মমতার দল ভাঙনের মুখে

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:১২ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর এবার ‘ভাঙন’ দেখা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে। বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনসহ নানা দ্বন্দ্বে জেরবার দলটি থেকে নির্বাচিত বেশ কিছু বিধায়ক এবার দল থেকে বেরিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের ডাক দিয়েছেন।

সোমবার জি নিউজের এক খবরে বলা হয়, বিধানসভা নির্বাচনে দলের নির্বাচিত ৮০ বিধায়ককে কলকাতায় নিজের কালীঘাটের বাসায় ডেকেছিলেন মমতা। কিন্তু বৈঠকে হাজির ছিলেন না ৬১ জন। তখনই একটা ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল কেন এই গরহাজিরা। ওই খবর প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের রাজনীতিতে বড় খবর হলো, ‘ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেস’।

গত সোমবার তৃণমূল থেকে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়। সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই গঠিত হচ্ছে ‘নয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। নেতাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই নয়া তৃণমূল শিবিরে রয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক।

রাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় হারের পর তৃণমূলের ভেতর নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল। তবে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের শুরু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা পড়েছিল। ওই চিঠিতে উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালি আসনের বিধায়ক সন্দীপনের নাম, সই ও হাতের লেখা জাল করে সমর্থন দেখানো হয়েছিল বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের এ অভিযোগের পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, এ নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহা স্পিকারকে সই জাল করে ভুয়া চিঠি জমার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় বিধানসভার সচিবালয় অভিযোগ জানায়। এরইমধ্যে এ ঘটনার তদন্তে সিআইডিকে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঋতব্রত ও সন্দীপনের এ অভিযোগের পরপরই তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে বিবৃতি দেয় তৃণমূল। এ ঘটনায় ঋতব্রতও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন অনেক দুর্নীতি হয়েছে। তার কাছে অনেক তথ্য আছে।’

দুর্নীতির বিষয় নিয়ে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের কাছে তদন্তের দাবি তোলেন তিনি। তবে বিধায়ক পদ তিনি ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ‘এই সময়কে’ দেওয়া এক বক্তব্যে সন্দীপন সাহা বলেন, ‘নৈতিকতার জন্য আমায় বহিষ্কার করা হলে আমি খুশি। অনৈতিক কাজ হয়েছিল বলেই অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। মানুষ কিছুদিন পরেই তৃণমূল দলটা তুলে দেবে।’

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার চন্দননগর পৌরসভার ৩০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেন। আগেই ওই পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মুন্না আগরওয়াল পদত্যাগ করেছেন। ফলে একসঙ্গে এত কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় চন্দননগর পৌরসভার বোর্ড ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

এ ছাড়া আগের সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। রাজ্যসভার সাবেক বিধায়ক শান্তনু সেনও তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ ছাড়েন।

নিজ দলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস ও দলের মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেবও। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তারা সরাসরি দায়ী করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বিজেপির বিরুদ্ধে ধরনায় মমতা : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল বিজেপির বিরুদ্ধে ধরনায় বসেছেন। ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি ভোটপরবর্তী সহিংসতা, বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, হকার উচ্ছেদসহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয় পাবেন না।’ তিনি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাকে আটকাতে পারবেন না। সংবিধান রক্ষা করব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত।’

কলকাতার ওয়াই চ্যানেলের ওই ধরনায় তার পাশাপাশি নয়না ব্যানার্জী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দোলা সেন, কল্যাণ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জীসহ তৃণমূলের একাধিক নেতা ও কর্মী উপস্থিত হন। এরপরই তিনি কড়া বার্তা দেন, ‘আমাদের কর্মীদের আসতে দিন। নয়তো লালবাজার ঘেরাও হবে, নবান্ন ঘেরাও হবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা জায়গা দেবেন না তো? আমাদের জায়গা মানুষের মনে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত