শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মুমিনুল-মুশফিকের শতকে চাপমুক্ত বাংলাদেশ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:৪৮ পিএম

প্রথম আধ ঘণ্টায় ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমত কাঁপছিল বাংলাদেশ। কাইল জার্ভিসের জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস (০) এবং লিটন দাস (৯)। অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুনও পারলেন না শুরুর চাপ সামলাতে, রানের খাতা না খুলেই ডোনাল্ড তিরিপানোর শিকার হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

প্রয়োজন ছিল শুরুর ধাক্কা সামলান; প্রয়োজন ছিল ফর্মে ফেরার পাহাড়সম চাপ জয় করা। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উইকেটে আসেন মুমিনুল হক এবং মুশফিকুর রহিম। টেস্ট ঘরানায় দলের সবচেয়ে আদর্শ দুই ব্যাটসম্যান আস্থার প্রতিদান দেন চা বিরতির আগেই। মমিনুলের সপ্তম টেস্ট শতক আর মুশফিকের অর্ধশতকে স্বাগতিকদের আকাশ থেকে কেটে যেতে থাকে কালো মেঘ।

রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ৩০৫ রান। মুশফিক ১১১ রান, মাহমুদউল্লাহ ০ রানে অপরাজিত আছেন।

অসম্ভব রকম চাপ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন মুমিনুল ও মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বছরের শুরুতে চট্টগ্রাম টেস্টে রেকর্ড দুই ইনিংসের (১৭৬ এবং ১০৫) পর যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মুমিনুল। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্যের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৩৩। রান খরা কাটাতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টেও (১, ০ এবং ০, ১৫)। সিলেটেও হাসেনি তার ব্যাট, দলের বাজে সময়ে দুবারই ফিরেছেন ১১ আর ৯ রান করে।

রোববার সব কালো দূরে ঠেলতেই যেন মাঠে নেমেছিলেন মুমিনুল। পাশে পেয়েছেন মুশফিকের মতো বিশ্বস্ত সঙ্গী। তাদের সুবাদে নির্ভার হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম। টেস্টে সপ্তম শতকের দেখা পাওয়া মুমিনুল দিনের শেষ দিকে এসে মনোযোগ হারান। টেন্ডাই চাতারার বল খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন ব্রায়ান চারির হাতে। ভাঙে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড রানের (২৬৬) জুটি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা জুটির রেকর্ডটি এতদিন ছিল তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের অধীনে। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছিলেন ২২৪ রান।

image

উইকেট ছাড়ার আগে ১৬১ রান করেন মুমিনুল। বাঁ হাতি এই ব্যাটার টেস্টে নিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন ২৪৭ বলে, হাঁকান ১৯টি চার।

চাপটা কম ছিল না মুশফিকের উপর। এই টেস্টের আগে খেলা ৯টি ইনিংসে পাননি অর্ধশতকের দেখা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯২ এর পর ৩১ রানের বেশি করতে পারেননি কোনো ইনিংসে। তামিম-সাকিবের অনুপস্থিতিতে সিলেটে যখন সবার চোখ ছিল দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের দিকে, তখনও হতাশ করেছেন তিনি ৩১ এবং ১৩ রানের ইনিংস খেলে। বাজে সময় পেছনে ফেলে মুশফিক টেস্টে তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি তুলে নেন। ২৩১ বলে খেলা তার অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংটিতে আছে নয়টি চারের মার।

image

জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন জার্ভিস। একটি করে উইকেট নেন টেন্ডাই চাতারা ও তিরিপানো।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১ম দিন শেষে ৯০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০৫; (লিটন ৯, ইমরুল ০, মুমিনুল ১৬১, মিঠুন ০, মুশফিক ১১১*, তাইজুল ৪, মাহমুদউল্লাহ ০*; জার্ভিস ১৯-৫-৪৮-৩, চাতারা ১৮-১০-২৮-১, তিরিপানো ১৫-৩-৩৩-১, সিকান্দার ১২-১-৬৩-০, উইলিয়ামস ৮-০-৩১-০, মাভুটা ১৬-০-৭৯-০, মাসাতাদজা ২-০-৭-০)

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত