ক্যাবের প্রতিবেদন

নির্বাচনী বছরে রাজধানীতে বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:১৫ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর ২০১৮ সালে রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ ২০১৭ সালে কারও ব্যয় ১০০ টাকা হলে পরের বছরে তাকে খরচ করতে হয়েছে ১০৬ টাকা। এ সময়ে পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। ফলে গত বছর যাদের আয় বাড়েনি, তাদের বাড়তি খরচ মেটাতে চাহিদা কমাতে হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) গতকাল বছর শেষে দ্রব্যমূল্যের বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তুলে ধরে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ব্যয় অনুপাতে ব্যক্তির আয় না বাড়লে তা স্বস্তিদায়ক হবে না। তাই আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ঢাকার ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা-সার্ভিসের মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবামূল্য বিশ্লেষণ করে তারা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। তবে ব্যক্তির শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়টি এ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ৮ শতাংশের নির্বাচনী বছরে রাজধানীতে বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি এবং পণ্য ও সেবামূল্য বাড়ে ৭ শতাংশের বেশি। সে অনুযায়ী ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পণ্য ও সেবামূল্য কম হারে বেড়েছে। এই সময়ে প্রধানতম ভোগ্যপণ্য চালের দর বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। বছর শেষে গত ডিসেম্বরে দর কমে এলেও পুরো বছরজুড়ে দর ছিল আগের বছরের চেয়ে বেশি। এই এক বছরে বিভিন্ন ধরনের সাবানের দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি (গড়ে ২০ শতাংশ)।

অন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে মাছ, শাকসবজি, ডিম, পান-সুপারি, তরল দুধ, নারকেল তেল ও চা পাতার দাম বেড়েছে। দেশি-বিদেশি কাপড়, শাড়ি, গেঞ্জি, তোয়ালের দরও বেড়েছে। দুই কক্ষের বাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে গত বছর যাদের আয় বাড়েনি, নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য ও সেবার পেছনে বাড়তি খরচ করতে গিয়ে অন্য কোনো না কোনো পণ্য ও সেবা ক্রয় কমাতে হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্যাব সভাপতি বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার নামে আমদানি পণ্যে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় অতিরিক্ত শুল্কারোপের কারণে ব্যক্তির ব্যয় বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা শুল্ক দিতে হয়েছে আমদানি পণ্যে, যা চূড়ান্তভাবে ভোক্তাকেই বহন করতে হয়েছে।

গোলাম রহমান বলেন, ‘বেশ কিছু পণ্যের দাম ২০১৭ সালের তুলনায় পরের বছর কমেছেও। এ তালিকায় থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাল, মসলা, চিনি, রসুন, কাঁচামরিচ ও কিছু সবজি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে দেশি মসুর ডালের দর। আমদানি করা মসুর ডালের দর কমেছে শতকরা ১০ টাকা। এ ছাড়া দেশি রসুনে ২০ শতাংশ ও আমদানি করা রসুনের দর কমেছে ৩২ শতাংশের বেশি। সবজির মধ্যে দর কমার তালিকায় লালশাক, পটোল, ঝিঙে ও ঢেঁড়স রয়েছে।’

জনসংখ্যার বড় অংশ গ্রামে থাকলেও নিজেদের সামর্থ্যরে অভাবে তাদের জীবনযাত্রার চিত্র তুলে আনা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন ক্যাব সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এটি রাজধানীর একটি খণ্ডচিত্র। এই এক বছরে ভোজ্যতেল, গুঁড়ো দুধ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও রেলের ভাড়া ছিল অপরিবর্তিত।’

সরকারি সংস্থাগুলো ভাড়া না বাড়ালেও বেসরকারি বাস মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বন্ধে ঢাকায় বাস চলাচলের ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজ প্রথা প্রবর্তন, র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্পসহ যোগাযোগ খাতের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে বেশ কিছু সুপারিশ করে ক্যাব কৃষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ করা, শস্যবিমা চালু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে শুল্ক কমানোর মাধ্যমে দর সহনীয় রাখতে হবে।

ওই সময় ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম ও ক্যাবের অনলাইন পোর্টাল ভোক্তাকণ্ঠ ডটকমের সম্পাদক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত