বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরব যাওয়া ১৩ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি। গত সোমবার রাত ২টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ ইমাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৩ জন রোহিঙ্গাকে সৌদি আরব ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা হবে।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরব যায়। আবার কিছু ফেরতও আসে। অনেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে গিয়ে আশ্রয় পাওয়ার জন্য নিজেদের রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশ থেকে যান, তারা বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করে সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখা ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে যদি দেখা যায়, কোনো বাংলাদেশি যাওয়ার পর আশ্রয়ের জন্য রোহিঙ্গা পরিচয় দিচ্ছে, তাদের আমরা ফেরত নেব। কিন্তু কোনো রোহিঙ্গাকে আমরা ফেরত আনব না।’
লন্ডনভিত্তিক অনলাইন গণমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’র বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে সৌদিতে থাকা রোহিঙ্গাদের দেশটি ডিটেনশন সেন্টারে (আটককেন্দ্র) আটকে রেখেছে। সেখান থেকে আরও অনেককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ ছাড়াও অনেক রোহিঙ্গা ভুটান, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্টেও সৌদি আরবে গেছে।
কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলোতে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সৌদি আরবসহ নানা দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
