বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল শুনানি হবে নতুন কোনো বেঞ্চে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ এ বিষয়ে শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ চট্টগ্রামে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়রা আদালতের বিচারক ছিলেন। তখন এ মামলায় কিছুদিন তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং মামলার কিছু বিষয়ে শুনানি নিয়ে তা নিষ্পত্তি করেছিলেন। হাইকোর্টে এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মনে করেছেন, যেহেতু তিনি আগে এই মামলার কিছু বিষয় শুনেছেন ও নিষ্পত্তি করেছেন; তাই এটি এই বেঞ্চে তার শোনা উচিত হবে না। এজন্য তিনি মামলাটি আজ (গতকাল) কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী মামলার নথিপত্র এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য তিনি সেখানে পাঠাবেন।’ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের ঘটনায় চোরাচালান ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়।
২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান এ মামলার রায় দেন। চোরাচালানের মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির মতিউর রহমান নিজামী (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহিমসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অস্ত্র আইনের মামলায় ১৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।
×
