রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় দীননাথ সেন রোড এলাকায় দুই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর তিন তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির নাম আয়শা। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সকালে মামলার আসামি নাহিদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর আসামির শাস্তির দাবিতে দুপুর ২টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।
শিশুটির মামার অভিযোগ, শিশু আয়শাকে ধষর্ণ করে হত্যা করেছে বাড়ির মালিক নাহিদ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ মানতে নারাজ পুলিশ। তারা বলছে শিশুটিকে ধর্ষণেচেষ্টা করা হয়েছিল।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গাবতলা গ্রামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির নাম সুস্মিতা (৯)। গত রবিবার রাত ১১টার দিকে গ্রামের জয়দেব সরকার বাড়ির বাথরুম থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার জয়দেব ধর্ষণ ও হত্যা কথা স্বীকার করেছে। এর আগে রবিবার বিকেলে মাগুরা শালিখা উপজেলার দড়িখাটর গ্রামে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আশুলিয়ায় গণধর্ষণের শিকার পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নরসিংহপুর এলাকার নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রহিম নামে ওই নারী শ্রমিকের সহকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সাভার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বলিভদ্র বাজার এলাকায় মোহনা পরিবহনের দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ভেতর থেকে
এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বগুড়া শেরপুর থানার উত্তর শাহপাড়ার হোসেনের স্ত্রী। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবর : ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার অভিযোগ : রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানাধীন দীননাথ সেন রোডে দুই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর তিন তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটির মামা মো. আলী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আয়েশাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে ৫৩/১জ দীননাথ সেন রোডের চারতলা বাড়ির মালিক নাহিদ। নাহিদ ভবনের তিন তলায় থাকে। আয়েশা বিকেলে যখন খেলছিল, তখন তাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ফ্ল্যাট নিয়ে যায় নাহিদ। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে ফ্ল্যাটের খোলা বারান্দা থেকে আয়েশাকে নিচে ফেলে দেয় নাহিদ। এ সময় আয়েশার চিৎকার আশপাশের লোকজনও শোনে।
ধর্ষণের অভিযোগ মানতে নারাজ পুলিশ। তারা বলছে দুই বছরের এই শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। গেন্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, দুদিন আগে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। এই মামলার আসামি হিসেবে গত সোমবার সকালে মীর হাজিরবাগ এলাকা থেকে জান্নাতুল ওয়াহিদ নাহিদ (৪৫) নামে একজন বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন আসামিকে খোঁজা হচ্ছে।
মাহবুব আলম বলেন, আমরা ধারণা করছি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তিন তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েই এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে।
এলাকাবাসী ও শিশুটির স্বজনরা জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর দীননাথ সেন রোডে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিক, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খিচুড়ি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে ভবনের তিন তলায় ডেকে নিয়ে বাড়ির মালিক ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। এরপর তাকে তিন তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনার পর আয়েশাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আয়েশার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর গতকাল জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার শামসুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে আয়েশার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরার শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গাবতলা গ্রামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির নাম সুস্মিতা (৯)। পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলা গ্রামের প্রশান্ত দাসের শিশুকন্য সুস্মিতা প্রতিবেশী নির্মল সরকারের কলেজপড়–য়া মেয়ে অম্বিকা সরকারের কাছে প্রতিদিন বিকেলে প্রাইভেট পড়ত। গত রবিবার বিকেলে অম্বিকা বাড়িতে না থাকায় তার ভাই জয়দেব সুস্মিতাকে পড়ায়। তখন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটিকে সে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মারা গেছে ভেবে তাকে বাড়ির পুকুরে ফেলে দেয়। পরে পরিবার ও গ্রামবাসী সুস্মিতাকে খুঁজতে থাকলে জয়দেব পুকুর থেকে লাশ তুলে সুস্মিতাকে বাড়ির বাথরুমে ফেলে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে রাত ১১টার দিকে সুস্মিতার লাশ উদ্ধার করে জয়দেবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলে, সুস্মিতার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার জয়দেব সরকার ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মাগুরায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ : মাগুরার শালিখা উপজেলার দড়িখাটর গ্রামে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির মা জানান, তার মেয়ে রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি মাঠে খেলা করতে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বাড়িতে ফিরে না আসায় বাড়ির পাশের একটি খড়ের গাদার মধ্যে চিৎকার শোনা যায়। এ সময় অন্যদের নিয়ে দ্রুত সেখানে গেলে অভিযুক্ত ধর্ষক সাকিব (১৬) পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে শালিখা থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন শিশুটির বাবা।
মাগুরা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট শামছুন্নাহার লাইজু জানান, শিশুটির শরীরে কিছু ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টে বিস্তারিত জানা যাবে।
শালিখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারীকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আশুলিয়ায় গণধর্ষণের শিকার পোশাকশ্রমিক নারীর মৃত্যু : আশুলিয়ায় গণধর্ষণের শিকার এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি জামগড়া এলাকার ইয়াগি গার্মেন্ট নামক একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল ওই পোশাকশ্রমিক। এ সময় একই পোশাক কারখানার শ্রমিক রহিম তাকে ফুসলিয়ে একটি খালি জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর রহিমের সঙ্গী রিপন ও শিপন একাধিক নম্বর থেকে পরিবারকে ফোন দিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় পোশাক কারখানার লাইন চিফ রিপন ও ক্যানটিন মালিক শিপনসহ চারজন ওই পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণ করে। এরপর রাত ৩টার দিকে বাসার সামনে ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে গত রবিবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নরসিংহপুর এলাকার নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে ধর্ষণের শিকার নারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রহিম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
