কাজাখস্তানে জন্মগ্রহণ করেন ইউলিয়া ডেনিসিউক। তিন বছর বয়সে দেশত্যাগ করতে হয় তাকে। কাজাখস্তানকে চিনতে, এর মানুষকে জানতে মাসখানেক আগে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়ান তিনি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা কাজাখদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
স্বপ্নপূরণ
মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান। এর উত্তর-পশ্চিমে রাশিয়া, পূর্বে চীন, দক্ষিণ-পূর্বে কিরগিজস্তান, দক্ষিণে উজবেকিস্তান ও দক্ষিণ-পশ্চিমে তুর্কমেনিস্তান। কাস্পিয়ান সাগরের ধারঘেঁষা কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আস্তানা শহরটি নুর-সুলতান নামে পরিচিত ছিল। সবচেয়ে বড় শহর আলমাতি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দেশটির রাজধানী ছিল। স্থলভূমির হিসাবে কাজাখস্তান বিশ্বের নবম বৃহত্তম দেশ। বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত এই দেশের জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে সেখানে ছয় জনের কম মানুষ বাস করে। জনসংখ্যার বড় অংশই জাতিগত কাজাখদের নিয়ে গঠিত। আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও কাজাখস্তান মুসলমান অধ্যুষিত দেশ।
অনিন্দ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাজাখস্তানে জন্মগ্রহণ করেন ইউলিয়া ডেনিসিউক। তিনি একজন ফটোগ্রাফার। দেশ-বিদেশের ছবি তোলা তার নেশা ও পেশা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। কারুশিল্প ও প্রাচীন ঐতিহ্য বিষয়ে তার বিশেষ আগ্রহ আছে। কাজাখস্তানে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বেড়ে ওঠেন এস্তোনিয়ায়। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ইউলিয়া বলেন, ‘কাজাখস্তানের সাবেক রাজধানী আলমাতিতে আমার জন্ম। তিন বছর বয়সে আমি মা-বাবার সঙ্গে এস্তোনিয়ায় চলে যাই। জন্মভূমিতে আমার দাদি থাকেন। প্রতি গ্রীষ্মে দাদিকে দেখতে দেশে যাই। বছরে একবার এখানে এলেও শহরের বাইরে খুব কমই ঘোরা হয়েছে। দেশটাকে সেভাবে চেনা হয়নি। এ বছর কাজাখস্তানে এসেছি আমার দীর্ঘলালিত স্বপ্নপূরণের জন্য। সেই স্বপ্ন হলো আমার জন্ম শহরের বাইরে গিয়ে বিশাল কাজাখস্তানকে নিজের চোখে দেখা।’ তিনি বলেন, ‘আমিই একমাত্র ভ্রমণকারী নই, যে কাজাখস্তানের তেমন কিছুই দেখেননি। বিদেশি পর্যটকদের বেশির ভাগই সবচেয়ে বড় দুই শহর আলমাতি ও আস্তানার হোটেলগুলোতে ওঠেন। এই দুই শহরের বাইরে যারা যান, তাদের পরিচয় ঘটে রুক্ষ, অসমতল এক জনপদের সঙ্গে যেখানে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত তৃণভূমিতে চরে বেড়ায় উট আর ঘোড়া। জাতিগত কাজাখদের সংস্কৃতিরও সংস্পর্শে আসেন তারা।’
শেকড়ের সন্ধান
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যাযাবর তুর্কি ও সিল্ক রোড (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত চীন ও পশ্চিমকে যুক্ত করা বাণিজ্য পথ) দিয়ে যাত্রীরা দিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমি অতিক্রম করেন। পঞ্চদশ শতাব্দীতে একটি যাযাবর রাষ্ট্র গঠন করা হয়। রুশ সাম্রাজ্য দখলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় চারশো বছর রাষ্ট্রটি টিকে ছিল। কাজাখস্তানের এই শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের ছাপ আলমাতিতে পাওয়া যায় না। আলমাতিতে একসময় রুশদের সামরিক চৌকি ছিল। পরে ১৮৫৪ সালে যে জায়গায় চৌকি ছিল, সেখানেই আধুনিক শহরটির জন্ম হয়। আলমাতিভিত্তিক কাজাখ চলচ্চিত্র পরিচালক তিমুর মুগিনভ বলেন, ‘সোভিয়েত আমলে কাজাখদের বিশাল সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া হয়। তবে আজকের তরুণরা তাদের শেকড় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।’ইউলিয়া বলেন, ‘আমিও তাদের মতো শেকড়ের সন্ধান করতে চাই। ছোটবেলায় দাদাবাড়িতে গেলে আলমাতির বাইরে পাহাড়ের ওপরে আপেল ও এপ্রিকটের বাগানে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগত আমার। আমার ওই সময়ের কয়েকটি প্রিয় স্মৃতির একটি ছিল দাদার পুরনো সোভিয়েত জমানার গাড়ির পেছনের সিটে বসে গ্রামের বাড়ি যাওয়া। একটু বড় হয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর কাজাখদের পরিচয় ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে শুরু করি। সে সময় উপলব্ধি করি, কাজাখস্তান বলতে কেবল আলমাতি বোঝায় না। শহরটির বাইরে আরও অনেক কিছু দেখার আছে, জানার আছে।’
গত কয়েক বছরে কাজাখদের মধ্যে দেশটির বৈচিত্র্যপূর্ণ গ্রামাঞ্চল ঘুরে বেড়ানোর মাত্রা অনেক বেড়েছে। করোনাভাইরাস মহামারীর পর কাজাখস্তান সরকার জাতীয় পার্কগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তারা বেশ কয়েকটি উন্নত মানের ইকো হোটেলও খুলেছে। দেশকে দেখতে সড়কপথ ব্যবহার করাই শ্রেয় মনে করেন ইউলিয়া। এজন্য তিনি একটি গাড়ি ভাড়া করেন। সঙ্গে ছিলেন গাইড কন্সতানতিন লুদানভ। তিনি বলেন, ‘আলমাতি অসাধারণ এক অঞ্চল। এটি কাজাখস্তানের একমাত্র অঞ্চল যেখানে কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে করে ঘোরাঘুরি করা যায়। মরুভূমির বালির টিলা থেকে শুরু করে পাহাড়ের পাশে হৃদÑ সবই আলমাতি অঞ্চলে আছে।’ একদিন ভোর ৫টায় আলমাতির ঘুমন্ত রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ইউলিয়া। কিছুক্ষণ পর গাড়ি ঊনবিংশ শতাব্দীর রাস্তা যা সোভিয়েত আমলে মহাসড়কে পরিণত হয়, সেই রাস্তায় চলতে শুরু করে।
রাস্তাটির নাম কুলজিন। এটির পূর্বদিকে চীন সীমান্ত। দূরে মধ্য এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘ পর্বতশ্রেণি তিয়ান শান চোখে পড়ে। আলমাতির উপকণ্ঠে একের পর এক জনপদ পার হয়ে ইউলিয়া দক্ষিণ দিকে অ্যাসি মালভূমির ওপর উঠতে থাকেন। সেখানে একসময় গবাদিপশু বিচরণ করত। যাযাবর তুর্কিদের সেই চর্চা আজও কাজাখস্তানের গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে মেষপালকরা উচ্চ উচ্চতার চারণভূমিতে তাদের পশুর পাল নিয়ে থাকেন। গ্রীষ্ম মৌসুম শেষ হলে তারা নিচে সমতলভূমিতে নেমে আসেন।
অ্যাসি মালভূমির পশ্চিম প্রান্তে কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র অবস্থিত। এটির নাম অ্যাসি-তুরগেন। ১৯৮১ সাল থেকে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র কাজ করছে। এখানে আছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিস্কোপ। এই টেলিস্কোপ দিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্রহ্মান্ডের অন্যতম শক্তিশালী বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাঁচ বিলিয়ন আলোকবর্ষে এমন বিস্ফোরণের ঘটনা একবারই ঘটে। ইউলিয়া যখন স্বদেশ সফরে বেরিয়েছিলেন, সে সময় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি দর্শনাথীদের জন্য বন্ধ ছিল। তারপরও তিনি গাইড লুদানভকে কেন্দ্রের কাছে গাড়ি থামাতে বলেন। উদ্দেশ্য, গিরিখাত, ছোট পাহাড় ও আকাশের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতশৃঙ্গকে চলমান গাড়ির কাচের জানলার ভেতর থেকে না দেখে সামনাসামনি দেখা। মালভূমির পূর্বে অ্যাসি নদীর ধারে কুরগানস নামে কয়েকটি সমাধি স্তূপ চোখে পড়ে ইউলিয়ার। ওই স্তূপগুলো সাকা সংস্কৃতির ধ্বংসাবশেষ। সাকারা ছিলেন লৌহযুগের যাযাবর যোদ্ধা। ওই অঞ্চলে তারা থাকতেন। এই সিল্ক রোডের পথ ধরে মধ্যযুগে বাণিজ্যের উদ্দেশে যাত্রীরা কিরগিজস্তান ও চীনে যাওয়া-আসা করতেন।
দস্তরখান
রাত নামার আগেই ইউলিয়া কাজাখস্তানের অন্যতম বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাতি গ্রামে এসে পৌঁছান। সেখানে আলগাদস গেস্ট হাউজের স্বত্বাধিকারী শাকিরা দেসুমোভা তাদের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাড়িতে অতিথি এলে কাজাখরা দস্তরখান নামে বিশেষ এক ধরনের টেবিল পাতেন। এটি তাদের সংস্কৃতির অংশ। দস্তরখানের উচ্চতা খুব বেশি নয়, ৩০ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার। মাদুর বিছিয়ে তার ওপর নরম কুশনে বসে কাজাখরা দস্তরখানে খান। বিশেষ এই টেবিলে খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার রেওয়াজ তাদের বহুকালের। খাওয়ার সময় তারা চামচ ব্যবহার করেন না। হাত দিয়ে খাওয়াই প্রথা। আলগাদস গেস্ট হাউজের স্বত্বাধিকারী শাকিরা বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পরিচিত হতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি তাদের ভালোভাবে খাওয়াতে চাই। প্রায়ই আমাদের ভাষার বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তবে হৃদয় থেকে উৎসারিত আবেগের কাছে শব্দ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না।’ কাজাখ চলচ্চিত্র পরিচালক তিমুর মুগিনভ বলেন, ‘এখানকার মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। অতিথিরা যাতে নিজেদের রাজা-রানীর মতো মনে করেন, এজন্য চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেন না তারা।’
কাজাখ সমাজ আজও শতাব্দী প্রাচীন গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত। সিনিয়র জুজ, মিডল জুজ ও জুনিয়র জুজ নিয়ে তাদের এই আঞ্চলিক গোষ্ঠী গঠিত। সিরিয়র জুজের সদস্যরা কাজাখস্তানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, চীনের উত্তর-পশ্চিম ও উজবেকিস্তানের কয়েকটি অঞ্চলে থাকেন। মিডল জুজ ছয়টি ছোট জাতি নিয়ে গঠিত। তারা থাকেন কাজাখস্তানের উত্তর, মধ্য ও পূর্ব দিকে। জুনিয়র জুজ তিনটি জাতি নিয়ে গঠিত যারা কাজাখস্তান ও রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে বাস করেন। এই সিনিয়র, মিডল ও জুনিয়র জুজের সদস্যরা নির্দিষ্ট সামাজিক-রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করেন।
দাদির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর ইউলিয়ার সম্মানে লম্বা টেবিল বাড়ির প্রাঙ্গণে পাতা হয়। আশপাশ থেকে আত্মীয়-স্বজনরা এসে ভিড় করেন। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে তারা লোকসংগীত গেয়ে শোনান। ঘোড়ার মাংস, চাক চাকসহ (মিষ্টি জাতীয় খাবার) কাজাখদের নানা সুস্বাদু খাবার টেবিলে রাখা হয়। সেসব খাওয়ার পর ইউলিয়া দ্বিতীয় বাটি শুরপা (ভেড়ার মাংস ও আলুর স্যুপ) নেন। তিনি জানেন, কাজাখস্তানে অতিথিদের আন্তরিকতার সঙ্গে নানা পদের খাবার খাইয়ে ভালোবাসার কথা জানান দেওয়ার রীতি বহু প্রাচীন।
মিলনক্ষেত্র
দাদাবাড়ি থেকে বেরিয়ে ইউলিয়া আরও পূর্বে চারিন জাতীয় পার্কের দিকে রওনা দেন। পথের ধারে পাহাড়ের ওপর বাঙ্কারের মতো কাঠামো দেখতে পান তিনি। লুদানভ বলেন, ‘এসব কাঠামো থেকে গুলি ছোড়া হতো। ১৯৬৯ সালে চীন-সোভিয়েত সীমান্ত সংঘর্ষের সময় সোভিয়েতরা কাঠামোগুলো তৈরি করেছিল। সোভিয়েত আমলে এই সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করতে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতো। এখন পর্যটকরা কাজাখস্তানের অতীত সম্পর্কে জানতে এই এলাকায় আসেন।’ আলমাতি থেকে তিন ঘণ্টা দূরের চারিন জাতীয় পার্কের ভেতরে অবস্থিত চারিন গিরিখাতের সঙ্গে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়েনের তুলনা করেন। চারিন গিরিখাতের ১২ মিলিয়ন বছর পুরনো পলি লাল, হলুদ ও সাদা রঙের শুষ্ক ভূমি গঠন করেছে। প্রস্তর ও লৌহযুগের বাসস্থান ও সমাধি কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ ওই অঞ্চলে এখনো আছে। ইউলিয়া বলেন, ‘চারিন গিরিখাতের অভ্যন্তরে ভ্যালি অব ক্যাসলে যাই। এই উপত্যকায় পাললিক শিলার গঠন এমন যে, মানুষের মুখায়বের সঙ্গে সেগুলোর মিল পাওয়া যায়।’ এরপর ইউলিয়া কাজাখস্তানের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় পার্ক আলতিন-ইমেলে যান। ওই পার্কের ভেতরে মরুভূমি, পাহাড়, তৃণভূমি সবই আছে। পার্কটির মনোমুগ্ধকর জীববৈচিত্র্য এটিকে ইউনেস্কো বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে পরিণত করেছে। আলতিন-ইমেলে মঙ্গল গ্রহের মতো দেখতে লাল, সাদা আকতাউ পর্বত ৪০০ মিলিয়ন বছরের পুরনো। কাজাখস্তান যেমন একসময় সিল্ক রোড ব্যবহার করা মানুষদের মিলনের ক্ষেত্র ছিল, ঠিক তেমনি আলতিন-ইমেল বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির মিলনস্থান। এসব বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে আছে তুর্কমেনিয়ান কুলান গাধা, বুখারা হরিণ, পার্সিয়ান হরিণ ও সাইবেরিয়ান স্যালামান্ডার। চলচ্চিত্র পরিচালক মুগিনভ ইউলিয়াকে বলেন, ‘আমাদের দেশ আমাদের
সংস্কৃতির নির্মাতা। আমাদের দেশ কেমন, তা দেখা জরুরি। সংযোগ গড়ে তুলতে এটা প্রয়োজন। আমরা যাযাবর ছিলাম। শহরে বাস করতাম না। এই ভূখণ্ডের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াতাম।’