খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াইশ রোগীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের নিচতলার বেজমেন্টে থাকা জেনারেটর কক্ষ বা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
আগুন লাগার পর মুহূর্তেই পুরো হাসপাতাল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে আইসিইউ, সিসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেকেই দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে আসেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ও নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং হাসপাতালের কর্মচারীরাও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর শুরু হয় রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ। সারারাত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, কাচ ভেঙে আহত হওয়া এবং হুড়োহুড়ির কারণে অন্তত ২০ জন অসুস্থ ও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান বলেন, “সিটি মেডিকেল থেকে স্থানান্তর করা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত হলেও ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ক্রেনের সক্ষমতা এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
তবে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু দাবি করেন, সব ধরনের নিয়মকানুন অনুসরণ করেই হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনে জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা ও নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। রাতভর হাসপাতালের সামনে মানুষের ভিড় থাকলেও সকালেও শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
মাদারীপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০
দিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক