সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষী চুমকি আক্তার। বর্তমানে তিনি সুদানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাড়ি মানিকগঞ্চের ঘিওর উপজেলায়। হঠাৎ এ ঘটনায় উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে তার পরিবার। এমনকি আশপাশের এলাকাতেও উদ্বেগের ছায়া পড়েছে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে চুমকি আক্তারের বাড়িতে গিয়ে এই পরিস্থিতি দেখা যায়। চুমকি আক্তার জেলার ঘিওর উপজেলার পেচারকান্দা এলাকার কৃষক আব্দুল হামিদ ও জহুরা বেগমের মেয়ে। মাত্র ৩৬ দিন আগে চলতি বছর ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য সুদানে যান তিনি।
চুমকি আক্তারের স্বামী মো. ইকরামুল হোসেন নিজেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য। তাদের একমাত্র সন্তান দুই বছর বয়সী ইব্রাহিম আরাবি। শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার সময় সন্তানকে মায়ের কাছেই রেখে যান চুমকি।
চুমকির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। চার মেয়ের মধ্যে চুমকি সবার ছোট। ওর ডান হাত আর পায়ে আঘাত লেগেছে। এত দূরের দেশে হাসপাতালে ভর্তি আছে এই দুশ্চিন্তা সহ্য করা খুব কষ্টের। সবার কাছে মেয়ের দ্রুত সুস্থতা আর নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য দোয়া চাই।
আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে, সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ওই ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চুমকি আক্তারও রয়েছেন।
হামলার সময় একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার তার শরীরে আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসা চলছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর পাচ্ছে পরিবার।
‘দেশের জন্য ভাই শহীদ হয়েছেন, আমরা গর্বিত’
‘ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল, আমার সব শেষ,