আধুনিক সৌদি চিত্রশিল্পের পথিকৃৎ মুনিরা মাসালি

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৪ পিএম

সৌদি সৃজনশীলতার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বিবেচনা করা হয় মুনিরা মাসালিকে। প্রয়াত এ আধুনিক চিত্রশিল্পীর সম্মানে একটি আর্ট গ্যালারির নামকরণ হবে। এ ঘোষণা দিলেন দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহান।

আরব নিউজ জানায়, ৬৪ বছর বয়সী এ পথিকৃৎ চিত্রশিল্পী মারা যান শুক্রবার। তিনি অনেক দিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। সৌদি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের টুইটে জানানো হয়, মুনিরা দেশটির সংস্কৃতি ও মানবিকতায় ভূমিকা রেখেছেন।

মিকস আর্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. আহমেদ মাতের ছিলেন মুনিরার ঘনিষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘আমার দেখা অন্যতম সাহসী শিল্পী তিনি। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল।’

নারী পরিচয়কে শিল্পীসত্তার জন্য মুনিরার কাছে প্রতিবন্ধকতা হয়ে ওঠেনি বলেও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মাতের।

তার ভাষ্যে, মুনিরা ছিলেন পথিকৃৎ শিল্পী। নিজের সময়ের সাহসী আধুনিক শিল্পী। তার সংকটগুলোই তার কাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে কিন্তু তার শিল্পী কর্ম ছিল অনুকরণীয়।

আরও বলেন, ‘নিজের সময় থেকে এগিয়ে থাকা এক আধুনিক শিল্পী ও সৌদি নারীদের চিত্রশিল্পে তিনি পথ প্রদর্শক।’

বেদুইনদের শিল্প নিয়ে কাজ করা ডেজার্ট ডিজাইন নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক রনিন বুখারি জানান, এ শিল্পেও মুনিরার ভূমিকা রয়েছে। তার প্রাজ্ঞ মতামত তাদের সাহায্য করেছে।

আরও জানান, সৌদি ও আরবিয় ঐতিহ্যের মাঝে সমন্বয়ে মুনিরার আগ্রহ ছিল বরাবরই। এ নিয়ে তারা চমৎকার কিছু কাজ করেছেন। মুনিরা যা-ই করে দেখিয়েছেন তাতেই ছিলেন অগ্রগণ্য। শুধু তাই নয়, একজন নারী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে তিনি কখনো কুণ্ঠিত ছিলেন না।

সৌদি শিল্প আন্দোলনে মুনিরা মাসালির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে তিনি ডজনখানেক প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। যার শুরু ১৯৬৮ সালে জেদ্দার স্কুল অব মডার্ন এডুকেশনে।

ওই অঞ্চলের নামী চিত্রশিল্পী ইউসুফ আহমেদ ও আহমেদ বাহরানির সঙ্গে প্রদর্শনী করেছেন মুনিরা। ২০০৭ সালে আলখোবারে একটি শিল্প প্রদর্শনীর প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি সৌদি আরব, বাহরাইন, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জীবদ্দশায় ডজনখানেক পুরস্কার লাভ করেন। মৃত্যুর আগে নতুন একটি প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মুনিরা মুসালি ১৯৫৪ সালে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। কায়রোতে চারুকলার ওপর পড়াশোনা করেন। ১৯৭৯ সালে ডিপ্লোমা করেন যুক্তরাষ্ট্রে। পুরোপুরি শিল্প সাধনায় যাওয়ার আগে তিনি কিছুদিন রাষ্ট্রীয় জ্বালানী কোম্পানির প্রকাশনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত