দর্শক কাঠগড়ায় ‘মায়া পাখি’

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ এএম

ঈদুল আজহার নাটক হিসেবে সিএমভির ব্যানারে মুক্তি পেয়েছে জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত ‘মায়া পাখি’। প্রকাশের পর থেকেই নাটকটির গল্প, দৃশ্য এবং বার্তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে করপোরেট কর্মজীবী নারীদের নেতিবাচক উপস্থাপন এবং অপরাধের একপাক্ষিক দায়মুক্তি নিয়ে দর্শকদের একাংশ তীব্র আপত্তি তুলেছেন।

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘মায়া’কে ঘিরে এর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। নির্মাতা জানিয়েছেন, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সরল-সাদাসিধে নারী চরিত্রের আবহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই চরিত্রটি রূপায়ণ করা হয়েছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, নাজনীন নাহার নীহা ও শাহেদ শরীফ। এর আগে ‘মন দুয়ারি’ ও ‘মেঘবালিকা’ নাটকের মাধ্যমে প্রশংসিত হওয়া এই নির্মাতা দাবি করেছেন, এটি একটি ভিন্নধর্মী গল্পের কাজ।

তবে মুক্তির পর নাটকটির মূল উপজীব্য বিষয় নিয়ে সচেতন দর্শকদের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নাটকে দেখানো হয়, দেশের একটি নামি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার পর মূল নারী চরিত্রটি কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা ও প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য অনৈতিক পথ বেছে নেয়। বসের সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়ানো, স্বামীকে অবহেলা করা এবং সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে করপোরেট নারীদের এক প্রকার নৈতিকতাহীন ও সুবিধাবাদী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন, তখন কর্মজীবী নারীদের ঢালাওভাবে এমন অন্ধকারের আলোয় দেখানোর প্রবণতা সমাজে অত্যন্ত ভুল এবং ক্ষতিকর বার্তা পৌঁছায়। এটি বাস্তবতার পরিপন্থি এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার লড়াইকে ছোট করে দেখার শামিল।

এ ছাড়া নাটকের আরেকটি বড় বিতর্কের জায়গা তৈরি হয়েছে এর সমাপ্তি নিয়ে। নাটকের একপর্যায়ে বিষাক্ত কফি খাইয়ে স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি যখন উন্মোচিত হয়, তখন সেই অপরাধকে এক প্রকার স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্ত্রীর পরকীয়া বা প্রতারণাকে অপরাধ হিসেবে দেখালেও, তার শাস্তি হিসেবে স্বামীর হাতে অবলীলায় খুন হয়ে যাওয়াকে গল্পের খাতিরে যেভাবে ‘মহিমান্বিত’ বা ‘সহানুভূতিশীল’ করে তোলা হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ দর্শকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সমাজের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও পারিবারিক অপরাধের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের চিত্রনাট্য অসুস্থ মানসিকতাকে উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর বাইরেও নাটকের কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে পারিবারিক দর্শকরা বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, উৎসবের আমেজে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো সংযম এই দৃশ্যগুলোতে বজায় রাখা যেত। তবে সব সমালোচনার পাশাপাশি নাটকের আবহ, নির্মাণশৈলী এবং শিল্পীদের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন দর্শকদের একটি অংশ।

ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড জুড়ে ‘মায়া পাখি’ নিয়ে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল তর্কবিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত