সাকিব আল হাসান উড়ছেন। টপ অর্ডারের অন্যরাও মোটামুটি তাকে সাহায্য করছেন। ব্যাটিং উইকেটে বোলাররা যা করছেন, তা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এমন বাংলাদেশর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন পর খেলতে নামার আগে রীতিমতো ‘গবেষণা’ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া দল।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় নটিংহ্যামে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশকে অজিরা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে সেটি বোঝা গেছে কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের কথায়, ‘অনেক দিন তাদের বিরুদ্ধে আমরা খেলি না। যতটা খেলেছি তাও তাদের কন্ডিশনে। দলটিকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, করেছি নিবিড় গবেষণা।’
২০০৮ সালের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। এরপর লাল-সবুজের ক্রিকেটে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের ঝাঁজ টেস্টে কিছুটা টের পেলেও ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার সেভাবে পরখ করা হয়নি।
পাঁচ ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া বেশি ভাবছে সাকিবকে নিয়ে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার চার ইনিংসে ব্যাক-টু-ব্যাক শতকের বিপরীতে দুটি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। দলকে পাঁচ নম্বরে নিয়ে যেতে উইকেটও নিয়েছেন পাঁচটি।
ল্যাঙ্গার দাবি করছেন সাকিবকে আটকানোর কৌশল তারা পেয়ে গেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের কৌশল পেয়ে গেছি। সে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা তার জন্য প্রস্তুত থাকব।’
সাকিবের বাঁহাতি স্পিন ঠেকাতেও বিশেষ অনুশীল করছে অজিরা। ‘এ’ দলের ক্যাম্প থেকে অ্যাস্টন অ্যাগারকে আনা হয়েছে নেটে বোলিং করতে। ২০১৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে সবাইকে অবাক করে এই বাঁহাতি অফস্পিনারকে দলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৫টি টি-টোয়েন্টি খেললেও টেস্ট আর ওয়ানডেতে লায়নের কারণে নিয়মিত হতে পারেননি। যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, তাতেই দেখিয়েছেন ভারত-বাংলাদেশের মতো কন্ডিশনে তাকে দিয়ে অনেক কিছু পেতে পারে অস্ট্রেলিয়া।
অ্যাগার যত বেড়ে উঠছেন, বলে ফ্লাইট করার দক্ষতায় তত নিপুণ হচ্ছেন। একই সঙ্গে অ্যাঙ্গেলের পরিবর্তন এনে ব্যাটসম্যানকে বিপাকে ফেলতেও দারুণ দক্ষ তিনি। অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, তার বোলিংয়ে নেট অনুশীলন করলে সাকিবকে মোকাবিলা করা সহজ হবে।
