করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাকি ফুটবল মৌসুম বাতিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফলে ঘরোয়া শীর্ষ স্তরের আসরগুলোর মধ্যে শুধু মাত্র ফেডারেশন কাপের মাধ্যমেই ২০১৯-২০ মৌসুমের ইতি ঘটল।
প্রশ্ন আসছে বাতিল মৌসুমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবগুলোর চুক্তির কি হবে? বাকি পারিশ্রমিকই বা নির্ধারণ হবে কীভাবে?
রবিবার বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা শেষে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আলাদা সভার কথা জানিয়েছেন তিনি।
‘আজকে শুধু একটি এজেন্ডা নিয়েই আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে লিগের অবস্থা কী হবে। আমরা অলরেডি সেটি ঘোষণা করেছি।’ বলেন সালাম মুর্শেদি।
ফুটবল মৌসুমে শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে ফেডারেশন কাপ, প্রিমিয়ার লিগ ও স্বাধীনতা কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ফেডারেশন কাপ দিয়েই শুরু হয়েছিল মৌসুম। যে আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় বসুন্ধরা কিংস।
এরপর মাঠে গড়ায় লিগ। তবে করোনার ধাক্কার আগে কোনো দল ৬টি ও কোনো দল ৫টি করে ম্যাচ খেলতে পেরেছিল। অর্থাৎ বলতে গেলে অর্ধেক মৌসুমও শেষ হতে পারেনি। তার আগেই মৌসুম বাতিল। স্বাভাবিক ভাবেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবগুলোর চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার শঙ্কা থাকছে।
বাংলাদেশের ক্লাবগুলো সাধারণত বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করে থাকে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে। দেশিদের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটা ভিন্ন। চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিকের একটা অংশ মৌসুম শুরুর আগেই পেয়ে যান তারা। বাকি অংশ পান পরবর্তীতে।
মৌসুম বাতিল ধরে নিয়ে অনেক ক্লাব সমঝোতার ভিত্তিতে এরই মধ্যে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি চুকিয়ে ফেলেছে। দেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্তের কথা কোনো ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনও জানা যায়নি।
যেহেতু শুধুমাত্র দেশিদের নিয়ে লিগ হওয়ারও ইঙ্গিত ছিল, তাই দেশিদের ব্যাপারে ক্লাবগুলো দ্রুত সিদ্ধান্তও নেয়নি। এ অবস্থায় লিগ বাতিলের পর বাফুফে তাৎক্ষণিক খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এদিনের সভা শেষে সালাম মুর্শেদি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘পরিত্যক্ত যখনই আমরা ঘোষণা করেছি, তখনই কিন্তু অনেক বিষয় চলে আসছে। পরবর্তী লিগ, খেলোয়াড়গুলো ক্লাবের সাথে তাদের যে চুক্তি ছিল সেই চুক্তির মেয়াদ, অথবা এই খেলোয়াড়গুলো এই ক্লাবের সাথেই পরবর্তীতে অংশ গ্রহণ করবে কিনা, অথবা খেলোয়াড় ক্লাবের সাথে থাকবে কিনা এসব বিষয়গুলো কিন্তু আসবে।’
‘সে ক্ষেত্রে যখন এই ইস্যুগুলো আসবে, তখন আমরা এগুলোকে নিয়ে একটা আলাদা মিটিং করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেব।’
