচার হয়। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ওই ওষুধ সবচেয়ে বেশি জব্দ হয় সৌদি আরবে। জাতিসংঘের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট সৌদি আরবে বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর পরের দেশ জর্ডান যেখানে একই সময়ে ২ কোটি ৩০ লাখ ট্যাবলেট জব্দ হয়। আরব দেশগুলো আশা করতে পারে তারা সিরিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবৈধ ক্যাপ্টাগন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সিরিয়ার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করবে। তবে ক্যাপ্টাগনের মতো অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা থেকে আসাদ সরকার সরে আসবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান ইস্যু
সিরিয়ার সঙ্গে সম্পদশালী আরব দেশগুলোর সম্পর্ক মেরামতের আরেকটি কারণ হতে পারে, দামেস্ক ও ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব হ্রাস। তবে এবারই প্রথম এমনটা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সুইডিশ ডিফেন্স রিসার্চ এজেন্সির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এরন লান্ড। তিনি বলেন, ‘এই কাজ দেশগুলো আগেও করেছে এবং প্রতিবারই হতাশ হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের ইরানকে দরকার। তিনি ইরানকে দূরে ঠেলবেন না।’ গত কয়েক দশক ধরে ইরান ও সিরিয়ার সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ, যদিও কট্টরপন্থি ইরান ও নামমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ আসাদ সরকারের মধ্যে খুব বেশি মিল নেই। তাদের মিলের জায়গা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা। সিরিয়া-ইরানের সম্পর্কের গভীরতা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ বিশ্বের সামনে আরও স্পষ্ট করে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সিরিয়াকে সামরিক সহায়তা দেয় ইরান। এছাড়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে দেশটিকে কারিগরি, আর্থিক ও প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে ইরান সরকার। অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে শিয়া সশস্ত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহকে ইরানের অস্ত্রসহ অন্য সহায়তা পাঠানোর প্রধান পথ হচ্ছে সিরিয়া। ২০০৬ সালে ইরান ও সিরিয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইরান ও রাশিয়ার কাছ থেকে প্রচুর সহায়তা পায় আসাদ সরকার। যুদ্ধ শুরুর আগে সিরিয়ার অর্থনীতিতে অবদান রাখে ইরান। অবকাঠামো খাতসহ অন্য আরও প্রকল্পে দেশটিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দেশটি। ইরান সম্প্রতি সিরিয়ায় আবার বিনিয়োগ শুরু করেছে। গত মাসে দেশ দুটি বাণিজ্য ও অবকাঠামো খাতে বেশ কয়েক বছরের চুক্তি করে। গত ১২ বছর ধরে আসাদকে ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রভত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো নাতাশা হল বলেন, ‘আসাদ সরকারের অস্থিমজ্জায় মিশে আছে ইরান। দুই পক্ষকে বিচ্ছিন্ন করা সহজ নয়।’ সিরিয়ায় বিনিয়োগ করে ইরান লাভবান হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তা দেখে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্নির্মাণে বিনিয়োগ করে অর্থ উপার্জনের সুযোগ হয়তো হাতছাড়া করতে চাইছে না। যুদ্ধ তো চলছেই, তার ওপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। দুটো ঘটনা সিরিয়াকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামীতে সিরিয়ায় নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারে।
কাতার-মিসরের অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ করে কাতার ও মিসরের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আপত্তি আছে। গাল্ফ স্টেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জর্জিও ক্যাফিয়েরোর মতে, কাতারকে দেখে মনে হচ্ছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। সেক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু আসাদকে পুনরায় স্বাগত জানাবে না। আসাদবিরোধী বাহিনীকেও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে কাতার। ২০১৭ সালে কাতারের ওপর অবরোধ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশ দুটির মধ্যকার সংকট ২০২১ সালে নিরসন হলেও ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। এ কারণে আরব দেশগুলোর চাপে আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে কাতার রাজি নাও হতে পারে। অন্যদিকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে উদ্যোগী মনে হচ্ছে না। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে অর্থসহায়তার আশ্বাস পেলে সিসি উদ্যোগী হয়ে উঠতেও পারেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী নয় এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও তুলবে না। তবে কোনো দেশ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সেক্ষেত্রে তারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের উদ্যোগের অর্থ তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়া। আসাদ ও তার বাবা সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদ দেশটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ওই পরিবেশের মধ্যে বাস করছে। হাফেজ আল-আসাদের শাসনামলে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। তাদের বন্দি করা হয়, নির্যাতন করা হয়। তার ছেলে বাশার আল-আসাদের আমলে পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়। প্রায় ৭০ লাখ সিরীয় বাড়িঘর হারায়। এসব কারণে আসাদের ওপর ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ। সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের মারাত আল-নুমান শহরের একসময়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম আবুদ বলেন, ‘২০১১ সালে আমরা প্রথম প্রতিবাদ করি। সে সময় আমরা কারোর অনুমতি নিইনি। সিরিয়াকে নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাব-নিকাশ আমরা বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। বিপ্লবের মাধ্যমে সিরিয়াকে আসাদ সরকারের কবল থেকে মুক্ত করার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর।’