ভোলার চরফ্যাশনে রুবেল (১৪) নামের কিশোরকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ ও উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। ওই নির্যাতনের ঘটনা অনুসন্ধান করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
চরফ্যাশনে কিশোর রুবেল নির্যাতনের ঘটনায় একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন গতকাল সোমবার আদালতের নজরে আনা হয়। পরে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে আদেশ দেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১৫ নভেম্বর চরফ্যাশনে মুরগি চুরির অভিযোগ এনে কিশোর রুবেলকে অমানবিক নির্যাতন করেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। নির্যাতনের ওই দৃশ্য ফেইসবুকে ভাইরাল হলে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আজ (গতকাল) আদালতের নজরে আনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও সামাজিক আচরণের বিষয়ে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা এভাবে কিশোর নির্যাতন দুঃখজনক। এতে করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হয়।’
আদালত বলেছেন, ওই ঘটনার মূলে কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ডিসি ও ওসি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। ওই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে দাখিল করবেন।
আইনজীবী জানান, গত ১৫ নভেম্বর ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মুরগি চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ ও আরও কয়েকজন মিলে রুবেল নামের এক কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন করেন। ওই নির্যাতনকারীদের ভয়ে কিশোরের পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। ঘটনাটি ফেইসবুকে ভাইরাল হলে গত ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ওই কিশোরের মাকে ডেকে নেয়। পরে হাজারীগঞ্জ ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
