‘ওয়ান মোর স্টপ’ নয়, সত্যিকার অর্থেই ওয়ানস্টপ সার্ভিস (ওএসএস) সেন্টার চলতি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (বিডা)। ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসা প্রকল্প নিবন্ধন, ভিসা সুবিধা, অফিস নিবন্ধন, বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন, নামের ছাড়পত্র, কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ (টিআইএন) ১৫টি সেবা নিয়ে এ মাসেই চালু হচ্ছে ওএসএস কেন্দ্রটি। পর্যায়ক্রমে এর আওতায় আরও ১০০টি সেবা যোগ হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সহজে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিনিয়োগকারীদের কম সময়ে, অল্প খরচে সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন চেষ্টার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে কেন্দ্রটি। প্রাথমিকভাবে অফিসের নিবন্ধন, অফিসের নিবন্ধন সংক্রান্ত সংশোধন, অফিসের নিবন্ধন বাতিল, বিদেশিদের কাজের অনুমতি বাড়ানো, ভিসার সুপারিশ, সংশোধন, অনলাইন পে-মেন্ট প্রক্রিয়াকরণ নামের ছাড়পত্র সুবিধাও পাওয়া যাবে।
এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই যেন হয়রানির স্বীকার না হন, সে জন্য এ মাস থেকেই আমরা ওএসএস কেন্দ্র চালু করব। যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি), ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া, ভবন নির্মাণ অনুমোদন এ সার্ভিসের মধ্যে আছে। শুরুতে ১৫টি সেবা নিয়ে এ কেন্দ্র চালু করব। দিন দিন বাড়িয়ে সেবা সংখ্যা ১০০টিতে নিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘এতদিন ওয়ানস্টপের জায়গায় ওয়ান মোর স্টপ কাজ করেছে। ওয়ানস্টপ যাতে রিয়েলি ওয়ান মোর স্টপ না হয়, সে জন্য আমরা ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনের অধীনে এ সার্ভিসের সমাধান নিয়ে এসেছি।’
আমিনুল ইসলাম জানান, একজন বিনিয়োগকারী যেসব সেবা লাগবে, তার জন্য সে এই কেন্দ্রে একটা অনলাইনে আবেদন করবে। কোনো অফিস টাইমের দরকার হবে না। যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকেই তারা আবেদন করতে পারবেন। বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদনটি ততগুলো প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। বিনিয়োগকারী একটা বার্তা পাবেন যে তার আবেদনপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। তখন থেকেই ওই আবেদন নিয়ে কাজ শুরু হবে।
বিনিয়োগকারীর আবেদন কোথায় এবং কী অবস্থায় আছে, একটা ট্র্যাকিং নম্বর থেকে তারা জানতে পারবেন। আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান হলে তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই হবে। আর যদি প্রক্রিয়া চলতে থাকে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি সব সেবা পাবেন।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধে আমরা হাতে-কলমে কোনো কাজ রাখিনি। সবই অনলাইনে হবে। ওএসএস কেন্দ্র চালু হলে বিভিন্ন সেবার জন্য এক মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষার দিন শেষ হবে। এই কেন্দ্রে বিনিয়োগকারীরা সব সেবা একদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পাবেন।
রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে বিনিয়োগকারীÑ সবাই এ সেবা পাবেন।
চলতি মাসের শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে ওএসএস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা ছিল বিডার। নানা দপ্তরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লেগেছে জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, কর-সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন, কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য আরজেএসসিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন বিনিয়োগ নিবন্ধনের জন্য বিডা, ভিসা ও বিদেশিদের কাজ করার অনুমতির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের সুবিধা পেতে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই করা হয়েছে। এ কারণেই সেবা চালু করতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে।
ওএসএস কেন্দ্রের সফলতা সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া একক কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, পুরো সরকার এর সঙ্গে জড়িত। তাই সফলতা নির্ভর করবে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর ভূমিকার ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা এগিয়ে আসছে। তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ সেবা আরও প্রসারিত হবে।
