বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে সম্প্রচার বাধ্যতামূলক

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:২৫ পিএম

পুরোনো টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ওপর এখনো কোনো বাধ্যবাধকতার শর্ত প্রয়োগ না করা হলেও নতুন কোনো চ্যানেল সম্প্রচার করতে চাইলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে সম্প্রচার করতে হবে। অন্যথায় ওই চ্যানেলকে সম্প্রচারে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক থেকে আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দেশীয় একমাত্র স্যাটেলাইট যদি কোনো কারণে চ্যানেলগুলোকে সম্প্রচারের সেবা দিতে না পারে, শুধু তখনই তারা অন্য স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়ে সম্প্রচার চালিয়ে যেতে পারবে।
তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে টেলিভিশনগুলোকে সম্প্রচারের লাইসেন্স প্রদান করলেও, মূলত স্পেকট্রামের জন্যই চ্যানেলগুলোকে বিটিআরসির কাছে যেতে হয়। স্যাটেলাইট কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) টেলিভিশনগুলোকে স্পেকট্রাম দেবে। এর ছাড়পত্র নিতে হবে বিটিআরসির কাছ থেকে। বিটিআরসির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে ব্যবসা সফল করতে সম্প্রচার বাধ্যবাধকতার শর্ত জুড়ে দেওয়া আবশ্যক।
গত ১১ মে নিজ কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎ¶েপণ করার পর নভেম্বরে তা বিসিএসসিএলকে বুঝিয়ে দেয় নির্মাতা কোম্পানি ফ্রান্সে থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। বিটিভির তিনটি চ্যানেলসহ আরো কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন এখন বঙ্গবন্ধু-১ থেকে সেবা নিচ্ছে। তবে নতুন লাইসেন্স পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে এ স্যাটেলাইট থেকে সেবা নিতে হবে। এদিকে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থা ছাড়াও দুটি ভিস্যাট কোম্পানি বঙ্গবন্ধু-১ থেকে সেবা নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এ জন্য বিসিএসসিএলের সঙ্গে তারা চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসার দিকে নজর রেখেছে বিসিএসসিএল। এ জন্য তারা থাইল্যান্ডের কোম্পানি থাইকমের সঙ্গে চুক্তিও করেছে। সবমিলে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খরচ করে মহাকাশে পাঠানো স্যাটেলাইট আগামী সাত বছরের মধ্যেই ব্যবসা সফল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত