অবৈধ ট্রলি-টেম্পোর কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৭ এএম

ঝালকাঠিতে অবৈধ ট্রলি ও টেম্পো আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনা। অবৈধ এসব থ্রি-হুইলারের চলাচলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নেই প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। লাইসেন্স ও রুট পারমিট না থাকায় নম্বরবিহীন এসব অবৈধ ট্রলি ও টেম্পো কোনো ট্রাফিক সিগন্যালের তোয়াক্কা করছে না। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

মহাসড়কে অবৈধ মালবাহী ট্রলি ও টেম্পোর দৌরাত্ম্যে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আতঙ্ক বাড়ছে। এসব থ্রি-হুইলারে দুর্ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে এসব ট্রলি, টেম্পো ও এর চালককে আটক করা হলে কঠোর নজরদারির অভাবে আবার সেগুলো রাস্তা দাপিয়ে চলে। ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক ও অবৈধ এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, পরিবহন ব্যবসায় জড়িত কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এসব অবৈধ যানবাহন রাস্তা ছাড়ছে না।

কিছুদিন আগে বাউকাঠিতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিঠুর ভাই আবদুস ছালাম ট্রলিচাপায় নিহত হন। এরপর স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে কিছুদিন এসব ট্রলি, টেম্পো চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আগের মতোই চলছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলার বিকনা এলাকায় মল্লিক বাড়ির সামনের সড়কে টেম্পোর ধাক্কায় স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান, উদ্বোধন বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কানিজ ফাতিমা ও তার মা শিউলী বেগম গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মিজান ও কানিজ ফাতিমা সুস্থ হলেও গুরুতর আহত শিউলী বেগম এখনো ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর গত ১ জানুয়ারি আহত সাংবাদিক মিজান টেম্পোর মালিক শাহজাহান মুনশি ও এর চালক কিশোর সাইদুল হাওলাদারকে (১২) আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ টেম্পোটি আটক করে।

বেপরোয়া গতির এসব থ্রি-হুইলারের চালকদের বেশির ভাগই কিশোর ও তরুণ। অভিযোগ আছে, এসব যানচলাচল কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ হলেও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিতে জড়িত স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য মিলে সিন্ডিকেট গঠন করে ‘মাসোহারা ও হপ্তা বিট’ নিয়ে সড়ক ও মহাসড়কে এসব থ্রি-হুইলার চলাচলে সহায়তা করছেন। ঝালকাঠি সদর থানার ও সি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ‘আমরাও চাই এসব অবৈধ থ্রি-হুইলার বন্ধ হোক।’ শুধু পুলিশ না এ ব্যাপারে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্র্তৃপক্ষকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত