বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চালের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৫৯ এএম

নির্বাচন ঘিরে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা রাজধানীর চালের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি এখনো। একই সময়ে সরবরাহ ঘাটতির কারণে শাক-সবজির দাম বাড়লেও কয়েকদিনের ব্যবধানে তা কিছুটা কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি চাল দুই থেকে ছয় টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ানবাজার, মোহাম্মদপুর ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়, যা নির্বাচনের আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। সে হিসাবে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে বেড়েছে চার থেকে টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। অর্থাৎ নতুন বছরে মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ছয় টাকা। নির্বাচনের আগে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এ হিসাবে মোটা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে চার টাকা।

চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের চালের আড়তদার শহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চালের ঘাটতি নেই বাজারে। কিন্তু নির্বাচনের পরে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। বস্তাপ্রতি চাল ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এলাকাভেদেও দামের তারতম্য দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারে যে চাল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে মোহাম্মদপুর বাজারে সেই চাল ৬০ থেকে ৫২ টাকাদরে বিক্রি হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের স্বপ্নপুরী হাউজিংয়ের বাসিন্দা সাজ্জাদুর রহমান বলেন, গতকাল কারওয়ান বাজার থেকে তিনি পাঁচ কেজি চাল কিনেছেন ২৭০ টাকায়। সে হিসেবে কেজিপ্রতি চালের দাম পড়েছে ৫৪ টাকা। একই চালের দাম মোহাম্মদপুরের এক বিক্রেতা ৬৫ টাকা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা কী ধরনের হিসাব? বাজারভেদে এক থেকে দুই টাকার হেরফের থাকতেই পারে। তাই বলে এতটা! এসব আসলে ব্যবসায়ীদের কারসাজি।’

হাতিরপুল বাজারের ক্রেতা জামিলুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের বিপাকে পড়তে হয়। সরকারের কড়া নজরদারি ছাড়া তাদের দমানো যাবে না।’

এ সময়ে সবজির দাম বরাবরের মতোই ওঠানামার মধ্যেই ছিল। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বাজারে ফুলকপির দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতিটা ফুলকপি গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। এ সপ্তাহে সেখানে গুনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে শিমের কেজি। বাজারভেদে শিম ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল। গাজরের দাম ৩০ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে বেগুন কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে শসা।

প্রতি কেজি আদা ১৪০ টাকায় গত সপ্তাহে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৮০ টাকায় এবং পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে কমে দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রসুনের দাম গত সপ্তাহের মতোই (ভারতীয়) প্রতি কেজি ৮০ টাকায় ও দেশি রসুন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গত সপ্তাহের মতোই বাঁধাকপি ১০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি টমেটো। নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়, পুরাতনগুলো ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া দাম স্থিতিশীল থাকা সবজিগুলোর মধ্যে কেজিপ্রতি ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিটি বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি কলমিশাক, লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউশাক ২০ থেকে ২৫ টাকায়, পালংশাক,  পুঁইশাক ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

এছাড়া প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায়, মোটা মসুর ডাল ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, মুগডাল ১২০ টাকায়, খোলা ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ও বোতলজাত তেল ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে গতকাল।

অন্যদিকে বেশির ভাগ মাছের দাম বেড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। এদিকে বাজারে প্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি জোড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে কিছু কিছু মাছের দাম বেড়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি টেংরা গত সপ্তাহে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৪৫০ থেকে ৫০০, শিং ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। গলদা চিংড়ি ৬০০ টাকা, চাষের হরিণা ও বাগদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়, যা সপ্তাহখানেক আগে ১০০ টাকা পর্যন্ত কম ছিল। তবে মাংসের বাজারে বাড়তি দাম লক্ষ করা গেছে। গতকাল বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, লেয়ার ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজিদওে বিক্রি হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত