ঢাকা বাইপাস সড়ক নির্মাণ

চীনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনসোর্টিয়াম গঠন

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৪০ এএম

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) ঢাকা বাইপাস সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে অবকাঠামো খাতের দেশীয় দুই কোম্পানি। শামীম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও ইউডিসি কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চীনের সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপের মধ্যে এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

এ প্রকল্পে পিপিপি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থার সদর দপ্তর ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসার এইচ উদ্দিন বলেন, এ প্রকল্পটি বাংলাদেশে সরকারি সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। এটি হবে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে, যার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পথ উন্মুক্ত করছে।

এ বিষয়ে এডিবির পিপিপি অফিসের প্রধান যোজি মুরিসিতা বলেন, এডিবি বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়। এ লক্ষ্যে আর্থিক ও পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রসিদ্ধ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

বাংলাদেশের সরকার সড়কে যান চলাচল অব্যাহত রাখতে ঋণ সহায়তার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা চায়। এ খাতে সহায়তা দিতে ব্যক্তি খাতের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

বৈশি^ক পিপিপি ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন করা হচ্ছে।

এডিবি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংস্থাটি আইনি সহায়তা দেবে। এশিয়া প্যাসিফিক প্রকল্প প্রস্তুতি সহায়তা (এপিএফ) কর্মসূচির আওতায় গঠিত বহুপক্ষীয় তহবিল থেকে এতে অর্থসহায়তাও দেওয়া হবে।

এর আওতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জয়দেবপুর, দেবগ্রাম, ভুলতা হয়ে মদনপুর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি দুই পাশে সার্ভিস লেন তৈরি করা হবে।

৪৮ কিলোমিটারের এ এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে ঢাকার উত্তর-পূর্বের শিল্প এলাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংযোগ স্থাপন হবে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও যোগাযোগ সহজ হবে।

এডিবি সূত্র জানায়, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে মোট ২৫ বছরের জন্য কনসোর্টিয়ামটি গঠন করা হয়েছে। এ সড়কে যানবাহনের প্রকৃতি অনুযায়ী টোল আরোপ করা হবে।

এতে বাংলাদেশ সরকার ৩১০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। তা ছাড়া বিনিয়োগ উঠিয়ে নেওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ন্যূনতম রাজস্ব আদায়ের গ্যারান্টি দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত