সুশাসন ও দুর্নীতি রোধে মনোযোগ দেবে আ.লীগ

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:০১ এএম

নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছর সুশাসন নিশ্চিত করতে ও দুর্নীতি ঠেকাতে জোর দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা। নাগরিক সমাজ দেশে সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির বিস্তার রয়েছে বলে মাঝেমধ্যে যে অভিযোগ করে, তার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার এমন অবস্থানের কথা জানালেন তারা। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সুশাসন নিশ্চিত করে জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে চায়। তাই আগামী পাঁচ বছর উন্নয়নের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসনে মনোযোগ বাড়ানো হবে। দুর্নীতিরোধেও নতুন সরকারের থাকবে কঠোর অবস্থান। এ ক্ষেত্রে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সরকার পরিচালনায় নির্মোহ হতে পারেন শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এবার নতুনভাবে পথ চলবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এবার মনোযোগ থাকবে সুশাসনের দিকে। দুর্নীতিরোধেও অনমনীয় অবস্থান থাকবে তার। তিনি বলেন, এই পাঁচ বছরে শেখ হাসিনার লক্ষ্য জনগণের বাহবা অর্জন করা। এর মধ্য দিয়ে কাক্সিক্ষত সফলতা আসবেই মনে করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ইশতেহারেও সুশাসন ও দুর্নীতিরোধের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

ফারুক খান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে যেভাবে ভোটারদের দুয়ারে গিয়ে ভোট চেয়ে এসেছেন, এখন ভোটারদের দুয়ারে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসবেন সবাই। উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে কোনো সংসদ সদস্য যাতে নয়-ছয় না করে সে ব্যাপারেও শেখ হাসিনা সতর্ক করেছেন।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, সুশাসন ও দুর্নীতিরোধের পাশাপাশি দলকেও সুসংগঠিত করতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি। কারণ বিদায়ী মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের আধিক্য কম থাকায় সাংগঠনিক কাজ হয়নি বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তাই এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে সরকারের এবং দলের কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের যে চিত্র শেখ হাসিনা দেখেছেন, তাতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নেতারা যেভাবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তা দেখে শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, এতেই প্রমাণ হয় দলে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া ভোটের আগে করা একাধিক জরিপেও সংগঠনের করুণ দশা ফুঠে উঠেছে। তাই এবার দলের প্রতিও বিশেষ নজর দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সংসদীয় দলের সভায় সভাপতি শেখ হাসিনা সব সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা জনগণের কাছে যাবেন, জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন। শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে দেশের জনগণ, আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে। জনগণ যদি পাশে থাকে, কেউ আমাদের রুখতে পারবে না।’

সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনার শুধু আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই এলাকার সবার কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে আপনাদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাকে সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার বানাবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে সদা-সর্বদায় নিজেকে নিয়োজিত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতেই হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত