মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাজা বহাল

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:০৩ এএম

আপিলেও সাজা বহাল থাকল রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য অনুসন্ধান করা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের। গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের হাইকোর্ট এক রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখে। আসামিপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। গণমাধ্যমকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও নিপীড়নের তথ্য জোগাড় করছিলেন রয়টার্সের দুই ওয়া লোন (৩২) ও কিয়ো সোয়ে ও (২৮)। এ কারণে রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের অভিযোগ তুলে তাদের আটক করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয় দেশটির নিম্ন আদালত। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মধ্যেই ওই রায় দেয় আদালত। শুক্রবার সাজা বহাল রাখার আদেশ দেন মিয়ানমারের হাইকোর্টের বিচারপতি অং নাইং। তিনি বলেন, ‘এটাই তাদের সঠিক শাস্তি।’ আসামিপক্ষ তাদের নির্দোষ প্রমাণে যথেষ্ট তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, শুনানিতে তারা তুলে ধরেছেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে প্রমাণ হয় না ওই সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুরাষ্ট্রের কাছে তা পাচার করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী থান জ অং বলেন, ‘আমরা এই রায়ে হতাশ।’ রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও জানান তিনি। রায়ের সময় ইয়াঙ্গুনের ওই আদালতের বাইরে অবস্থান করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান শিমিত বলেন, ‘এই রায় মিয়ানমারের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল।’

হাইকোর্টের এই রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও। এক বিবৃতিতে রয়টার্সের এডিটর-ইন-চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, ‘আজকের (শুক্রবার) এই রায়ের মাধ্যমে লোন ও সোয়ের বিরুদ্ধে আরেকবার অবিচার করা হলো। এর কারণ একটাই, (মিয়ানমারের) ক্ষমতাসীনদের চাপের মুখে সত্য জেনেও চুপ থাকছেন তারা (বিচারক)।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতা অপরাধ নয়, মিয়ানমার এই অধিকার খর্ব করছে। মিয়ানমারে গণমাধ্যম স্বাধীন নয়। আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের ব্যাপারে দেশটির করা অঙ্গীকার নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ গ্রেপ্তারের আগে দুই সাংবাদিক রাখাইনে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী ও উগ্রপন্থি বৌদ্ধদের হাতে ১০ রোহিঙ্গা মুসলিম নিহতের তথ্য অনুসন্ধান করছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিশদ তথ্য-প্রমাণসহ এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স।

রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে শুরু করা সামরিক বাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোাহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, গণধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাটসহ নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী। জাতিসংঘ এটিকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত